• রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ১১:৪৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

ভয়াল ২৯ এপ্রিল আজ

Reporter Name / ২১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে মহাপ্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ‘হারিকেন’ আঘাত হানার ৩০ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে এই ঘূর্ণিঝড় ও ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস কেড়ে নেয় উপকূলের লাখো মানুষের প্রাণ। তাদের মধ্যে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায়ই অন্তত ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে প্রাণ যায় লাখ লাখ গবাদি পশুর। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ উপকূলীয় এলাকা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিণত হয় বিরানভূমিতে।২৯ এপ্রিল রাতের সেই বিভীষিকা স্মরণ করে আজও শিউরে ওঠে উপকূলের মানুষ। স্বজন হারানোর বেদনায় তাড়িত হয় তারা। দিনটি স্মরণে উপকূলের বিভিন্ন সংগঠন স্মরণসভাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কর্মসূচি পালন করে আসছে।চকরিয়া উপজেলার বদরখালীর কুতুবদিয়া পাড়ার সত্তরোর্ধ্ব সিরাজুল ইসলাম সেদিনের স্মৃতিচারণা করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই দিন সকালবেলায়ও যাঁরা টাকা-সম্পদে ধনী ছিলেন, তাঁরাই রাতের মধ্যে ফকির হয়ে যান। জলোচ্ছ্বাসের পর উপকূলবাসীর গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ আর গোলা ভরা ধান কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। তখন ৮০ ভাগ মানুষই জীবন বাঁচানোর তাগিদে সরকারি-বেসরকারি ত্রাণনির্ভর হয়ে পড়ে।’ভয়াল প্রাকৃতিক দুর্যোগের ৩০ বছরেও উপকূলীয় মানুষের জানমালের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করা চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ টেকসই করা যায়নি। মাঝেমধ্যে বেড়িবাঁধ সংস্কারের নামে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও তা প্রতিবছরই জোয়ারের পানিতে বিলীন হয়ে যায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পরদিন চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় এলাকাজুড়ে ছিল মানুষ ও গবাদি পশুর লাশ আর লাশ। পরবর্তী ১৫ দিন ধরে এসব মরদেহ উদ্ধার করে গণকবর দেওয়া হয়। ৩০ বছরের ব্যবধানে উপকূলীয় এলাকার এসব গণকবরের অস্তিত্বও বিলীন হয়ে গেছে। এরপর বিভিন্ন সময় দেশি-বিদেশি অর্থায়নে শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র নির্মিত হয়। কিন্তু দেখভালের অভাবে সেগুলো অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নতুন করে আর কোনো আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়নি। ফলে চকরিয়া-পেকুয়ার পাঁচ লাখ মানুষ এখনো বসবাস করছে চরম ঝুঁকিতে।
পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এই উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে মগনামা, রাজাখালী ও উজানটিয়া। এর মধ্যে একেবারে সাগরগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে মগনামার কিছু অংশ।’কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, উপকূলের মানুষকে রক্ষায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য কাজ চলমান। আর মগনামা ইউনিয়নের বিশাল এলাকা আগে অরক্ষিত থাকলেও সেখানে দেশের প্রথম বানৌজা শেখ হাসিনা সাবমেরিন নৌঘাঁটি স্থাপন হওয়ায় টেকসইভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বেড়িবাঁধ। ২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যান অনুযায়ী উপকূল রক্ষায় অনেক উঁচু করে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজও শুরু হবে।পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, কক্সবাজারের উপকূলজুড়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান। আগে বরাদ্দপ্রাপ্তি নিয়ে যেসব সমস্যা দেখা দিত বর্তমানে সেই অবস্থা নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ছবি ও নিউজ কপি করা নাজমুলের নিসেদ