• সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
নাইক্ষ্যংছড়িতে দুই জন মাদক কারবারীকে গ্রেফতার বাগমারার গোয়ালকান্দি ইউপিতে জনসচেতনতামুলক গণশুনানি অনুষ্ঠিত সিংড়ার শুকাশ ইউপি প্রার্থী আজহারুলের গণসংযোগ ও মোটরসাইকেল শোডাউন রাজশাহীতে বন বিভাগের অভিযানে জলময়ূর বেগুনি কালেম পাতি সরালিসহ ২০১টি পাখি উদ্ধার! আরডিএ’র জনবল সঙ্কটে,রাজশাহীতে অবৈধ ভবন নির্মাণেরর হিড়িক মন্দির ও মন্ডপে হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিএমএ’র মানববন্ধন কামারুজ্জামানের সমাধিতে বিএফইউজের নির্বাচিত নেতাদের নিয়ে আরইউজের শ্রদ্ধা বাঘায় গাঁজা সহ ১ মাদক ব্যাবসায়ী আটক উখিয়া থানা পুলিশের অভিযানে ইয়াবা সহ একজন মাদক কারবারি গ্রেফতার ঠাকুরগাঁওয়ে জমকালো আয়োজনে মহিলা স্কুল রাগবি প্রতিযোগিতা উদ্বোধন

এসপি মাসুদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ

Reporter Name / ৩১ Time View
Update : রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০

সংবাদ ২৪ ঘন্টা ডেক্স

কক্সবাজারের তৎকালীন পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে চার্জশিটে সুপারিশ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম। রোববার দুপুরে চার্জশিটের বিভিন্ন বিষয় জানাতে ঢাকায় র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব। এসপি মাসুদ হোসেন বর্তমানে রাজশাহীতে রয়েছেন।

খুনের পরিকল্পনার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ তৎকালীন পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেনের ভূমিকা সম্পর্কে বলেন, ঘটনার পরও ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়া ছিল অপেশাদারিত্ব। তিনি (এসপি) বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদাসীন ছিলেন। দায়িত্ব পালনে তার আরও যত্নবান হওয়া উচিত ছিল। এসব কারণে এসপি মাসুদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে চার্জশিটে সুপারিশ করা হয়েছে।

র‌্যাবের এ মুখপাত্র বলেন, কক্সবাজারের টেকনাফ থানার বরখাস্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ মদদে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খুন হন। টেকনাফে বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভয়াশ্রম গড়ে তুলেছিলেন তিনি। এ সম্পর্কে জেনে ফেলার কারণেই টেকনাফ থানায় পরিকল্পনা করে তাকে খুন করা হয়।

আশিক বিল্লাহ বলেন, ইয়াবা বাণিজ্যের বিষয়টি জেনে যাওয়ায় সিনহা জুলাই মাসের মাঝামাঝিতে প্রদীপের সঙ্গে কথা বলতে যান। তখন প্রদীপ সরাসরি হুমকি দিয়েছিল সিনহাকে। প্রদীপ ভেবেছিল, হুমকি দিলে সিনহা কক্সবাজার ত্যাগ করবে। কিন্তু কক্সবাজার ত্যাগ না করায় হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তে এমনটিই পেয়েছেন।

খুনের পরিকল্পনার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, সিনহা মো. রাশেদ বন্ধুবৎসল ছিলেন। টেকনাফে তার ইউটিউব চ্যানেল চালুর অংশ হিসেবে গিয়েছিলেন। দ্রুতই তার সঙ্গে এলাকাবাসীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

তিনি টেকনাফের মানুষের ওপর প্রদীপ কুমার দাশের নির্যাতন-নিপীড়নের কথা জানতে পারেন। ইয়াবা কেনাবেচায় সম্পৃক্ততারও প্রমাণ পান। তার কাছে এমন কিছু তথ্য ছিল, যেগুলো প্রকাশ পেলে প্রদীপ কুমার দাশ অস্তিত্বের সংকটে পড়ে যেতে পারতেন। এসবের ভিত্তিতে তিনি টেকনাফ থানায় প্রদীপ কুমার দাশের সঙ্গে কথা বলতে যান। এ সময় প্রদীপ কুমার দাশ তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলেন। কিন্তু টেকনাফ না ছেড়ে সিনহা তার কাজ চালিয়ে চান।

পরে প্রদীপ থানাতেই উপপরিদর্শক লিয়াকত ও তিন তথ্যদাতার সঙ্গে বৈঠক করেন। হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতেও প্রদীপই নির্দেশ দেন। এছাড়া অভিযুক্তদের কয়েকজন ‘ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার’ চেষ্টা করেছেন-এমন মন্তব্য করে আশিক বিল্লাহ বলেন, জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে লিয়াকত তিন সোর্স নুরুল আমিন, নেজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াজের সঙ্গে হত্যা পরিকল্পনা নিয়ে সাক্ষাৎও করেছিলেন, সে তথ্যও তদন্তকারী কর্মকর্তা জানতে পেরেছেন।

গুলি করার পর সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করতেই তাকে হাসপাতালে নিতে সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং পরে লোক দেখাতে হাসপাতালে নেয়া হয়। তিনি বলেন, প্রদীপ সরকারি বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার করে কক্সবাজারে অভয়ারণ্য তৈরি করেছিল।

এদিকে রোববার সকাল সোয়া ১০টায় কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হয়। চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম। আদালত ২৬ পৃষ্ঠার চার্জশিটটি গ্রহণ করেছেন। মামলাটি তদন্ত করতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ৪ মাস ১০ দিন অর্থাৎ ১৩০ দিন সময় নিয়েছেন।

চার্জশিটে অভিযুক্ত ১৫ জনের মধ্যে টেকনাফ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাগর দে পলাতক। বাকি সব আসামি কারাগারে। গ্রেফতার হওয়া ১৪ জনের মধ্যে ১২ জন দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি দেননি বরখাস্ত ওসি প্রদীপ দাশ ও রুবেল শর্মা। তদন্ত কর্মকর্তারা ৮৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। এর বাইরেও বিভিন্ন ধরনের আলামত ও ডিজিটাল কনটেন্ট পর্যালোচনা করেছেন।

চার্জশিটে আসা বাকি ১৩ আসামি হলেন-এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল-মামুন, মোহাম্মদ মোস্তফা, এপিবিএনের তিন সদস্য এসআই মোহাম্মদ শাহজাহান, কনস্টেবল মোহাম্মদ রাজীব ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী নুরুল আমিন, নেজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াজ, টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মা এবং সাবেক এএসআই সাগর দেব।

৩১ জুলাই কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ফাঁড়িতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনার পর মোট চারটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ ও রামু থানায় তিনটি মামলা করে। ওই তিন মামলায় সিনহা মো. রাশেদ এবং ডকুমেন্টারি নির্মাণে তার দুই সহযোগী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে মাদক ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়।

তবে পুলিশের দায়ের করা মামলায় অভিযোগের ‘সত্যতা পায়নি’ র‌্যাব। তাই ওই অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি চেয়ে র‌্যাব আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। ১৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেয়া মামলাটি করা হয়েছিল কক্সবাজার আদালতে। এটি করেন সিনহা মো. রাশেদের বোন শারমিন শাহরিয়ার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

একটি পরিকল্পিত আদর্শ ওয়ার্ড গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকলের দোয়া প্রার্থী।