• মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০২:২৭ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গভীর রাতে রাস্তায় সন্তান প্রসব ; কোলে তুলে নিলেন করিমগঞ্জ থানার তদন্ত-ওসি আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী কক্সবাজার ও বান্দরবানের ৩ মাদক কারবারী ইয়াবাসহ চট্টগ্রামে আটক যশোর যুবলীগের আয়োজনে আইসিইউ সরঞ্জাম প্রদান করেন সাবেক মেয়র রেন্টু ঠাকুরগাঁওয়ে ৫৭১ পিস ইয়াবা ও ১৪,৮৮৬ টাকা সহ মাদক ব্যাবসায়ী গ্রেফতার বাগমারায় ইউবিসিসিএ এর নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত রাজ্জাক মোল্লা বাঘা থানা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ আটক ৪ ঠাকুরগাঁওয়ে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু কুষ্টিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী বক্করের বিরুদ্ধে বোমা ফাটালেন এক আ’লীগ নেত্রী ময়মনসিংহের নান্দাইলে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের তৃণমূল সভা অনুষ্টিত রাণীশংকৈলে ১নং ধর্মগড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আকবর আলী মাষ্টার জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

বন্ধুকে হত্যার পর একাই জানাজা পড়েন নেজাম, লাশের হাত ধরে ক্ষমাও চান!

Reporter Name / ৭২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ট্রাকচালককে অপহরণের পর হত্যা ও গুমের রহস্য উন্মোচন করে চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার এক মাস পর শনিবার (২৪ এপ্রিল) রাত পৌনে ১২টার দিকে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন শামীমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পারুয়া ইউনিয়নের একটি ডোবার মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।একই দিন দুপুরে ঘটনার মূল হোতা মো. নেজাম ওরফে মিজানকে (২৬) সন্দ্বীপ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার নেজাম রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা হাজীপাড়া এলাকার নুরুল আলমের ছেলে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত নেজাম তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আজিজুলকে হত্যা ও মরদেহ গুমের ঘটনার বীভৎস বর্ণনা দিয়েছেন। মূলত পারিবারিক শত্রুতার জের ধরেই এ হত্যার পরিকল্পনা করেন নেজাম। ঘটনার দিন বালু আনার নাম করে আজিজুলকে কৌশলে রাঙামাটি জেলার বেতবুনিয়া এলাকার এক নিভৃত জায়গায় নিয়ে গিয়ে ট্রাকের রেঞ্জ (যন্ত্রাংশ) দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তিনি। হত্যার পর একদিন পাহাড়ে মরদেহ লুকিয়ে রাখার পর বন্ধু আজিজুলের জানাজা ও দাফনের চিন্তা আসে নেজামের মাথায়। সে অনুযায়ী গত ২৬ মার্চ রাতে তিনি মরদেহটি কাঁধে করে রাঙ্গুনিয়া থানার চৌধুরীখিলস্থ নাজিম প্রফেসরের পাহাড়ের পাদদেশে একটি ডোবার সামনে নিয়ে আসেন। সেখানে নেজাম একাই মৃতের জানাজা পড়েন এবং কবর দেওয়ার মতো করে ডোবার তলদেশে লাশটিকে লুকিয়ে রাখেন। এ ছাড়া নেজাম ক্ষমা চান বন্ধুর লাশের হাত ধরে!ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের আল আমিন পাড়া গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ট্রাকচালক আজিজুল হক (২৭) নিখোঁজ হন। ২৬ মার্চ আজিজুল হকের বাবা রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি হারানো জিডি করলে বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। এর মধ্যে গত ৬ এপ্রিল আজিজুল হকের মামা হায়দার আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।  তদন্তে আজিজের ব্যবহৃত মোবাইলটি প্রযুক্তির সাহায্যে কক্সবাজারে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। ঘটনার ১৫ দিন পর সূত্র ধরে কক্সবাজার সদর এলাকা থেকে মোবাইল এবং রামু এলাকা থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়। অপহরণকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ওই এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা নেজামের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে। এরপর পুলিশ প্রযুক্তির সাহায্যে নেজামের অবস্থান সন্দ্বীপে শনাক্ত করে। শনিবার সন্দ্বীপ থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  গ্রেপ্তার হওয়ার পর হত্যার কথা স্বীকার করলেও হত্যার পদ্ধতি এবং মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে থাকে নেজাম। প্রথমে তিনি দাবি করেন যে, আজিজুল সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন এবং তার মরদেহ কর্ণফুলী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রযুক্তিগত তথ্য-প্রমাণ এবং প্রশ্নবাণের মুখে শেষপর্যন্ত নিজে খুন করার কথা এবং মরদেহের সঠিক অবস্থান জানাতে বাধ্য হন তিনি। পরে তার দেখানো মতে ডোবা থেকে আজিজুলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।এদিকে উভয় পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, নেজামের স্ত্রীর সঙ্গে আজিজুলের পরকীয়া প্রেম রয়েছে, মূলত এই সন্দেহ থেকেই আজিজুলকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন নেজাম।আদালত সূত্রে জানা যায়, আজিজুল হককে হত্যার দোষ স্বীকার করে রবিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম আঞ্জুমান আদালতে মো. নেজাম ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে আজিজুলকে হত্যা ও গুমের ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি নিজ স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছেন বলেও জবানবন্দিতে দাবি করেন।এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘ এক মাসের নিরবচ্ছিন্ন এবং নিবিড় তদন্তে আমরা প্রায় কোনো ক্লু না থাকা এ ঘটনাটির রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছি। সেই মোতাবেক ঘটনার মূল হোতা নেজামকে গ্রেপ্তার এবং তার দেওয়া তথ্যমতে ভিকটিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি-না তা নিরূপণের জন্য তদন্ত অব্যাহত আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

একটি পরিকল্পিত আদর্শ ওয়ার্ড গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকলের দোয়া প্রার্থী।