• সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ১২:৫৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
নান্দাইল প্রেসক্লাব পদক ২০২২ পেলেন আজকের পত্রিকার সাংবাদিক মিন্টু মিয়া ডিমলা বাসীকে ”ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা” জানিয়েছেন ওসি লাইছুর রহমান তিতাসে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল কুমিল্লা কলেজ থিয়েটারের একযুগ পূর্তিতে চাঁদ পালঙ্কের পালা মঞ্চায়ন বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হচ্ছে আরএমপি’র ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পুলিশ আপনার সেবায় সদা প্রস্তুত- করিমগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি জয়নাল আবেদীন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত বাগমারার ঝিকরা ইউপি’তে চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন বড়চর সমাজ কল্যাণ সংগঠনের তরুনরা। নওগাঁর মান্দায় লটারীর মাধ্যমে মহিলাদের জন্য আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ প্রকল্পের প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচিত

আজ ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা মুক্ত দিবস

Reporter Name / ৭৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২০

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
১৯৭১ সালের এইদিনে পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত হয় কুমিল্লা। অকুতোভয় বাংলার বীর সন্তানদের দাপটে পিছু হটে পালায় পাকবাহিনী। বীর বাঙ্গালি অমিত তেজে মুক্ত করে অবরুদ্ধ কুমিল্লা শহরবাসীকে।

কুমিল্লায় মুক্তিবাহিনী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে পাকি বাহিনীর বিরুদ্ধে চুড়ান্ত অভিযান শুরু করে। বিবির বাজার, কটক বাজার, নিশ্চিন্তপুর, চৌদ্দগ্রাম, বেলুনিয়া, ইটাল্লা ও মাঝিগাছায় মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

নভেম্বরের শেষের দিকে হানাদার বাহিনী মুক্তিবাহিনীর আক্রমনে পিছু হঠে। ২৮ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথদিঘী এলাকা দখল করে নেয়। এ এলাকাটিই কুমিল্লার প্রথম মুক্তাঞ্চল। পাকসেনারা তৎকালীন কুমিল্লা বিমান বন্দরে ঘাঁটি থেকে শহরসহ পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে সাধারনের ওপর নির্যাতন চালায়। ৭ ডিসেম্বর রাতে পরিকল্পিত ভাবে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমনে পাক সেনাদের বিমান বন্দরের ঘাঁটির পতন ঘটে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুমিল্লা জেলার সাবেক কমান্ডার শফিউল আহমেদ বাবুল যুদ্ধের স্মৃতি স্মরণ করে জানান, ৮ ডিসেম্বরের আগেই মুক্তিযোদ্ধাদের একটি শক্তিশালী গেরিলা দল কুমিল্লায় প্রবেশ করে বিভিন্ন অপারেশন পরিচালনা করে কুমিল্লা কে হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে। মুক্তিযুদ্ধের চুড়ান্তপর্বে আইন উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নবম বেঙ্গল ৫ ডিসেম্বর সকালে কুমিল্লা বালুতুপায় এসে অপেক্ষা করতে থাকে। বালুতুপা থেকে ৮ মাইল দূরে পাকসেনারা বাংকার ডিফেন্স নিয়েছিল। নবম বেঙ্গলের অল্প সংখ্যক সৈন্য হওয়ায় তারা পাকিস্তানিদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি, পাকিস্তানি সেনাদের পিছনের দিক দিয়ে ৬ ডিসেম্বর কুমিল্লা শহরে প্রবেশ করে। কুমিল্লা শহরের পূর্বদিক থেকে ঢুকে নবম বেঙ্গল কুমিল্লা শহরের পশ্চিম দিকে ৭ ডিসেম্বর দুপুর ১২ টার দিকে পৌঁছে যায়। দুপুর বারোটায় ভারতীয় শিখ জাট ব্যাটালিয়ন কমান্ডার টমসনের সঙ্গে আইন উদ্দিনের দেখা হয়। শিখ জাট বাহিনীর ও মুক্তিবাহিনীর কাজ ছিল কুমিল্লা বিমান বন্দর আক্রমণ করা। শিখজাট ব্যাটালিয়ন বিমান বন্দর আক্রমণ করেছিল ৬ ডিসেম্বর রাতে। রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধ হয় সেখানে। এই আক্রমণে শিখজাট ও মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজন আহত ও নিহত হয়। পাকসেনারা বিমান বন্দর ছেড়ে চলে যায়। মূলত এর মধ্য দিয়ে মুক্ত হয় কুমিল্লা শহর।

তিনি আরো বলেন, ৮ ডিসেম্বর ঢাকার সঙ্গে ময়নামতির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় মুক্তিবাহিনী। এদিকে লাকসাম ঘাঁটি রক্ষায় পাকিস্তানি বাহিনী মরিয়া হয়ে ওঠে। পাকিস্তানি বাহিনীর ২২ বেলুচ রেজিমেন্ট কুমিল্লা বিমানবন্দর (বর্তমানে কুমিল্লা ইপিজেড) সংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান নেয়। ওইদিন মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যাপক সংর্ঘষ হয়। পরাজিত পাকিস্তান বাহিনী পিছু হটে ও সেনানিবাসে অবস্থান নেয়।এ সংঘর্ষে ২৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

জানা যায়, ৭ ডিসেম্বর রাতে পরিকল্পিত ভাবে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমনে পাক সেনাদের বিমান বন্দরের ঘাঁটির পতনের পর ৮ ডিসেম্বর বুধবার প্রত্যুষে কুমিল্লা শহরকে যেন হালকা, স্বচ্ছ ও পবিত্র বলে মনে হয়।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category