• সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৩:২৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম

নীলফামারীর ডিমলায় ত্রানের সরকারী জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ

নীলফামারী প্রতিনিধি / ৭০ Time View
Update : সোমবার, ৮ নভেম্বর, ২০২১

নীলফামারীর ডিমলায় ত্রানের সরকারী জমিতে বহুতল ভবন তৈরি করছে এক চোরাকারবারী ব্যক্তি। জানাগেছে, উপজেলা পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের কলোনীর ত্রানের জমিতে অবৈধভাবে বহুতল ভবনের ভিত্তির মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে ভবন। উপজেলার পূর্বছাতনাই কলোনী বাজার এলাকায় মৃত ফজল উদ্দিনের ছেলে অত্র এলাকার চোরাকারবারীর মূলহোতা ও দাদন ব্যবসায়ী বাবলু রহমান নিয়ম নিতীর তোয়াক্কা না করে ত্রাণের সরকারী জমিতে ২০১৮ সালে তিন তলার ভিত্তি স্থাপন করে রাতদিন কাজ চালিয়ে ১ম তলার কাজ কমপ্লিট করেছিলেন। ২০২১ সালে এসে একইভাবে ২য় তলার নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্য করেছেন। ত্রাণের জমিতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করলেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ (ত্রাণশাখা) কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই।

এ বিষয়ে ভবন নির্মানকারী বাবলু রহমান বলেন, আমি এই জমি সরকারের কাছে সরাসরি নেইনি, একজন নিয়েছে আমি তার কাছে ক্রয় করে নিয়েছি। বহুতল ভবন নির্মানের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার ক্রয়কৃত জমিতে আমি বহুতল ভবন নির্মাণ করছি এতে কারো কিছু করার নেই। জেলা ত্রান শাখার অধীনে ডিমলা উপজেলায় প্রায় তিন হাজার একর ত্রাণের জমি রয়েছে। এসব জমি সহায় সম্বলহীন পরিবারের মাঝে ৯৯ বছর ভোগ দখলের জন্য সরকার লিখিত অনুমতি প্রদান করেন কিন্তু জমির মালিক সরকারেই থাকবেন। এবং উপজেলা ত্রাণ শাখা কতৃক নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হয়ে থাকে। ২০১৮ সালে পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা গনেশ চন্দ্র রায় ত্রাণের জমি ক্রয় বিক্রয় ও বহুতল ভবন নির্মানের বিষয়ে বলেন, আইনগতভাবে ত্রাণের জমি ক্রয় বিক্রয় বৈধ নয়। ত্রাণের জমিতে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মানের বিষয়ে (১৬ মে)২০১৮ তারিখে ১৪ নং স্বারকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারকে অবহিত করেছি।

উপজেলা ত্রাণ শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম বলেন, ডিমলা উপজেলায় ত্রাণের তিন হাজার একর জমি রয়েছে যার বিপরিতে প্রতি বৎসর ৫৮ লাখ টাকা খাজনা পরিশোধ করা হয়। ত্রাণের জমি যার নামে বরাদ্দ সে শুধু ভোগ দখল করতে পারবে ক্রয় বিক্রয় কিংবা কোন প্রকার স্থায়ী স্থাপনা তৈরী করতে পারবেনা। ত্রাণের জমি কাউকেই এককালীন বরাদ্দ দেওয়া হয় না। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেজবাহুর রহমান বলেন, ত্রাণের জমিতে কেউ বহুতল ভবন নির্মাণ করতে পারবে না।

পূর্বছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের কলোনীতে বেশির ভাগ জমিই ত্রাণের যার কারনে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ হলেও। ব্যক্তি মালিকানা জমি না পাওয়ায় পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছেনা। সেখানে ত্রাণের জমিতে কিভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে তা আমার জানা নেই। ২০১৮ সালে তৎকালীন সময় ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, ত্রাণের জমিতে বহুতল ভবন নির্মানের খবর পেয়ে সরজমিনে গিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়ে দিয়েছিলেন। সেই সাথে বিষয়টি উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন।

তিনি আরো বলেছিলেন, সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ হতে কোন প্রকার নির্দেশনা আসলেই প্রযোজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।মউক্ত বিষয়ে বর্তমান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইবনুল আবেদীন বলেন, ত্রাণের সম্পদ ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও ত্রাণ শাখা নিয়ন্ত্রণ করে। তবে ডিমলায় যদি ত্রাণের জমিতে কেউ অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করার চেষ্টা করে বা করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

একটি পরিকল্পিত আদর্শ ওয়ার্ড গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকলের দোয়া প্রার্থী।