বদলগাছীতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে আজিজুল হক


admin প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৫, ২০২০, ১:৩৩ অপরাহ্ন /
বদলগাছীতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে আজিজুল হক

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় অমুক্তিযোদ্ধা-মুক্তিযোদ্ধা হলেও বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের হলুদ বিহার গ্রামের প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আজিজুল হক মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে ফাইল হাতে নিয়ে দ্বারে দ্বারা ঘুরছেন বলে তাঁর ভাষ্যে জানা গেছে। বিগত ২০১৭ সালে বর্তমান খাদ্য মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র মজুমদারের উপস্থিতিতে বদলগাছীতে আবেদনকারী ৫২৩ জনের তালিকার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই করে যে ৮৫ জন এর নামের তালিকা চুরান্তভাবে প্রস্তুত করা হয়।

 

সেই তালিকায় পাঁচ শত নম্বর ক্রমিকে মোঃ আজিজুল হক,পিতা মৃত আব্দুল করিম গ্রামঃ হলুদবিহার পোঃ দ্বীপগঞ্জহাট, উপজেলা বদলগাছী, জেলা নওগাঁ লিপিবদ্ধকরা হয়েছিল। এসময় বদলগাছী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জবির উদ্দিন। গত ২৬/০২/২০২০ ইং ও ২৭/০২/২০২০ ইং তারিখে বদলগাছী উপজেলার অন্তভুক্ত পুর্বের ৮৫ জন মুক্তিযোদ্ধার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকালীন সময়ের যাবতীয় কাগজপত্র বদলগাছী উপজেলা পরিষদ হলরুমে পুনঃ যাচাই বাছাই কালীন সময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর পক্ষ্যে যাবতীয় কাগজ পত্র উপস্থাপন করেন এবং তার যুদ্ধকালীন কমান্ডার মোঃ মুনছুর আলী সহ অন্যান্য সহযোদ্ধাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।

 

এরপর ৮৫ জনের প্রস্ততকৃত তালিকা থেকে বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আজিজুল হকের নাম রহস্য জনকভাবে বাদ দেওয়া হয় মর্মে দুই তালিকা সুত্রে ও তাঁর ভাষ্যে যানা যায়। মোঃ অজিজুল হক ১৯৭১ সালে ভারতের শিলিগুরির পানিঘাটায় প্রশিক্ষন নিয়ে তার যুদ্ধকালীন কমান্ডার মোঃ মুনছুর আলীর কমান্ডে বদলগাছী কোল ইউনিয়নের ভান্ডাপুর-কোলাসড়কের জামতলা বা কামার পাড়া নামক ১০/১১/১৯৭১ এবং বদলগাছী থানা আক্রমন, বালুপাড়া নামক স্থানে ও ১৪/১২/১৯৭১ সালে নওগাঁ সদরে পাকবাহিনীর সঙ্গে সন্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। এখানে উল্লেখ্য কামারপাড়া যুদ্ধে রানীনগরের তিন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন, শহীদদের কোলা ইউনিয়য়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম রব্বানী মুকুলের পারিবারিক কবর স্থানে সমাধিত করা হয়। এছাড়াও ঐ যুদ্ধে মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা কফিল উদ্দিন (মেলেটারী) গুলি বিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছিল।

 

অপর দিকে বালুপাড়া যুদ্ধে হলুদ বিহার গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে বীরমুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমানের গুলি শেষ হওয়া জনিত কারনে সে পাকবাহিনীর হাতে ধরা পরে। তাকে পাকনাহিনী ও কোলা ইউপির পালশা গ্রামের (গলপাড়া) রাজাকার হাকিম আক্কেলপুর সিনিয়র মাদ্রাসায় অবস্থিত পাক সেনা ক্যাস্পে নিয়ে গিয়ে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করে।বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হকের এফ,এফ নং ৪২৫৪ (ভারতীয়)। স্বাধীতার পর তৎকালীন এসডিওথ র নিকট বীর মুক্তিযোদ্ধাআজিজুল হক অস্ত্র জমা দেন। এছাড়াও স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী নওগাঁর কৃতি সন্তান কৃষক- শ্রমিক মেহনতী জনতার নেতা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল থাকা জেল জুলুম ও নির্যাতন ভোগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল জলিল বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হককে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ইংরাজিতে লিখিত সনদ প্রদান করেন।

 

যা যাচাই বাছাই কালীন সময়ে যাচাই বাছাই কমিটির নিকট উপস্থাপন করেন বলেও বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক বলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা অজিজুল হক কান্না জরিত কন্ঠে আরো জানান শয্যাগত স্ত্রীকে বাড়ীতে রেখে তঁার নাম গেজেটভুক্ত করার জন্য সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জবির উদ্দিন, বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসক নওগাঁর দ্বারে দ্বারে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের স্বপক্ষ্যে তাঁর প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের ফাইল নিয়ে ঘুরছেন। এছাড়াও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন অনেক অমুক্তিযোদ্ধা-মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বীর দর্পে ঘুরছে। যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির একটা অংশ বলেও তিনি বলেন। বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টিতে আনার জন্য কামনা করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক।