নওগাঁয় দুই ভাইয়ের অঢেল সম্পদ, অনুসন্ধানে দুদক
নওগাঁয় দুই ভাইয়ের অঢেল সম্পদ, অনুসন্ধানে দুদক
সংবাদ ২৪ ঘন্টা
২৩ মে ২০২৬
নওগাঁয় জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে জমি নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগে এক ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় তার সঙ্গে আরও ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) নওগাঁর মোকাম ১ নম্বর আমলি আদালতে বাদী হয়ে মামলাটি করেন স্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠান পিপলস সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মহিউদ্দিন আলমগীর। মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান সদর উপজেলার হাঁপানিয়া ও বক্তারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
কাজী মহিউদ্দিন আলমগীর বলেন, শহরের কোমাইগাড়ী এলাকায় আবাসন প্রকল্পের জন্য আমার কেনা জমির একটি অংশ জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য এক ব্যক্তির নামে নামজারি করে দিয়েছেন মেহেদী। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হলে বিষয়টির সমাধান চাইতে গেলে মেহেদী হাসান আমার কাছে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে কোনো উপায় না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।
তিনি অভিযোগ করেন, নওগাঁর ভূমি খাতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন মৌদুদুর রহমান কল্লোল। যিনি বর্তমানে মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ-এনায়েতপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত। তিনি মেহেদী হাসানের বড় ভাই। ভাইয়ের প্রভাবেই সে এতো বেপরোয়া।
পিপলস সিটির পরিচালক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টানা তিন মেয়াদে প্রায় পাঁচ বছর নওগাঁ পৌরসভা-চন্ডিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালন করেন কল্লোল। ওই সময় ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। এরপর থেকেই তাকে ঘিরে গড়ে ওঠে শক্তিশালী এক বলয়।
অভিযোগকারীরা বলেন, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও সাবেক সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের আশীর্বাদে দীর্ঘদিন ধরেই বেপরোয়া ছিলেন কল্লোল। ফলে স্থানীয় কর্মকর্তারাও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহস পাননি। এমনকি অভিযোগের তদন্ত শুরু করেও পরে থেমে যায় জেলা প্রশাসন।
কল্লোলের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এরই মধ্যে তার ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চাকরির শেষ সময়ে আবারও সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমি অফিসে ফিরতে তিনি তদবির চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে। এতে চলমান তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন- দুই ভাই নিজেদের প্রভাবশালী ও ভূমি পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচয় দেন। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছেন না।
এদিকে মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবী করেন অভিযুক্ত মেহেদী হাসান। নিজের বিরুদ্ধে উঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। মহিউদ্দিনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ভুলবশত কিছু হয়ে থাকলে সেই নামজারি বাতিল করার সুযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ-এনায়েতপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মৌদুদুর রহমান কল্লোলের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে কলটি কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।
সার্বিক বিষয়ে কথা হলে নওগাঁর জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলার কপি আমাদের কাছে এসে পৌছায়নি। মামলার কপি হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর টাকার বিনিময়ে বদলী হয়ে আসার কোন সুযোগ নাই।
শেয়ার করুন
বস্তনিষ্ঠ সংবাদের একমাত্র অনলাইন ঠিকানা