দুই বছরের অপেক্ষা শেষ: অবশেষে আলোর মুখ দেখছে রাজশাহীর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল
দুই বছরের অপেক্ষা শেষ: অবশেষে আলোর মুখ দেখছে রাজশাহীর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল
সংবাদ ২৪ ঘন্টা
২৩ জুন ২০২৬
রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চালুর ঘোষণা এলো বহুল আকাঙ্ক্ষিত বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের। ২৩ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এই হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি চালু করা হচ্ছে। ফলে রাজশাহী ও এর আশেপাশের অঞ্চলের লাখো শিশুর উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হতে যাচ্ছে, যা এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।
জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর বক্ষব্যাধি হাসপাতাল মোড় এলাকায় অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। হাসপাতালটির ভবনসহ যাবতীয় অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ বহু আগেই শতভাগ সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, জনবল সংকট এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে দীর্ঘ দুই বছর ধরে হাসপাতালটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবহেলায় পড়ে থাকায় স্থানীয় জনগণের মনে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বেঁধে উঠেছিল।
রাজশাহী ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সাধারণ মানুষকে তাদের শিশুদের জটিল ও উন্নত চিকিৎসার জন্য এতদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওপরই সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হতো। কিন্তু রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার চেয়ে সবসময়ই কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় সেখানে কাঙ্ক্ষিত সেবা মেলা কঠিন হয়ে পড়ত। মেঝেতে কিংবা বারান্দায় শুয়ে শিশুদের চিকিৎসা নেওয়ার দৃশ্য ছিল নিত্যদিনের। এই পরিস্থিতিতে বক্ষব্যাধি হাসপাতাল মোড়ের এই বিশেষায়িত হাসপাতালটি চালু হওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল।
অবশেষে এই অচলাবস্থা কাটতে চলেছে। সরকারের সাম্প্রতিক এক নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বিশেষ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, রাজশাহীসহ দেশের মোট ছয়টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এই ঘোষণার পর রাজশাহীর পরিত্যক্ত পড়ে থাকা হাসপাতাল ভবনটিতে এখন নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসাসামগ্রী, শয্যা ও দক্ষ জনবল বা চিকিৎসক-নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার জোর প্রস্তুতি চলছে।
দীর্ঘ দুই বছর ধরে অযত্নে পড়ে থাকা এই হাসপাতালটি চালুর সরকারি সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজশাহীর সচেতন নাগরিক সমাজ ও সাধারণ অভিভাবকেরা। তাদের মতে, শুধু ভবন নির্মাণ করলেই চলে না, সেটির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। আগামী ছয় মাসের যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তা যেন কোনোভাবেই আর দীর্ঘায়িত না হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যেন এই অঞ্চলের শিশুরা ঘরের কাছে উন্নত বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পেতে শুরু করে, এখন সেটাই সবার মূল প্রত্যাশা।
শেয়ার করুন
বস্তনিষ্ঠ সংবাদের একমাত্র অনলাইন ঠিকানা