সমন্বয়হীন উন্নয়ন: হাজার কোটিতে চকচকে রাজশাহীর সড়ক এখন ওয়াসার দখলে
সমন্বয়হীন উন্নয়ন: হাজার কোটিতে চকচকে রাজশাহীর সড়ক এখন ওয়াসার দখলে
সংবাদ ২৪ ঘন্টা
২৩ জুন ২০২৬
রাজশাহীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজারের মূল সড়কটি এখনো কোনোমতে অক্ষত অবস্থায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তবে এই স্বস্তি হয়তো বড়জোর আর মাত্র দুই-একটা দিনের। ২৩ জুন ২০২৬, মঙ্গলবারও যে রাস্তাটি মসৃণ পিচঢালা রূপ নিয়ে সগৌরবে সচল রয়েছে, দু'দিন পরেই হয়তো সেটির বুকে এসে পড়বে ওয়াসার পাইপলাইন নির্মাণকাজের ভারী যন্ত্রের নির্মম কোপ। আর তারপরই তিলোত্তমা এই শহরের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম রাস্তাটি পরিণত হবে এক রক্তাক্ত ক্ষত-বিক্ষত ধ্বংসস্তূপে।
রাজশাহী মহানগরীজুড়ে এখন এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের খেলা চলছে। একদল কর্মী যখন কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তাঘাট আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলছেন, ঠিক তার পরপরই অন্য আরেকটি সরকারি সংস্থা এসে সেই সদ্য নির্মিত ঝকঝকে রাস্তার বুক চিরে মেতে উঠছে খোঁড়াখুঁড়ির মহোৎসবে। সমন্বয়হীনতার এই চরম মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ নগরবাসীকে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শহরের সিটি বাইপাস ও বিমানচত্বর সড়কজুড়ে এখন শুধুই ধ্বংসের চিহ্ন। একসময় যে রাস্তাগুলো দিয়ে গাড়ি চলত রাজকীয় শান্তিতে, আজ ওয়াসার যন্ত্রের আঘাতে সেই পুরো উপশহর এলাকার সড়কগুলো তছনছ হয়ে পড়ে আছে। ধুলোবালি আর খানাখন্দে একাকার হয়ে গেছে মাইলের পর মাইল রাস্তা। বাদ যায়নি বহরমপুর বাইপাস, রেলগেট কিংবা বন্ধগেট এলাকার সড়কগুলোও। সেখানে আবার যুক্ত হয়েছে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের চিরচেনা চিরুনি অভিযান। ফ্লাইওভার ও ওয়াসার জোড়া তাণ্ডবে এই পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম।
এক কথায় বলতে গেলে, গোটা রেশম নগরীজুড়ে এখন চলছে ‘উন্নয়নের কোপ’। অথচ কিছুদিন আগেই প্রায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করে পুরো শহরের রাস্তাগুলোকে করা হয়েছিল একদম আয়নার মতো ঝকঝকে ও মসৃণ। উন্নত নাগরিক সুবিধার স্বপ্ন দেখিয়ে সেই ট্যাক্সের টাকায় গড়া রাস্তাগুলো এখন খণ্ড-বিখণ্ড। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, পাইপলাইন বসানো বা ভারী কাজের শেষে রাস্তাগুলোকে আর আগের রূপে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে, হেরিংবন বন্ড (ইটের গাঁথুনি) বিছিয়ে কিংবা নামকাওয়াস্তে পিচ-পাথর ঢেলে সংস্কার করে ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এই আলগা ইটের জোড়াতালি ধসে গিয়ে তৈরি হচ্ছে মরণফাঁদ।
এই চরম অব্যবস্থাপনা আর সমন্বয়হীনতার কারণে দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে জনসাধারণের ভোগান্তি। সাহেববাজারের ব্যবসায়ীরা এখন আতঙ্কে দিন গুনছেন। তাদের আশঙ্কা, আর দু-একটা দিন পর যখন ওয়াসা এখানে হাত দেবে, তখন ব্যবসা-বাণিজ্য তো লাটে উঠবেই, সাথে যুক্ত হবে সীমাহীন যানজট আর ধুলোবালির অত্যাচার। হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন ভেস্তে দিয়ে এভাবে একের পর এক রাস্তা ধ্বংস করার এই সংস্কৃতি কবে শেষ হবে, সেই উত্তর আজ আর কারও জানা নেই।
শেয়ার করুন
বস্তনিষ্ঠ সংবাদের একমাত্র অনলাইন ঠিকানা