উজানের ঢলে ডুবল ৪৫০ বিঘা ধানখেত

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ১০:০৬ পিএম আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম ১০ বার পঠিত
উজানের ঢলে ডুবল ৪৫০ বিঘা ধানখেত

উজানের ঢলে ডুবল ৪৫০ বিঘা ধানখেত

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
০৬ মে ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় সাড়ে চারশো বিঘা আধাপাকা ধানখেত। উপজেলার সীমান্তঘেঁষা রাধানগর ইউনিয়নের বিল তিলনা, তিলকুচ, সুখডোবা ও গুমরোহিল এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে পানি ঢুকে অন্তত ৬০ হেক্টর ধান ডুবে গেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়ে বাধ্য হয়ে আগেভাগেই আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষকরা। কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উজান থেকে আসা পানির তীব্র চাপ ঠেকাতে বিলে অস্থায়ী মাটির বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। যেসব জমির ধান ডুবে গেছে, সেসব কৃষক এখন ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। হঠাৎ পানি বাড়ার সঙ্গে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকটও। একসঙ্গে অধিকাংশ কৃষক ধান কাটায় শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। রবিউল ইসলাম নামের এক কৃষক বলেন, ‘শুখডোবা বিলে ১০ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছি। এখন সব জমির ধান মাঠেই আছে। এরই মধ্যে আড়াই বিঘা জমির ধান ডুবে গেছে। শ্রমিক পাচ্ছি না জমি থেকে ধান কেটে তুলতে। আমরা খুব অসহায় হয়ে গেছি।’ রতন আলী নামের আরও এক কৃষক বলেন, ‘১০ বিঘার ধানের মধ্যে এক বিঘা জমির ধান কোনোমতে বাড়িতে তুলতে পেরেছি। কিন্তু বাকি নয় বিঘা জমির ধান এখনো খেতেই পড়ে আছে। প্রতি বিঘা ধান কাটার জন্য শ্রমিকদের জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে আবার নৌকা ভাড়া যোগ হওয়ায় খেত থেকে ধান বাড়িতে আনতে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে।’ পরিস্থিতি এখন বেশ উদ্বেগজনক। উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে কৃষকদের ধানখেত ক্ষতির মুখে পড়েছে। বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ক্ষতি কমাতে দ্রুত ধান কেটে নেয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাকলাইন হোসেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. ইয়াসিন আলী জানান, গত এক সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টি ও ঢলে জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নে প্রায় ৪৫০ বিঘা আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে তবে কৃষকরা তাদের জনবল লাগিয়ে ধান কেটে নিচ্ছ। আসলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কি বা করার আছে। বিষয়টি উর্ধতন কতৃপক্ষ কে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে আগামীত বাধ নির্মাণ করে কৃষকদের রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।