• সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রনয়নের দাবীতে দেশব্যাপী প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান! ৮নং ওয়ার্ড সিপাইপাড়া নিবাসী পক্ষাঘাতগ্রস্থ সিরাজুল ইসলামকে হুইল চেয়ার উপহার দিলেন রাসিক মেয়র শেখ রাসেল স্মৃতি ক্লাব কাপ বক্সিং টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী রাজশাহীর বক্সারদের জার্সি উন্মোচন করলেন মেয়র লিটন ডিমলায় আমন ধানে পোকার আক্রমন- হঠাৎ ঝড়ে দিশেহারা কৃষক আবারও নির্বাচিত হয়ে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে চান মঙলা জমে উঠেছে আটপাড়া উপজেলার ইউপি নির্বাচন টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারী গ্রেফতার‌ দীর্ঘ ১৯ মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলেছে রাবির হল বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক এমপি মরহুম খুররম খান চৌধুরীর স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পাটাভোগ ইউনিয়ন বিএনপি সহ সভাপতি নাছির উদ্দিন বেপারির মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত

রাসিকের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ১৯ নম্বর ওয়ার্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি || সংবাদ ২৪ ঘন্টা / ৪৩ Time View
Update : রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১

হে তরুণ তোমরা রক্ত দাও, আমি স্বাধীনতা দেব। পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ নিপীড়িত জাতিকে স্বাধীনতার স্বাদ দেওয়ার জন্য বিখ্যাত উক্তিটি বাস্তবে রূপ দিয়ে দেখিয়েছেন তারুণ্যের প্রতীক,তরুন সমাজসেবক ,সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার তৌহিদুল হক সুমন।

তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে সবচেয়ে অনুন্নত ওয়ার্ডকে ঝকঝকে করে তুলেছে এই তারুণ্যের প্রতীক ওয়ার্ড কমিশনার। তিনি নির্বাচিত হয়েই তার নির্বাচনী ওয়াদা গুলি এক এক বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন ওয়ার্ড বাসী কে।

এই ওয়ার্ডের রাস্তা ঘাট ছিল চলাচলের অযোগ্য।
ভঙ্গুর ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর খানাখন্দে ভরা রাস্তার কারণে যানবহন দূরে থাক ,পায়ে পথচলা দুষ্কর ছিলো ওয়ার্ড বাসির। সামান্য বৃষ্টিতে ড্রেন উপচিয়ে নোংরা পানিতে সয়লাব হতো এলাকা। দুর্গন্ধে স্থানীয়দের বসবাস করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ত। এছাড়া পানিবন্দি হয়ে পড়তো বসবাসকারীরা।
ওয়ার্ডবাসির এ দুর্ভোগের কথা ভেবে তিনি প্রথমে পরিকল্পনা তৈরী করে হাত দেন এলাকার উন্নয়নে ।ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও পরিবর্তনের ফলে পানি নিষ্কাশন হওয়ার ফলে রাস্তায় উপচিয়ে পড়ে না ময়লা দুর্গন্ধ পানি। সৃষ্টি হয় না জলাবদ্ধতা।অন্যদিকে নতুন নতুন রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কারনের ফলে পথচলায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় না ওয়ার্ড বাসিকে।

সিংহভাগ হতদরিদ্র মানুষের বসবাস ওয়ার্ডে তিনি বয়স্ক ও বিধবাদের জন্য ,বয়স্ক বিধবা ভাতা চালু করেন। এছাড়া কর্মহীন মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন।

দুর্যোগপূর্ণ করোনা মহামারীতে একের পর এক লকডাউনের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়ে মানুষ। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এর মধ্যে এ ওয়ার্ডে বসবাস করে সিংহভাগ দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ। খেটে খাওয়া মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়ায় তাদের আয়-রোজগার ও বন্ধ হয়ে যায়।
এই পরিবারগুলি যাতে দুই বেলা খেতে পারে তার জন্য তিনি রাজশাহী কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পরামর্শে এলাকার জন্য বরাদ্দ নিয়ে রাত দিন পরিশ্রম করে বাসায় বাসায় গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তিনি।

এক নজরে এই ওয়ার্ডের উন্নয়নের ৩ বছর

* কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন বছরের মধ্যে ৬৬৮ জনকে বয়স্কভাতা ও ২০৩ জনকে প্রতিবন্ধীভাতা প্রদান, ১০৩টি রাস্তা ও ড্রেন নির্মান সম্পন্ন । এছাড়া ১৬ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান ও ১০ কোটির উন্নয়ন টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন।

* করোনার এই বৈশ্বিক সময় তৌহীদুল হক সুমন এর মা মৃত্যু বরণ করেন,  ২০ মাসের শিশু সন্তানও হয় অসুস্থ। মায়ের মৃত্যু শোক এবং অসুস্থ শিশু সন্তানের মায়া দমিয়ে রাখতে পারে নাই কাউন্সিলর সুমনকে। নিজের পরিবারের কথা না ভেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্তদের খোঁজ নিচ্ছেন, সেবার জন্য ছুটে বেড়াচ্ছেন দ্বারে দ্বারে।

২০২০ সালে প্রথম করোনা উপসর্গ ধরা পড়ার পর থেকেই অদ্যবধি করোনা রুগির সেবায় নিয়োজিত তৌহিদুল হক সুমন । রাসিক মেয়রের সহায়তায় বিনামুল্যে করোনা পরিক্ষা, ওষুধ ও অক্সিজেন বাবস্থা, খাবার বিতরণ এখনো অব্যহত রেখেছেন।

তিনি ৪,৯০০ জনকে সরকারি অনুদান এবং ব্যক্তিগত ৫৪৫৮ জনকে ত্রান দিয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা ২২৯৮ জন কয়েক দফা ২৫০০ টাকা পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা,৬০০ জন বিশেষ ওএমএস কার্ডের মাধ্যমে নগদ সহায়তা প্রদান ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ। এছাড়া ওয়ার্ডের রেলওয়ে বস্তি, চন্দ্রিমা বস্তি ও মসজিদ বস্তির ২৯৬ জনকে ১৫০০০ টাকা করে প্রদান ,ব্রাকের উদ্দোগে ৬০০ নারীদের ১৫০০ করে টাকা দেওয়া হয়েছে।

* রাতে ওয়ার্ডকে স্বচ্ছ আলোকায়ন করার জন্য প্রত্যেক বিদ্যুৎ পোলে এনার্জি বাল্ব লাগানো হয়েছে।
* পথকে পরিষ্কার রাখতে প্রতিনিয়তই রাস্তা পরিষ্কার করা, জলাবদ্ধতা ,পানি ও পয়ঃনিষ্কাষণ এর জন্য নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করা পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে।

আরও জানা যায়, আজ আগষ্টের প্রথম দিনই দুপুর ১২ টার ছোটবনগ্রাম পশ্চিমপাড়া ব্যাংক টাউনে ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যায়ে ৬ টি সেকেন্ডারি ড্রেনের কাজের উদ্বোধন করেন কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শরিফুল ইসলাম।

এছাড়াও রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এর অন্যতম প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ১৯ নং ওয়ার্ড ছোটবনগ্রাম এলাকায় বিনোদনের প্রথম পর্যায়ে ৪ কোটি ৪২ টাকা ব্যায়ে শেখ রাসেল শিশু পার্ক নির্মান চলমান। উক্ত নির্মাণ কাজটি ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গত ২৯ শে মার্চ মেয়রের পক্ষে আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন।

অত্র ওয়ার্ডের প্রবীণ ব্যক্তিরা বলছেন, এই ওয়ার্ড পূর্বে ছিল একবারে অবহেলিত, রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছিল বেহাল অবস্থা, অল্প বৃষ্টিতেই দুই তিন দিন থাকতো জলবদ্ধতা। ফলে এই এলাকার জায়গার দাম ছিল পানির মূল্যে। এখানে বেশির ভাগ বসবাস করতো চোরাকারবারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চোর ছিনতাই। এখানে ছিলো সন্ত্রাসীদের রাজ্য।ফলে এলাকাটিতে বাইরের কোনো লোক ভাড়াটিয়া হিসাবে থাকতেন না।
বর্তমানে কমিশনার এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। ফলে এলাকাটি এখন রাজশাহীর উন্নয়নের মডেল ওয়ার্ড হিসেবে পরিচিত।

ওয়ার্ড কমিশনার তৌহীদুল হক সুমন বলেন, এই ওয়ার্ডের উন্নয়ন ও ভালো কিছু যাহা করা হয়েছে তার দাবিদার ওয়ার্ডবাসি। ওয়ার্ডবাসীর সহায়তা না পেলে তার একার পক্ষে এ ওয়ার্ড কে উন্নয়নের ছোঁয়ায় আনা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

তিনি আরও বলেন এই ওয়ার্ডের লোকজন আমাকে ছেলের মত স্নেহ করে, আমিও তাদের শ্রদ্ধা করি। শ্রদ্ধা ও স্নেহের, এই দুটোর সংমিশ্রণ এ ওয়ার্ডের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমি এলাকাবাসির ভালোবাসায় আবদ্ধ। আমি সকলের কাছে ঋণী। আগামীতে আমি ওয়ার্ডবাসির ভালোবাসা নিয়ে এলাকার চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই, মানুষের জীবনমান আরও উন্নত করতে চাই।

এম/রাজ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

একটি পরিকল্পিত আদর্শ ওয়ার্ড গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকলের দোয়া প্রার্থী।