• বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
সিলেটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মাদ্রাসায় তাকওয়া ফাউন্ডেশনের ১ হাজার কোরআন বিতরণ ময়মনসিংহের নান্দাইলে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় নিখোঁজ এক বৃদ্ধ ভিক্ষুকের লাশ উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তায়ন করা হয়েছে জেলা প্রশাসক এনামুল হক। নান্দাইল প্রেসক্লাব পদক ২০২২ পেলেন আজকের পত্রিকার সাংবাদিক মিন্টু মিয়া ডিমলা বাসীকে ”ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা” জানিয়েছেন ওসি লাইছুর রহমান তিতাসে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল কুমিল্লা কলেজ থিয়েটারের একযুগ পূর্তিতে চাঁদ পালঙ্কের পালা মঞ্চায়ন বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হচ্ছে আরএমপি’র ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পুলিশ আপনার সেবায় সদা প্রস্তুত- করিমগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি জয়নাল আবেদীন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

প্রেমিকা নার্সকে কিভাবে নৃশংস হত্যা করা হয়েছে তার বর্ণনা দিলেন ঘাতক পুলিশ কনস্টেবল নিমাই

Reporter Name / ১০৩ Time View
Update : সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১

প্রেমিকা নার্সকে কিভাবে নৃশংস হত্যা করা হয়েছে তার বর্ণনা দিলেন ঘাতক পুলিশ কনস্টেবল নিমাই

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার করা তরুণী ননিকা রাণী রায় (২২) পেশায় একজন নার্স।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মিলনপুর গড়েয়া গ্রামে তার বাড়ি। বাবার নাম নিপেন চন্দ্র বর্মণ। রাজশাহী নার্সিং ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা করেছেন।

চাকরি নিয়ে ছিলেন একটি ক্লিনিকে। সরকারি চাকরির জন্যও পরীক্ষা দিয়েছেন। তবে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এক পুলিশ কনস্টেবলের সঙ্গে। প্রেমের জেরে বিয়ের জন্য চাপ দেয়ায় খুন হতে হয় ননিকাকে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। রাজশাহী পিবিআই অভিযুক্ত কনস্টেবলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ওই নার্স অবিবাহিত ছিলেন। অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলের সঙ্গে তার ৬/৭ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

এই কনস্টেবলের নাম নিমাই চন্দ্র সরকার (৪৩)। তিনি পাবনার আতাইকুলা উপজেলার চরাডাঙ্গা গ্রামের মৃত হেমান্ত সরকারের ছেলে। নিমাই রাজশাহীতে রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন।

গত ৬ এপ্রিল নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একটি ভাড়া বাসায় উঠেছিলেন নিমাই ও ননিকা।

গত শুক্রবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ সিটিহাট এলাকা থেকে ননিকার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি ছিল একটি ড্রামের ভেতর। সেদিন তার পরিচয় জানা যায়নি।

এ নিয়ে নগরীর শাহমখদুম থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করা হয়। থানা পুলিশ বিষয়টির তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করছিল পিবিআই।

তাদের তদন্তে এই তরুণীর পরিচয় উদঘাটনের পাশাপাশি ঘাতকদেরও গ্রেপ্তার করে তারা।

পুলিশ কনস্টেবল নিমাই ছাড়াও এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন, রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার আদারীপাড়া মহল্লার জয়নাল আবেদীনের ছেলে কবির আহম্মেদ (৩০), রাজপাড়া থানার বিলশিমলা এলাকার সতীশ রায়ের ছেলে আবদুর রহমান (২৫) এবং শ্রীরামপুর টি-বাঁধ এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে সুমন আলী (৩৪)।

আবদুর রহমান মাইক্রোবাসের চালক। তিনি আগে হিন্দু ছিলেন। তখন তার নাম ছিল সঞ্জয় রায়। তার মাইক্রোবাসে করেই লাশ ফেলে আসা হয়েছিল।

সোমবার পিবিআইয়ের রাজশাহী কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, কনস্টেবল নিমাই বিবাহিত। তার স্ত্রীর নাম বুলবুলি রাণী দাস।

তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ভাল নয় বলে এক সন্তানকে নিয়ে তিনি আলাদা থাকেন।

আর গত ৬ এপ্রিল ননিকাকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া করেছিলেন নিমাই। ননিকা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। সে কারণেই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, হত্যার সময় নিমাইয়ের বন্ধু কবির আহম্মেদ ও সুমন আলী ননিকার হাত-পা চেঁপে ধরেছিলেন। আর নিমাই গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন।

পরে বাজার থেকে চাল রাখা একটি ড্রাম কিনে আনেন। সেই ড্রামে লাশ ঢুকিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে সেটি নির্জনে ফেলে আসা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, ননিকা সদ্য নার্সিং পাস করেছেন। এরপর রাজশাহী শহরের একটি ক্লিনিকে চাকরি নিয়েছিলেন। একটি ছাত্রীনিবাসে থাকতেন নগরীর পাঠানপাড়া এলাকায়।

সরকারি চাকরির জন্য পরীক্ষাও দিয়েছিলেন। মৌখিক পরীক্ষার জন্য তিনি অপেক্ষা করছিলেন। পুলিশ কনস্টেবল নিমাইয়ের সঙ্গে গিয়ে আলাদা বাসায় ওঠার বিষয়টি পরিবার জানত না। হত্যাকাণ্ডের পর তারা এটি জেনেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই রাজশাহীতে কর্মরত ছিলেন কনস্টেবল নিমাই। সাত বছর ধরে আছেন রাজশাহী রেল পুলিশে। এর আগে তিনি রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) ছিলেন।

সে সময় ডিবি কার্যালয় এলাকার এক কলেজ ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার নগ্ন ভিডিও ধারণ করেছিলেন।

ভিডিওটি কম্পিউটারের দোকান থেকে ছড়িয়ে পড়ে। তখন তাকে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে নানা কৌশলে চাকরি ফিরে পেয়ে রেল পুলিশে যোগ দেন।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category