• সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০২:৪৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম

রাজশাহীর খড়খড়ি মহাসড়কে দুই পাশে মানুষের ঢল করোনার নিষেধাজ্ঞার না মেনে চলছে বাজার

Reporter Name / ৩৫ Time View
Update : সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১

রাজশাহীর খড়খড়ি মহাসড়কে দুই পাশে মানুষের ঢল করোনার নিষেধাজ্ঞার না মেনে চলছে বাজার

মোঃ পাভেল ইসলাম প্রধান প্রতিবেদক : রাজশাহীর খড়খড়ি বাজার ঠিক তখন সকাল সাড়ে ৬ টা। মহাসড়কের দুই পাশে জুড়ে মানুষের ঢল। করোনার মহামারীর নিষেধাজ্ঞার মাঝে এমন চিত্র দেখা যায় তা মাথায় আসা মুশকিল। কিছুটা দূর হতে এমন মনে হলেও কাছে গিয়ে দেখা যায় মানুষে ঠাসা জায়গাটি। যতই কাছে যাওয়া যায় ততই দেখা যায় মাস্কবিহীন চলফেরা করা মানুষের সংখ্যা বেশী। আর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার তো বালাই নেই সেখানে। দেখে মনে হচ্ছে করোনা সংক্রমন ছাড়ানোর উচ্চ ঝুঁকির অন্যতম স্থল। সোমবার এমনি চিত্র দেখা মিললো রাজশাহী নগরীর প্রাণকেন্দ্র হতে মাত্র ৭-৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাইপাস খড়খড়ি পাইকারী সবজী বাজারে। গতবছর এই সময়ে দেশে করোনার মহামারী আকার ধারণ করলে সরকার হতে সব ধরনের মানুষের চলাচল ও হাট বাজার বন্ধ করে দেয়। মধ্যখানে সেই সংক্রমণ ঝুঁকি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বাজার-ঘাটসহ যানবাহন চলাচল শুরু হয়। ২০২১ সালের এই সময়ে আবারও বিশব্যাপি করোনার সংক্রমণ অতিমাত্রায় বাড়তে থাকে। বাদনেই বাংলাদেশেও। দেশের নাগরিকের কথা চিন্তা ও মহামারী হতে বাঁচতে সরকার গত ২৯ মার্চ ১৮ দফা কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তার কয়েকদিন পরেই দেশের সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে এসব মানতেও নাজার এদেশের মানুষ। অধিকাংশ মানুষকে দেখা গেছে সরকারের নির্দেশনা না মানার প্রবণতা। যতই দিন যাচ্ছে ততই করোনার ভয়াবহনা বাড়ছে। তবুও সচেতনার হার বাড়তে দেখা যাচ্ছে না মানুষ কে। সেই সচেতনতা বা সরকারে নির্দেশনা না মানার অন্যতম আবাসস্থল দেখা গেলো রাজশাহী নগরীর খড়খড়ি বাইপাস পাইকারি সবজি হাটে। হাটঘুরে দেখা যায়, প্রায় ১ কিলোমিটার জুড়ে বসেছে কাঁচাবাজারের সকল ধরনের পণ্যের দোকান। কেউ ভ্যানগাড়ী, কেউ চৌকিতে, কেউ রাস্তায় বস্তা বিছিয়ে, কেউ বা রাস্তায় বসে বসে নানার ধরনের পণ্য বিক্রি করতে বসেছে। তবে অধিকাংশ দোকানদার মেঝেতে বস্তা বসিয়ে আলু, পেঁয়াজ, মরিচ, রসুনসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করছে। তবে তাদের মুখে মাস্ক পড়তে দেখা যায় নি। আর যারা ক্রেতা এসে পণ্য কিনছেন তাদেরও মাঝে একই চিত্র দেখা গেছে। আর সামাজিক দূরত্বর কথা তারা মাথায় না এনে বরং একে অপরের সাথে গাঁয়ে গাঁ ঘেষে পণ্য ক্রয় বিক্রয় করতে দেখা গেছে। শুধু এখানেই শেষ নয় । এই বাজারে চলছে প্রকাশ্যে ধূমপান। এছাড়াও নারী ও শিশুদেরকেউ কোন ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়াই অবাধে ঘোরাফেরা ও বাজার করতে দেখা গেছে। সবজি বিক্রেতা আল-আমিনের কাছে জানতে চাওয়া হয় মাস্ক ছাড়া ঝুঁকি নিয়ে কেনো হাটে এসছেন। জবাবে তিনি পকেট হতে দ্রুত মাস্ক বের করে বলেন, এইতো ভাই আছে কিন্তু কাজের জন্য পড়ে থাকা যায় না। রসুন বিক্রেতা আরিফের কাছে মাস্ক না থাকার কথা জানতে চাইলে বলে, মাস্ক পড়ি কিন্তু সব সময় পড়া সম্ভব হয় না। ছোট শিশু নিয়ে বাজার করতে আসা এক মহিলা মাস্ক ছাড়া আসা ও শিশুদের হাট বাজারে নিয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়ীতে পুরুষ মানুষ বাজার করার মত নাই তাই এসেছি। এখনি বাড়ী চলে যাবে বলে জানান। মাছ বিক্রেতা ছোট্ট শিশু শাকিলেকেউ দেখা গেছে একই ভাবে। তার সাথে কথা হলে মুচকি হেসে বলে চাচার সাথে এসেছি । কিছুক্ষণ পর বাজার শেষ হয়ে গেলে চলে যাবো বলে জানান। তার পাশেই দেখা গেলে আশরাফ নামের অপর মাছ ব্যবসায়ীকে প্রকাশে মুখে বিড়ি নিয়ে দম মাড়ছে আর ধোঁয়া ছড়াচ্ছেন। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, বাবা আর মাত্র দুই টা দিন। রমজান আসছে রোযা শুরু হয়ে গেল আর বিড়ি খাবো না। তবে মাস্ক কেনো পড়েনি তার জবাবটি এড়িয়ে যান। এমনি ভাবে একাধিক ক্রেতা-বিক্রেতাকে প্রকাশ্যে হাটের ভেতরে ধূমপান করতে দেখা গেছে। আইন শৃংঙ্খলাবাহিনী বা প্রশাসনের উচ্চ কর্মকর্তারা প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন জায়গায় করোনার জনসচেতন করার জন্য কাজ করতে দেখা গেলেও সেই বাজারে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়নি। নগরীর সামান্য দূরে পাইকারি কাঁচাবাজারের অন্যতম হাট এই খড়খড়ি বাইপাস হাট। প্রতিদিন খুব সকাল হতে প্রায় ৯ টা পর্যন্ত এই হাট বসে। এই হাটে বিভিন্ন উপজেলা হতে উৎপাদিত পণ্য পাইকারি ক্রয় বিক্রয় হয়। এতে অনেক মানুষের সমাগম ঘটে। করোনার উচ্চ ঝুঁকির এই সময় স্বাস্থ্য বিধি মানা না গেল এই কাঁচা বাজারই হতে পারে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম স্থল।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

একটি পরিকল্পিত আদর্শ ওয়ার্ড গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকলের দোয়া প্রার্থী।