৩০ বছরের নীরব মানবিক যোদ্ধা

মালয়েশিয়ায় ‘সাদা মনের মানুষ’ আবু জাহের

সংবাদ ২৪ ঘন্টা প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ০৯:১৫ এএম ১৮৪ বার পঠিত
মালয়েশিয়ায় ‘সাদা মনের মানুষ’ আবু জাহের

মালয়েশিয়ায় ‘সাদা মনের মানুষ’ আবু জাহের

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
০৬ মে ২০২৬
শরিফুল খান প্লাবন : মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি আবু জাহের। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে তিনি পরিচিত ‘সাদা মনের মানুষ’ নামে। কোনো স্বার্থ, পদ, খ্যাতি বা আর্থিক লাভের আশা ছাড়াই গত ৩০ বছর ধরে তিনি প্রবাসে বিপদে পড়া বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। মৃত্যুর পর লাশ দেশে পাঠানো থেকে শুরু করে জেল থেকে ছাড়া পাওয়া অবৈধ প্রবাসীদের টিকিট কেটে দেশে ফেরত পাঠানো—সব কঠিন কাজেই তাঁর অবদান অসাধারণ। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার খামার গ্রামের বাসিন্দা আবু জাহের মালয়েশিয়ায় একটি চাইনিজ এজেন্ট কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। দিনের কাজ শেষ করে বাকি সময়টুকু তিনি উৎসর্গ করেন প্রবাসী ভাইদের সেবায়। মৃত প্রবাসীর লাশ দেশে ফেরানো এ পর্যন্ত তিনি ১৪-১৫ জনেরও বেশি মৃত প্রবাসীর লাশ দেশে পাঠিয়েছেন। বিশেষ করে যারা অবৈধ অবস্থায় ছিলেন, তাদের লাশ পাঠানো অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল। আবু জাহের বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। টাকার অভাব দেখা দিলে প্রবাসীদের মাঝে ফান্ড সংগ্রহ করেন এবং নিজেও প্রয়োজনে সাহায্য করেন। কোনো ধরনের ফি বা স্বার্থ তিনি গ্রহণ করেন না। জেল থেকে ছাড়া পাওয়া অবৈধ প্রবাসীদের সাহায্য যেসব অবৈধ প্রবাসী পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সাজা ভোগ করার পরও টিকিটের অভাবে দেশে ফিরতে পারেন না, তাদের অবস্থা হয় সবচেয়ে করুণ। এমন খবর তাঁর কানে গেলেই তিনি সঙ্গে সঙ্গে জেলখানায় ছুটে যান। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি, টিকিট কেনা এবং দেশে ফেরত পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া তিনি নিজ দায়িত্বে সম্পন্ন করেন। এ পর্যন্ত অসংখ্য মানুষকে তিনি এভাবে দেশে ফেরত পাঠিয়েছেন। এছাড়া চাকরিহীন যুবকদের কাজ খুঁজে দেওয়া, বিপদে পড়া পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করা এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যায় পাশে দাঁড়ানো—এসবও তাঁর নিয়মিত কাজ। প্রবাসীরা বলেন, “আবু জাহের ভাইয়ের মতো মানুষ খুব কমই হয়। তিনি কখনো নিজের স্বার্থ দেখেন না, শুধু মানুষের বিপদ দেখেন।” ৩০ বছরের এই নীরব সেবা মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি সমাজে তাঁকে এক অনন্য মর্যাদা দিয়েছে। আবু জাহেরের মতো মানুষদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, প্রবাসেও মানবতা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতা এখনও বেঁচে আছে। তাঁর এই মানবিক কর্মকাণ্ড প্রবাসী সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।