• বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
সিলেটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মাদ্রাসায় তাকওয়া ফাউন্ডেশনের ১ হাজার কোরআন বিতরণ ময়মনসিংহের নান্দাইলে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় নিখোঁজ এক বৃদ্ধ ভিক্ষুকের লাশ উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তায়ন করা হয়েছে জেলা প্রশাসক এনামুল হক। নান্দাইল প্রেসক্লাব পদক ২০২২ পেলেন আজকের পত্রিকার সাংবাদিক মিন্টু মিয়া ডিমলা বাসীকে ”ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা” জানিয়েছেন ওসি লাইছুর রহমান তিতাসে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল কুমিল্লা কলেজ থিয়েটারের একযুগ পূর্তিতে চাঁদ পালঙ্কের পালা মঞ্চায়ন বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হচ্ছে আরএমপি’র ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পুলিশ আপনার সেবায় সদা প্রস্তুত- করিমগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি জয়নাল আবেদীন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

রাজশাহীতে নির্ধারিত জায়গা রেখে বিতর্কিত স্থানে বাফার গুদাম নির্মাণের প্রক্রিয়া

Reporter Name / ৯১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১
রাজশাহীর পবা উপজেলার বায়া মৌজার এই পুকুর ভরাট করে হবে সার সংরক্ষণ ও বিতরণের বাফার গুদাম। গতকাল দুপুরে তোলা

নিজস্ব প্রতিনিধি

সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। ৩৪টি বাফার গুদামের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পও অনুমোদন হয়েছে। এর একটি গুদাম হবে রাজশাহীতে, কিন্তু রাজশাহীর যে স্থানের জন্য একনেক অর্থ দিয়েছে, সেই স্থানটি হঠাৎ করেই বদলে ফেলা হয়েছে। এখন শর্ত লঙ্ঘন করে একটি পুকুরের মধ্যে বাফার সারের গুদাম নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। অথচ সারা দেশে পুকুর ভরাট বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন উচ্চ আদালত। সেই নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে রাজশাহীতে প্রায় দুই বিঘারও বেশি আয়তনের পুকুর থাকা জমি গুদাম নির্মাণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

অবশ্য পরিবেশ অধিদপ্তর এক চিঠিতে পুকুর ভরাটে নিষেধাজ্ঞার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে প্রকল্পের পরিচালককে। তার পরও শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পরিবর্তিত স্থানেই জমি অধিগ্রহণের তোড়জোড় চলছে। এদিকে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়, যার মেয়াদ ধরা হয় ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু হঠাৎ স্থান পরিবর্তন করতে গিয়ে এখনো এই প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণই শেষ করতে পারেনি জেলা প্রশাসন। ফলে প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজশাহীতে কোনোভাবেই গুদাম নির্মাণ সম্ভব নয়।

প্রকল্পটি গ্রহণের আগে রাজশাহী মহানগরীর পশ্চিম পাশে কাশিয়াডাঙ্গা ও গোয়ালপাড়া মৌজার জমি পছন্দ করা হয়। ২৫ হাজার টন সার ধারণক্ষমতার গুদাম নির্মাণ করতে এ দুই মৌজার ৬.৯৮ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। প্রস্তাবিত জমি নির্বাচনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, নৌপথ, রেলপথ ও সড়কপথে যোগাযোগ সম্ভব। এ ছাড়া এই জমি স্বল্প সময়ে অধিগ্রহণ সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আবুল কাশেম। তা ছাড়া কাশিয়াডাঙ্গা ও গোয়ালপাড়া মৌজার জমিতে বাফার গুদাম নির্মাণের ব্যাপারে অনাপত্তি দেয় রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ), পরিবেশ অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। এ নিয়ে সব প্রক্রিয়ায় চলছিল।

কিন্তু কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় গুদাম নির্মাণের ব্যাপারে আপত্তি তোলে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী জেলা শাখা। স্থান পরিবর্তনের জন্য সংগঠনটি আবেদনও করে। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির একটি সভা হয়। গত বছরের ৬ আগস্ট ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই কমিটি জমি পরিবর্তনের জন্য বিসিআইসিতে প্রস্তাব পাঠায়। বিসিআইসি কোনো সম্ভাবতা যাচাই ছাড়াই সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। পরে আগের অনুমোদিত জায়গা ছেড়ে ব্যবসায়ীদের পছন্দ করা জায়গা জেলার পবা উপজেলার বায়া এলাকায় বাফার গুদাম নির্মাণের প্রক্রিয়ার নির্দেশ দেয়। অনুমোদিত ওই জায়গার কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, বায়া মৌজায় ৬.৯৮ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে বিসিআইসি। এর মধ্যে ০.৭১ একর জমির শ্রেণি ‘পুকুর’। এ ছাড়া ১.১২ একর জমির ধরন ‘পুকুরপার’। গুদাম নির্মাণ করতে হলে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এর সবটুকুই ভরাট করতে হবে।

অথচ কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার জমিতে পুকুর নেই। এই স্থানটির পাশেই রয়েছে রেললাইন। তা ছাড়া পাশ দিয়েই বহমান পদ্মা নদী। পাশাপাশি মহাসড়ক তো আছেই। এখানে গুদাম থাকলে রেলপথ ও নৌপথ ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের খরচ কমানোর সুযোগ ছিল।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বায়া এলাকার নানা সমস্যার কথা বিবেচনা করে আগের স্থানেই গুদাম নির্মাণের জন্য সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা ডিও চিঠি দিয়েছেন। তার পরও রহস্যজনক কারণে বায়া এলাকায় গুদাম নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে না বিসিআইসি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল জানান, বায়া এলাকায় সার গুদাম নির্মাণের জন্য পুকুর ভরাট করা হবে না। পুকুর রেখেই গুদাম করা হবে। তবে এ নিয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে চাননি প্রকল্পের পরিচালক আবুল কাশেম।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category