• বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ১২:৫৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
Tree plantation and Educational Contribution of Inner Wheel Dhaka Krishnochura Dist-345 সিলেটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মাদ্রাসায় তাকওয়া ফাউন্ডেশনের ১ হাজার কোরআন বিতরণ ময়মনসিংহের নান্দাইলে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় নিখোঁজ এক বৃদ্ধ ভিক্ষুকের লাশ উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তায়ন করা হয়েছে জেলা প্রশাসক এনামুল হক। নান্দাইল প্রেসক্লাব পদক ২০২২ পেলেন আজকের পত্রিকার সাংবাদিক মিন্টু মিয়া ডিমলা বাসীকে ”ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা” জানিয়েছেন ওসি লাইছুর রহমান তিতাসে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল কুমিল্লা কলেজ থিয়েটারের একযুগ পূর্তিতে চাঁদ পালঙ্কের পালা মঞ্চায়ন বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হচ্ছে আরএমপি’র ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পুলিশ আপনার সেবায় সদা প্রস্তুত- করিমগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি জয়নাল আবেদীন।

উত্তরবঙ্গে উত্তম মৎস্য চাষ ব্যবস্থাপনায় কার্প ফ্যাটেনিং এ সফলতা

Reporter Name / ৯৩ Time View
Update : রবিবার, ২১ মার্চ, ২০২১

সাগর নোমাণী, রাজশাহী
রাজশাহী তথা উত্তরবঙ্গে উত্তম মৎস্য চাষ ব্যবস্থাপনায় পুকুরে কার্প ফ্যাটেনিং ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে । চাষ প্রযুক্তি ও সম্প্রসারণ কৌশলের উন্নয়নে দেশের উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে খরাপ্রবণ এলাকায় কার্প ফ্যাটেনিং (অল্প ঘনত্বে বড় আকারের রুই জাতীয় মাছের চাষ) পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পুকুরে স্বল্প সময়ে বেশি মৎস্য উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। নিরাপদ মৎস্য সরবরাহের নিমিত্তে জীবন্ত মাছ পরিবহন ও বাজারজাতকরণে অধিকতর আগ্রহেরও সৃষ্টি হয়েছে। মূলত খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের পুকুরে বিরাজমান মাছ চাষের সমস্যা (মাছ বৃদ্ধির হার কম, মৃত্যু হার বেশী  ও উৎপাদন কম) নিরসনে ওয়ার্ল্ডফিশ কর্তৃক ১৯৯৯-২০০০ সালে বড় আকারের মাছ মজুদের পরামর্শ প্রদান করা হয়। প্রাথমিকভাবে সীমিত আকারে শুরু হলেও পরবর্তীতে চাষীদের নিজস্ব অভিজ্ঞতায় বিভিন্ন ভাবে কার্প ফ্যাটেনিং কৌশলের প্রয়োগ হয়। সম্প্রতি খরাপ্রবণ অঞ্চলে মাছ চাষের জন্য পুকুরে পানি সরবরাহের অতিরিক্ত ব্যয় এবং উচ্চ লিজমূল্য থাকা সত্ত্বেও বাজারে বড় আকারের জীবন্ত মাছের চাহিদা থাকায় কার্প ফ্যাটেনিং প্রযুক্তিটির প্রসার ঘটছে। অন্যদিকে মাটি-পানির গুণাগুণ বিবেচনা না করেই চাষী/উদোক্তা পর্যায়ে অতিমাত্রায় খাবার এবং সার ব্যবহার ফ্যাটেনিং পুকুরের মাছ চাষে ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। যেমন, পুকুরের পানিতে উদ্ভিদ কণার আধিক্য, পিএইচ এর মান কম বা বেশি, কম মাত্রার দ্রবীভূত অক্সিজেন, ক্ষতিকর গ্যাসের সৃষ্টি, মাছের বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার হার কম হওয়া, রোগের প্রাদুর্ভাব, মাছের স্বাভাবিক স্বাদ ও গন্ধ হারিয়ে যাওয়া ইত্যাদি যা গ্রহণযোগ্য, স্বল্পব্যয়ী ও পরিবেশবান্ধব তথা টেকসই মাছ চাষ প্রসারের জন্য অন্তরায়। এক্ষেত্রে সঠিক প্রজাতি, আকার ও মজুদ ঘনত্ত্ব নির্বাচন এবং খাবার প্রয়োগের পরিমাণ পরিমিতকরণসহ উত্তম মৎস্যচাষ অনুশীলন এর উপর গুরুত্ব দিয়ে কার্প ফ্যাটেনিং প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিস্তারে জরুরী পদক্ষেপ প্রয়োজন। এইলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এর আওতাভুক্ত এনএটিপি-২ প্রকল্পের সহযোগিতায় খরা প্রবণ এলাকা রাজশাহীতে সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করে।পি-এইচ ডি গবেষক মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, এ প্রযুক্তির বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো: মাছের দ্রুত বৃদ্ধি; বড় আকারের মাছ প্রাপ্তি; অল্প সময়ে বেশী উৎপাদন; উৎপাদিত মাছ খাদ্য হিসাবে নিরাপদ;উৎপাদিত মাছের স্বাদ ও গন্ধ ভালো;মাছের মৃত্যুহার খুবই কম; উৎপাদন খরচ কম ও আয় বেশী; খরাপ্রবণ এলাকার পুকুরের কার্যকরী ব্যবহার; এবং পরিবেশ বান্ধব।  গবেষণা প্রকল্পের সহ: প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মো: মোস্তাফিজুর রহমান মন্ডল বলেন, “চাষের জন্য ভারী ধাতু (সিসা ও ক্যাডমিয়াম) সহনশীল মাত্রার মধ্যে পাওয়া যায় ; মাছে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি থাকে না এবং উৎপাদিত মাছে স্বাভাবিক স্বাদ ও গন্ধ পাওয়া যায়। সর্বোপরি উৎপাদিত মাছ নিরাপদ খাদ্য হিসেবে গ্রহন করা যায়। এ বিষয়ে প্রকল্পের প্রধান গবেষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ডিপার্টমেন্টের প্রফেসর ড. মোহা: আখতার হোসেন বলেন, মাছ চাষের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য খরচ হয় খাদ্য ক্রয়ে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষীদের বড় মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফ্যাক্টরি ফিডের পাশাপাশি হাতে তৈরি খাবার প্রদান করা হয় এবং মাসে ৩ থেকে ৪ দিন খাবার প্রদানে বিরতি দেয়া হয়, ফলশ্রুতিতে উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়েছে।
Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category