• সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০১:৫১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম

রাজশাহী নগরীতে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে অমানবিক ভাবে নির্যাতন

Reporter Name / ২৬ Time View
Update : রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

প্রধান প্রতিবেদক রাজশাহী

নগরীতে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে অমানবিক ভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী, ও ননোদের বিরুদ্ধে। গৃহবধূর মায়ের অভিযোগ ১২ বছর আগে শিলাকে বিয়ে করে আনার কিছুদিনের পর থেকে সেলিম টাকার জন্য শিলাকে প্রতিদিনি মারধোর ও বাজে বাজে ভাষায় গালি গালাজ করে। কখনো বা সংসারের খরচ পাতি দিয়া বন্ধ করে দিয়ে না খাইয়ে রাখে। আবার মারধোর করে বাবার বাড়িতে টাকা আনার জন্য পাঠিয়ে দেয়। দিনে দিনে এ নির্যাতন ও মারধোর মাত্রা বেড়েই চলছে। এরি পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার দুপুরে (২৬ শে ফেব্রয়ারী) সেলিম ও তার বোন সালমা মিলে গৃহবধুকে লাঠি ও হাসুয়া দিয়ে মারধোর করে গুরুতর আহত করলে এলাকার লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) জরুরী বিভাগে ভর্তি করেন। তবে এলাকাবাসী উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত স্বামী সেলিম ও তার বোন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তবে গৃহবধু কে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাময়িক চিকিৎসা করে ছেড়ে দেয়। বাড়িতে চিকিৎসা চলছে। গৃহবধূ শিলা ও তার মা চন্দ্রিমা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন ছোটবনগ্রাম পূর্বপাড়ায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। সেলিম ছোট বনগ্রাম পূর্বপাড়া এলাকার মৃত নিজামের ছেলে। শিলা বিনোদপুর এলাকার ছিদ্দিকের মে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই গৃহবধূ সেলিমের দ্বিতীয় স্ত্রী। এর আগে প্রথম স্ত্রীকেও বিয়ের পর যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতো। অন্যথায় ঐ মেয়ের বাবা যৌতুক দিতে না পারায় আদালতের মাধ্যমে ১২ বছর আগে তালাক দেয়। এর কিছুদিন পর এই তরুণী শিলাকে বিয়ে করে আনে। তবে বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নানান ভাবে নির্যাতন করতো সেলিম। বিশেষ করে গত কয়েক বছর থেকে সেলিম ও তার -বোন সালমা মিলে ওই গৃহবধূকে নির্যাতন করছে। ওই গৃহবধূ জানিয়েছেন, তাকে বিয়ে করে আনার কয়েক বছর পরও সবার অগোচরে গোপনে কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় আরো একটি বিয়ে করে। পরে সেটা সবার সামনে আসলে সবার কাছে জানাজানি হলে তাকেও ডির্ভোস দিয়ে ঢাকায় পালিয়ে যায় সেলিম। যৌতুকের দাবিতে সেলিম তার পিঠ, গলাই পশ্চাদ্দেশ ও দুই উরুতে ভয়াবহভাবে মারধর করে কালসিটে দাগ ফেলেছে। তার পুরো শরীরজুড়েই এমন ক্ষতচিহ্ন ও মারধরের আঘাত রয়েছে। এমনকি মেরে ফেলার জন্য গলায় হাসুয়াও ধরে আর বলে তোর বাবা মার কাছে থেকে টাকা নিয়ে আয় না হলে তোকে মেরে ফেলবো। প্রতিবেশীরা জানান, সেলিমের বাড়ি থেকে প্রতিদিনিই মারধোর ও কান্নার শব্দ পাওয়া যায়। কিন্তুু গত কয়েক দিন ধরে ওই নারীকে মারধোর কান্নাকাটি আরো বেশি হওয়াই স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে তার বাবা-মাকে অবগত করেন।। পরে গৃহবধুর বাবা ছিদ্দিক এর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরী বিভাগে ভর্তি করে। তবে এলাকাবাসীর উপস্থিতি টের পেয়ে স্বামী সেলিম ও সেলিমের বোন সালমা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে জানতে চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুম মনিরের মুঠোফোনে ফোন দিলে ফোন রিসিভ করেনি তিনি।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

একটি পরিকল্পিত আদর্শ ওয়ার্ড গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকলের দোয়া প্রার্থী।