• রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

বগুড়ায় পুলিশ মহাপরিদর্শকের দৃস্টি আকর্ষণে মানব বন্ধন

ডেক্স নিউজ / ৬০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১

বগুড়া শাজাহানপুরে ২০০৩ সালে থানায় চাকুরিরত এসআই আতিকুল ইসলামের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিবাদে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। (২৮ এপ্রিল ) বুধবার বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া মাছের আড়ৎ এর পাশে (বগুড়া ঢাকা )মহাসড়কের রাস্তার পূর্ব পার্শে বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এই ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানব বন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেন ওই পুলিশের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় শিক্ষক একেএম আব্দুল মতিন আকতার এবং তার পরিবারের সদস্যরা। মানব বন্ধনের মাধ্যমে পুলিশ মহাপরিদর্শক মহোদয়ের দৃস্টি আকর্ষন করেছেন আকতার এবং তার পরিবার। পরিবারের বালক, নারী, পুরুষ সদস্যদের হাতে থাকা ফেস্টুনে বলা হয়, আইজিপি মহোদয়ের দৃস্টি আকর্ষন করছি। ১২এপ্রিল আইজিপি বরাবর পাঠানো অভিযোগের তদন্ত চাই। আদালতের আদেশ ২বছরেও থানায় না পৌঁছানোর দায় কার। আমার বাপ দাদা চাঁদাবাজির মিথ্যা অপবাদে মামলার আসামী কেন। রক্ষক হয়ে ভক্ষক পুলিশ আতিকের বিচার চাই। পুলিশের চাকুরি করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে। আতিক পুলিশের বিভাগীয় বিচার চাই। পুলিশ হয়ে অন্যের জমি জবর দখল বন্ধ করুন। আতিক পুলিশ এবং তার সহযোগীদের বিচার চাই। আইজিপি মহোদয় আতিক পুলিশের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করুন। পুলিশ হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ করুন সহ বিভিন্ন শ্লোগান। মানব বন্ধনে আকতার হোসেন বলেন, ২০০৩সালে বগুড়া শাজাহানপুর থানায় এসআই পদে কর্মরত ছিলেন এসআই আতিকুল ইসলাম। পুলিশের চাকুরি বিধি ভঙ্গ করে ওই পুলিশ তার স্ত্রী লায়লা আতিকের নামে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে (আন্ডার ভেলু) দশমিক ৪শতাংশ জমি(দলিল নং ১২৫৬৭, তারিখঃ ০৬-০৭-২০০৩) ক্রয় করেন। ২০১৩সালে অন্য থানায় চাকুরি করা অবস্থায় ওই পুলিশ জমিটি অবৈধ দখল করতে তার ভাই শফিকুল ইসলামকে বাদি করে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগে থানায় মামলা(১৮/২০১৭) করেন। সেই মামলায় তাকে(আব্দুল মতিন আকতার) সহ তার বৃদ্ধ পিতা আব্দুল খালেক মাস্টার এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের আসামী করেন। তার বৃদ্ধ পিতা হজ্ব পালনের জন্য সৌদিতে অবস্থান করছিলেন। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে আতিকুল ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তার বাড়ি ভেঙে দিয়েছেন। বাড়ির সমস্ত সামগ্রী শাজাহানপুর থানায় নিয়ে গিয়েছিলেন। এতে তার পুরো পরিবার বিদ্ধস্ত হয়ে পড়েন। মিথ্যা অভিযোগে মামলাটি ২মাসের মাথায় আদালত খারিজ করে দেন। এই ঘটনায় তিনি এবং তার পুরো পরিবার সবার কাছে চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিতি পান। সেই লজ্বা ঢাকার কোন পথ আজো পাচ্ছেন না। ২০১৭সালে পুলিশ আতিকুল ইসলাম শাজাহানপুরের মাঝিড়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জুব্বার হোসেন ওরফে হোটেল জুব্বারকে দিয়ে আবারো জায়গা জবর দখলের চেস্টা করেন। উপায়ন্তর না পেয়ে তিনি বগুড়া জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জুব্বারকে বিবাদী করে মামলা (৬৯৭পি/২০১৭শাজাহানপুর) করেন। ২০১৯সালে জুব্বারের বিরুদ্ধে আদালত ১৪৪/১৪৫ ধারায় আদেশ প্রদান করেন। এবং আদেশের কপি সংশ্লিস্ট সকলকে দেয়ার আদেশ দেন আদালত। চলতি বছরের ৫এপ্রিল পুলিশ আতিকের নির্দেশে জুব্বার ওই পুলিশের হয়ে জায়গাটি আবারো অবৈধ দখল শুরু করেন। জমিটিতে ইট, সিমেন্ট দিয়ে ঘিরে নিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় সাহায্য চাইতে গিয়ে জানতে পারেন আদালতের আদেশের কপি আদালত থেকে দীর্ঘ ২বছরেও থানায় আসেইনি। তিনি(আকতার হোসেন) তখন বগুড়া পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এবং জায়গাটি রক্ষার প্রার্থনা করেন। পুলিশ সুপারের আন্তরিকতায় জায়গাটি পুরো পুরি বেদখল হওয়ার হাত থেকে তখনকার মতন রক্ষা পায়। আদালতের আদেশ থানায় না আসায় গত ১২এপ্রিল রোববার বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেন। পুলিশ আতিকুল ইসলাম এবং তার সহযোগীদের সব ধরনের অপরাধের বিচার চেয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। মানব বন্ধনে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন আকতার এর পিতা আব্দুল খালেক মাস্টার, আকতার এর স্ত্রী শামীমা আকতার, মেয়ে আশিতা আকতার(১৩), ছেলে সাদমান সাকিব আরশ(১০), এসময় উপস্থিত ছিলেন ছোট ভাই মনিরুজ্জামান মানিক, মাসুদুর রহমান মাসুদ, ফুপাতো ভাই তাজনুর রহমান, এমদাদুল হক সহ আত্বীয় স্বজন। তৎকালিন শাজাহানপুর থানায় কর্মরত এসআই আতিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে(নাম্বার ০১৭৫১৪৫৩৭৫৩) জানান, তিনি এখন রংপুর রেঞ্জে পরিদর্শক পদে চাকুরি করছেন। অভিযোগের বিষয়ে তার জানা নেই।

Print Friendly, PDF & Email


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

একটি পরিকল্পিত আদর্শ ওয়ার্ড গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকলের দোয়া প্রার্থী।