• মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ০৭:০৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
রাজশাহীতে পুলিশের চাকরি দেবার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক গ্রেফতার কক্সবাজার ডিএনসি মাদক নিয়ে ফেরিওয়ালা মহিলা আটক করেছেন রাজশাহীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মচারি নিহত রাজশাহী মহানগরীতে জুয়েলার্স থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার;দুই চোর গ্রেফতার আটপাড়ায় এইচ এস সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের ফেনসিডিল সেবনের ভিডিও ফাঁস! রাবিতে শেষ হলো ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন রাজশাহীর মোহনপুরে ভাতিজার হাতে চাচা খুন রাজশাহীর আলোচিত পিরু হত্যা মামলার মূল আসামী আটক তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে

আজ ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা মুক্ত দিবস

Reporter Name / ৩৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২০

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
১৯৭১ সালের এইদিনে পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত হয় কুমিল্লা। অকুতোভয় বাংলার বীর সন্তানদের দাপটে পিছু হটে পালায় পাকবাহিনী। বীর বাঙ্গালি অমিত তেজে মুক্ত করে অবরুদ্ধ কুমিল্লা শহরবাসীকে।

কুমিল্লায় মুক্তিবাহিনী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে পাকি বাহিনীর বিরুদ্ধে চুড়ান্ত অভিযান শুরু করে। বিবির বাজার, কটক বাজার, নিশ্চিন্তপুর, চৌদ্দগ্রাম, বেলুনিয়া, ইটাল্লা ও মাঝিগাছায় মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

নভেম্বরের শেষের দিকে হানাদার বাহিনী মুক্তিবাহিনীর আক্রমনে পিছু হঠে। ২৮ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথদিঘী এলাকা দখল করে নেয়। এ এলাকাটিই কুমিল্লার প্রথম মুক্তাঞ্চল। পাকসেনারা তৎকালীন কুমিল্লা বিমান বন্দরে ঘাঁটি থেকে শহরসহ পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে সাধারনের ওপর নির্যাতন চালায়। ৭ ডিসেম্বর রাতে পরিকল্পিত ভাবে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমনে পাক সেনাদের বিমান বন্দরের ঘাঁটির পতন ঘটে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুমিল্লা জেলার সাবেক কমান্ডার শফিউল আহমেদ বাবুল যুদ্ধের স্মৃতি স্মরণ করে জানান, ৮ ডিসেম্বরের আগেই মুক্তিযোদ্ধাদের একটি শক্তিশালী গেরিলা দল কুমিল্লায় প্রবেশ করে বিভিন্ন অপারেশন পরিচালনা করে কুমিল্লা কে হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে। মুক্তিযুদ্ধের চুড়ান্তপর্বে আইন উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নবম বেঙ্গল ৫ ডিসেম্বর সকালে কুমিল্লা বালুতুপায় এসে অপেক্ষা করতে থাকে। বালুতুপা থেকে ৮ মাইল দূরে পাকসেনারা বাংকার ডিফেন্স নিয়েছিল। নবম বেঙ্গলের অল্প সংখ্যক সৈন্য হওয়ায় তারা পাকিস্তানিদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি, পাকিস্তানি সেনাদের পিছনের দিক দিয়ে ৬ ডিসেম্বর কুমিল্লা শহরে প্রবেশ করে। কুমিল্লা শহরের পূর্বদিক থেকে ঢুকে নবম বেঙ্গল কুমিল্লা শহরের পশ্চিম দিকে ৭ ডিসেম্বর দুপুর ১২ টার দিকে পৌঁছে যায়। দুপুর বারোটায় ভারতীয় শিখ জাট ব্যাটালিয়ন কমান্ডার টমসনের সঙ্গে আইন উদ্দিনের দেখা হয়। শিখ জাট বাহিনীর ও মুক্তিবাহিনীর কাজ ছিল কুমিল্লা বিমান বন্দর আক্রমণ করা। শিখজাট ব্যাটালিয়ন বিমান বন্দর আক্রমণ করেছিল ৬ ডিসেম্বর রাতে। রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধ হয় সেখানে। এই আক্রমণে শিখজাট ও মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজন আহত ও নিহত হয়। পাকসেনারা বিমান বন্দর ছেড়ে চলে যায়। মূলত এর মধ্য দিয়ে মুক্ত হয় কুমিল্লা শহর।

তিনি আরো বলেন, ৮ ডিসেম্বর ঢাকার সঙ্গে ময়নামতির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় মুক্তিবাহিনী। এদিকে লাকসাম ঘাঁটি রক্ষায় পাকিস্তানি বাহিনী মরিয়া হয়ে ওঠে। পাকিস্তানি বাহিনীর ২২ বেলুচ রেজিমেন্ট কুমিল্লা বিমানবন্দর (বর্তমানে কুমিল্লা ইপিজেড) সংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান নেয়। ওইদিন মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যাপক সংর্ঘষ হয়। পরাজিত পাকিস্তান বাহিনী পিছু হটে ও সেনানিবাসে অবস্থান নেয়।এ সংঘর্ষে ২৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

জানা যায়, ৭ ডিসেম্বর রাতে পরিকল্পিত ভাবে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমনে পাক সেনাদের বিমান বন্দরের ঘাঁটির পতনের পর ৮ ডিসেম্বর বুধবার প্রত্যুষে কুমিল্লা শহরকে যেন হালকা, স্বচ্ছ ও পবিত্র বলে মনে হয়।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

একটি পরিকল্পিত আদর্শ ওয়ার্ড গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকলের দোয়া প্রার্থী।