• শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
উখিয়ায় বিজিবি’র অভিযান : সাড়ে ৪ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক ফোরাম (BNJF)এর প্রস্তুতি সভা ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবারের ১৩ শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত প্রয়াত কৃষকলীগ নেতা সরকার আলাউদ্দীনের করব জিয়ারত করলেন সাহেদুল ইসলাম আ.লীগ নেতা শরিফ ও গাড়ি চালক এরশাদুলকে দেখতে ছুটে যান রাসিক মেয়র রাজশাহীতে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে ডিবির অভিযানে গাঁজাসহ আটক ১ রাবির ১ম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে রাসিক মেয়র উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা রাজশাহীতে মাছচাষী হত্যায় চারজন গ্রেপ্তার রাজশাহীতে ডিবি’র অভিযানে ৯ জুয়াড়ি আটক

রাজশাহীতে টমেটোয় লাভের মুখ দেখছেন কৃষক

Reporter Name / ১৯ Time View
Update : শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার মোঃ পাভেল ইসলাম

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় শীতকালীন টমেটো উৎপাদন হয় সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। প্রায় দুই দশক ধরে এই উপজেলায় টমেটো চাষ হচ্ছে। প্রতি মৌসুমেই বিপুল পরিমাণ টমেটো উৎপন্ন হয় এখানে। গতবারের মতো কৃষকরা টমেটোতে এবারও লাভের মুখ দেখছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, গোদাগাড়ীর কয়েক হাজার চাষি কেবল টমেটো চাষ করেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। চলতি মৌসুমে টমেটোর আশানুরূপ ফলন হওয়ায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় ক্ষেতের কাঁচাপাকা অর্থাৎ লাল-সবুজ টমেটো হাসি ফুটিয়েছে কৃষকের মুখে। রাসায়নিক সার ছাড়াই উৎপাদিত টমেটো স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, প্রায় দুই যুগ ধরে গোদাগাড়ীর টমেটো অবদান রাখছে জাতীয় অর্থনীতিতে। রাজশাহীতে শীত মৌসুমে টমেটো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ থাকে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে।

 

এর মধ্যে কেবল গোদাগাড়ী উপজেলাতেই ২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়। যেখান থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৫ টন টমেটো উৎপাদন হয়। ফলে আমের পর টমেটো এই অঞ্চলে কৃষিবিপ্লব ঘটিয়েছে। গত মৌসুমে এ উপজেলায় ২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছিল। তবে চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। এখান থেকে অন্তত দেড়শ কোটি টাকার টমেটো কেনাবেচা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গতবছর বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা এবারও টমেটো চাষে আগ্রহী হয়েছেন। ফলে চলতি মৌসুমে আবাদ বেড়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, এ অঞ্চলের টমেটো দেশের চাহিদা মেটার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। টমেটো চাষ করে এ অঞ্চলের কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক বছর আগেও উন্নত বীজ ও ন্যায্য দাম না পেয়ে টমেটো চাষে কৃষকদের লোকসান গুনতে হয়েছে।

 

ফলে চাষিরা টমেটো চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে গত মেসুমে আশানুরূপ দাম পাওয়ায় কৃষকরা আবারও তাদের জমিতে টমেটো চাষে ঝুঁকছেন। টমেটো চাষে কৃষি বিভাগের আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, নজরদারি ও বাজারে উন্নত বীজ পাওয়ায় এখন টমেটোর ফলন ভালো হচ্ছে। তবে কয়েক বছরের তুলনায় সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচের দাম বাড়ায় টমেটো চাষের খরচও বেড়েছে। আগে এক বিঘায় টমেটো চাষের খরচ ছিল ১২ হাজার টাকা। এখন ১৮ বা ২০ হাজারের কমে হয় না। তবে লাভ থাকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। ক্ষেত থেকে টমেটো তোলা যায় আট বার। প্রথম দফায় প্রতি মণ টমেটো বিক্রি হয় এক হাজার ৬০০ টাকা থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়। পরের তিন দফায় দাম কমে দাঁড়ায় এক হাজারের নিচে। চলতি বছর বিপুল প্লাস, বিপুল, বিগল, হাইটমসহ উচ্চ ফলনশীল উন্নত জাতের টমেটো চাষ করে ফলন ভালে হয়েছে।

 

বাজারের চাহিদা রয়েছে, দামও পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও ‘আলোর ফাঁদ’ ব্যবহার করে পোকা দমন করা হয়েছে। আমরা ভালো দাম পেয়ে খুশি। জয় দাস নামে আরেক চাষি জানান, টমেটো পাকার সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিকের ক্যারেটজাত করে বাজারে নিয়ে আসতে হয়। কাঁচামাল তাই ঘরে রাখা যায় না। আবার মাঠেও ফেলে রাখা যায় না। ফলে ব্যবসায়ীদের কাছে চাষিরা অনেকটাই জিম্মি। টমেটো সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে হিমাগারের ব্যবস্থা করলে স্থানীয় চাষিরা তাদের ফসলের আরও ভালো দাম পাবেন। গোদাগাড়ীতে টমেটো কিনতে যাওয়া ঢাকার ব্যবসায়ী বশির সরকার জানান, এক সপ্তাহ আগে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা মণ ধরে টমেটো কিনছেন। এখন মণপ্রতি আরও ২০০ টাকা করে কমেছে।

 

কিন্তু কৃষকরা ১ হাজার টাকা মণ দাম পেলেও ভাল লাভ করবেন। ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন, টমেটো কেনার পর কয়েক ধাপে বাছাই করতে হয়। বিশেষ করে পোকায় খাওয়া খারাপ টমেটোগুলো ফেলে দিতে হয়। এরপর দাগ হয়ে যাওয়া টমেটোগুলোও বাছাই করতে হয়। এছাড়াও স্প্রেসহ অন্য খরচ মিলে মণপ্রতি অন্তত ১৫০ টাকা খরচ হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, ভালো লাভের আশায় কৃষকরা এখন টমেটো চাষ বেশি করছে। কৃষি বিভাগ থেকে আমরা বীজের মান নিয়ে বেশি গুরুত্ব দেই, যাতে কেউ নিম্নমানের টমেটো বীজ নিয়ে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন। ফলন ভাল হচ্ছে। আশা করছি কৃষকরা ভালো দাম পাবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ছবি ও নিউজ কপি করা নাজমুলের নিসেদ