রাজশাহীতে কুপিয়ে জখম ও ফেসবুক লাইভে হত্যার হুমকি, মামলা না নেয়ায় আতঙ্কে এক পরিবার
রাজশাহীতে কুপিয়ে জখম ও ফেসবুক লাইভে হত্যার হুমকি, মামলা না নেয়ায় আতঙ্কে এক পরিবার
সংবাদ ২৪ ঘন্টা
২২ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম, পরবর্তীতে ফেসবুক লাইভে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে হত্যার হুমকি এবং থানা পুলিশ কর্তৃক মামলা না নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
আজ সোমবার (২২ জুন) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার বাজে কাজলা এলাকার বাসিন্দা মোঃ পারভেজ আলী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পারভেজ আলী জানান, গত শনিবার (২০ জুন) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তার ছোট ভাই মোঃ রিপন আলী (৩২) মোটরসাইকেল যোগে যাওয়ার পথে মামুন স্যারের বাসার সামনে একদল সন্ত্রাসী তার গতিপথ রোধ করে। পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে স্থানীয় বাপ্পি (২৩) ও তার অজ্ঞাতনামা সহযোগী সন্ত্রাসীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে রিপনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
সন্ত্রাসীদের নৃশংস আঘাতে রিপনের হাতের আঙুল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে ঝুলে যায়। পরে উপস্থিত জনতার বাধায় সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হলে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তার হাতে ৬টি সেলাই দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, রিপনকে হাসপাতালে ভর্তির পর বিবাদী শিলা খাতুন (৪৫) ও লিপি (৪৮) হাসপাতালে গিয়ে পরিবারটিকে এলাকাছাড়া, গুম এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তারা পরিবারের নারী সদস্যদের ওপরও চড়াও হয়।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় ঘটে ওই দিন রাতেই। বিবাদী বাপ্পি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) লাইভে এসে এবং পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ্যে হাতে একটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে রিপনকে সরাসরি গুলি করে বুক ঝাঁঝরা করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এই সংক্রান্ত যাবতীয় ডিজিটাল প্রমাণ ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পারভেজ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পর ২০ জুন রাতেই আমরা আইনের আশ্রয় নিতে মতিহার থানায় যাই। কিন্তু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমাদের সাথে চরম অন্যায় ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেন। তিনি আমাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন—'মামলা আমার ইচ্ছে মতো হবে। আমি যদি মনে করি মামলা করার মতো, তবেই মামলা হবে। আপনার কথায় মামলা নিবো নাকি?'
তিনি প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, হাতের আঙুল ঝুলে যাওয়ার পর এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার পরও যদি থানা মামলা না নেয়, তবে মামলা নিতে আর কয়টি লাশ পড়তে হবে?
বর্তমানে বাপ্পি ও তার সহযোগীদের ভয়ে পারভেজ আলীর পুরো পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ঘর থেকে বের হওয়া তো দূরের কথা, নিজেদের বাড়িতেও তারা নিরাপদ বোধ করছেন না।
এমতাবস্থায়, পরিবারটি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনারের জরুরি ও মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে মতিহার থানাকে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শেয়ার করুন
বস্তনিষ্ঠ সংবাদের একমাত্র অনলাইন ঠিকানা