টিকাপাড়া গোরস্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৬, ০৭:০৯ এএম আপডেট : ২৮ মে ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম ১৫৯ বার পঠিত
টিকাপাড়া গোরস্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

টিকাপাড়া গোরস্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
২৮ মে ২০২৬
রাজশাহীর ঐতিহ্যের স্মারক এবং হাজারো মানুষের শেষ ঠিকানায় এখন কবরের প্রশান্তির বদলে মাদকের উৎকট গন্ধ। সংবাদ প্রকাশের পরেও থামেনি রাজশাহী মহানগরীর অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র ‘টিকাপাড়া গোরস্থান’-এর অবক্ষয়। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) আওতাধীন এবং বোয়ালিয়া থানার অধীনস্থ এই গোরস্থানটি এখন অপরাধী ও অসাধু সিন্ডিকেটের অঘোষিত অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। যেখানে শায়িত আছেন রাজশাহীর বহু বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, সেই পবিত্র মাটির বুক এখন মাদকসেবীদের আসর আর অসামাজিক কার্যকলাপের নিরাপদ চারণভূমি। অথচ এই পবিত্রতা রক্ষার গুরুদায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের রহস্যজনক নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গোরস্থানের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরেই গড়ে উঠেছে মাদকের নিশ্ছিদ্র আস্তানা। স্থানীয়দের অভিযোগ, গোরস্থানের পাহারায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সেখানে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের আসর বসে। মাদকসেবীদের আটকের পর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। যেখানে কর্পূরের সুবাস থাকার কথা, সেখানে এখন বাতাসে ভাসে মাদকদ্রব্যের ঝাঁঝালো গন্ধ। মাদকের এই বিস্তারের ফলে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য একা গোর জিয়ারত করা এখন রীতিমতো নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও সিসিটিভি ক্যামেরার অনুপস্থিতি এই অপরাধী চক্রকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে। গোরস্থান সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন শেষে ভেতরের অংশটি পরিণত হয় ময়লার স্তূপে। প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন আর খাবারের উচ্ছিষ্ট অবলীলায় নিক্ষেপ করা হচ্ছে প্রাচীন কবরগুলোর ওপর। সেই অবশিষ্ট খাবার পচে চারদিকে দুর্গন্ধের সৃষ্টি করছে। আজ পবিত্র ঈদুল আজহার দিনেও প্রিয়জনদের কবরে জিয়ারত করতে এসে অনেককে নিজ হাতে এসব ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিকের প্যাকেট সরাতে দেখা গেছে, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় গোরস্থানের পবিত্র সীমানার ভেতর এখন গবাদি পশুর অবাধ বিচরণ ঘটছে। গরু-ছাগল কবরের ওপর চড়ে বেড়ালেও পাহারাদারদের রহস্যজনক নীরবতা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। শ্রদ্ধা ও স্মৃতির এই আঙিনাটি এখন কার্যত গো-চারণভূমিতে রূপান্তরিত হয়েছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই গোরস্থানে আমাদের সকলেরই কোনো না কোনো আপনজন শুয়ে আছেন। এখানে কেন মাদকসেবন হবে কিংবা ময়লার প্যাকেট পড়ে থাকবে? এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।" রাজশাহীর সচেতন মহলের মতে, এটি কেবল প্রশাসনিক শিথিলতা নয়, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক অনুভূতির ওপর চরম অবমাননা। ‘ক্লিন সিটি-গ্রিন সিটি’র তকমা পাওয়া রাজশাহীর হৃদপিণ্ডে এমন অব্যবস্থাপনা এখন শহরের প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের জোরালো দাবি, সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ প্রশাসন যেন কেবল লোকদেখানো তদন্তে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত এই ‘মাদক ও অসাধু সিন্ডিকেট’ নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। একই সাথে গবাদি পশুর প্রবেশ বন্ধ, সার্বক্ষণিক নজরদারি ও গোরস্থানের পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে এনে এই পবিত্র স্থানের ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা করতে অতি দ্রুত দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।