• বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

কুষ্টিয়াতে শিল্পীদের পাশে শুভসংঘ

Reporter Name / ২৩ Time View
Update : সোমবার, ২২ মার্চ, ২০২১

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি 

শিল্পীদের পাশে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ। এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ কুষ্টিয়ার উদ্যোগে দুই শিল্পীকে গীতবিতান ও স্বরবিতান প্রদান করা হয়। আজ সোমবার বিকেলে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ কুষ্টিয়ার অস্থায়ী কার্যালয়ে কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন প্রদত্ত বইগুলো শুভসংঘের শিল্পী সরকার ও শিলাইদহ কুঠিবাড়ীর বকুলতলার শিল্পী ওলিদুল ইসলামের হাতে তুলে দেওয়া হয়।  কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক তারিকুল হক তারিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. সরওয়ার মুর্শেদ ও জাতীয় রবীন্দ্র সম্মিলন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী অশোক সাহা তাদের হাতে এই বই তুলে দেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. সরওয়ার মুর্শেদ বলেন, জীবন উন্মোচিত হতে চায়, বিকশিত হতে চায়। জীবনকে অন্যদের থেকে আলাদাভাবে ছড়াতে চাও, বিকাশ ঘটাতে চাও, এই কালের কণ্ঠ শুভসংঘের মাধ্যমে সেই সুযোগ আছে। তিনি আরো বলেন, একটা গাছ, নদী বা পাহাড়কে শিল্প বলে না। আবার নদী, পাহাড় কিংবা গাছকে নিয়ে ছবি আঁকলে সেটি শিল্প হয়। তাই প্রাকৃতিক হলো সেগুলো। আর মনের মাধুরি মিশিয়ে যা সৃষ্টি হয় তাই হলো শিল্প। সৃষ্টি ধর্মী এবং সৃজনশীলতারই নামই শিল্প। সঙ্গীত কিন্তু গুরুমুখী বিদ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্পসিদ্ধি লাভ করতে হলে সাধনার কোনো বিকল্প নেই। সেই সাধনার পথ যদি সুন্দর এবং সত্যিকার অর্থে ভালো করতে হয় তাহলে সাধনা অবশ্যই করতে হবে। যারা শিল্প সাধনা করবে তারা যেন সত্যিকারের সাধনা করবে। কোনো ফাঁকি থাকবে না। সুরের লয় কি হবে এজন্য ভালো ওস্তাদ দরকার হবে। বইতে গান লেখা থাকলেও সুর তাল লয় নিয়ে একজন শিল্পীকে অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারে। যারা রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়িতে আসে। তাদের মধ্যে অনেক বোদ্ধারা আসে। সেখানে যদি রবীন্দ্র সঙ্গীত ভুল গাওয়া হয় তাহলে তারা আহত হবে ব্যাথিত হবে। তাই শিল্পী ওলিদুলকে আরো ভালো গাইতেও পরামর্শ দেন তিনি। কালের কণ্ঠ সম্পাদককে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি কুষ্টিয়াকে আলোড়িত করে গেছেন এবং তিনিও মুগ্ধ হয়ে গেছেন। তাই তার ভালোলাগা ভালোবাসায় তাড়িত হয়ে এই বইগুলো উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন। আজকের এই অনুষ্ঠানে যে দুজন বই পেলে কিন্তু এখানেই দায়িত্ব শেষ হয়ে গেলো না। জাতীয় রবীন্দ্র সম্মিলন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী অশোক সাহা বলেন, ভালোলাগার একটা অনুষ্ঠান, আজকের এই বই বিতরণ। তোমাদের আগ্রহ যে কবিগুরুর আড়াই হাজার লেখা গানের একটি খণ্ড এবং বিশ্বভারতী থেকে মুদ্রিত স্বরলিপি লেখা আছে। তিনি বলেন, বইয়ের বিষয়টি মুখ্য নয়। এই বই থেকে সঠিক পদ্ধতিতে গান গাওয়ার যে প্রয়াস এটি সত্যি আমাকে মুগ্ধ করেছে। এই বই থেকে কি কি অর্জন করেছো, এবং পদ্ধতিগতভাবে কি অর্জন করেছো তা আমি পরখ করবো। যদি ভালো কিছু করতে পারো তাহলে আজকের এই বই বিতরণ স্বার্থক হবে। রবীন্দ্রনাথের গান যেখন তোমরা সঠিকভাবে করতে পারো তবেই মঙ্গল। ভুল কোনো গান পরিবেশন মোটেও ঠিক নয়। রবীন্দ্রনাথের গানের চর্চায় থাকার আহ্বান জানান তিনি।  এ সময় কালের কণ্ঠ শুভসংঘ কুষ্টিয়ার প্রচার সম্পাদক এসএম জামাল, সদস্য শিল্পী সরকার, সুমাইয়া, মাহবুবুল ইসলাম ছোটন, সুমাইয়া খাতুন, কাকলী খাতুন, পরমা সরকার উপস্থিত ছিলেন।  অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে শিল্পী সরকার বলেন, আমি যখন ছোটবেলায় ক্ষুধা লাগলে খাওয়ার থেকে গান শুনলে নাকি কান্না থামতো। রেডিওতে ঠাকুমা গান শোনাতেন। পরে আমার শিল্পী হয়ে ওঠা। প্রিয় মানুষ ইমদাদুল হক মিলন স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন তিনি। শিল্পী ওলিদুল ইসলাম বলেন, আমার যখন জন্ম তখন বাবার দৃষ্টি শক্তি চলে যায়। ছোটবেলা থেকে বাবার সাথে বকুলতলায় গান শুনতাম। এক সময় রবীন্দ্র এবং নজরুলের গান আমাকে টানতো। অনেক ভালো লাগতো। রবীন্দ্রনাথের গান আসলে ভুল করে গাওয়ার সুযোগ নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ছবি ও নিউজ কপি করা নাজমুলের নিসেদ