নিঃস্ব পরিবারকে সহায়তা

পদ্মায় নৌকা হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ডিসি

দেশজুরে প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭ এএম ২ বার পঠিত
পদ্মায় নৌকা হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ডিসি
ছবি: সংবাদ ২৪ ঘন্টা

পদ্মায় নৌকা হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ডিসি

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
১৯ সেপ্টে ২০২৬
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ পদ্মায় উঠেছিল বড় বড় ঢেউ। মুহূর্তেই তীরের কাছে বাঁধা নৌকাগুলো দুলতে শুরু করে, আর আতঙ্কে ছুটে আসেন নদীপাড়ের মাঝি ও জেলেরা। নৌকা বাঁচাতে গিয়ে আহত হন রিমোন হোসেন ও তাঁর স্ত্রী; কারও নৌকা ভেসে যায়, কারও একমাত্র জীবিকার অবলম্বন তলিয়ে যায় পদ্মার পানিতে। সেই রাতের ক্ষতচিহ্ন নিয়ে যখন পরিবারগুলো অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছিল, তখন তাদের পাশে দাঁড়ান রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সরেজমিনে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে টি-বাঁধের বটতলা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলো পরিদর্শন করেন তিনি। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেন। জানা গেছে, গত বুধবার রাত ১০টার দিকে রাজশাহীর টি-বাঁধ এলাকার পদ্মায় হঠাৎ পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। সৃষ্টি হয় জলোচ্ছ্বাসের মতো বড় বড় ঢেউ। এতে তীরবর্তী কয়েকটি মাঝি ও জেলে পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভেসে যায় একটি নৌকা, আর একটি নৌকা তলিয়ে যায়। নৌকায় থাকা জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জামও পানিতে ডুবে যায়। জলোচ্ছ্বাসের রাতে নৌকা বাঁচাতে গিয়ে আহত হন রিমোন হোসেন ও তাঁর স্ত্রী। রিমোন বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে হঠাৎ দেখি, পদ্মায় সমুদ্রের মতো বড় বড় ঢেউ উঠছে। বাড়ির সামনে শাহজামাল মাঝির নৌকা ছিল। নৌকাটি ভেসে যেতে দেখে আমি আর আমার স্ত্রী সেটি আটকানোর চেষ্টা করি। তখন নৌকার ধাক্কায় আমার পা ভেঙে যায়। আমি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।’ আহত রিমোন এখন কাজ করতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘পায়ের এই অবস্থায় কোনো কাজ করতে পারছি না। সংসার কীভাবে চলবে, সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। আমার কষ্টের কথা শুনে আজ ডিসি স্যার নিজে এসে খোঁজ নিয়েছেন। পরিবারের জন্য এক মাসের খাবার এবং চিকিৎসার জন্য নগদ টাকা দিয়েছেন। এই বিপদের সময় এই সহযোগিতা আমাদের অনেক বড় ভরসা।’ পদ্মার টি-বাঁধ এলাকার মাঝি শাহজামাল বলেন, ‘হঠাৎ এত বড় ঢেউ উঠবে, আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। আমার নৌকা ভেসে যাচ্ছিল। রিমোন ও তাঁর স্ত্রী সেটি বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন। তাঁদের জন্য আমার নৌকাটি কোনোভাবে রক্ষা পেয়েছে। আজ ডিসি স্যার এসে আমাদের কষ্টের কথা শুনেছেন, খাবার ও চিকিৎসার জন্য সহায়তা দিয়েছেন। এই দুঃসময়ে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন—এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’ তবে জারজিস মাঝির একমাত্র নৌকাটি রক্ষা করা যায়নি। তাঁর বাড়ির সামনের বাঁধে বাঁধা নৌকাটি জলোচ্ছ্বাসের পানিতে তলিয়ে যায়। নৌকায় ছিল মাছ ধরার জাল ও সরঞ্জাম। জারজিস বলেন, ‘সর্বনাশা পদ্মার ঢেউ আমার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। একমাত্র নৌকাটি ডুবে গেছে, সঙ্গে মাছ ধরার জালও গেছে। প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই নৌকাই ছিল আমার পরিবারের আয়ের পথ। পদ্মা আমাকে যেন এক রাতেই নিঃস্ব করে দিয়েছে। আমার কষ্টের কথা শুনে ডিসি স্যার খোঁজ নিয়েছেন, খাবার ও আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছেন। এই দুঃসময়ে তাঁর এই সহায়তা আমাদের অনেক উপকার করেছে।’ জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত বুধবার রাতে হঠাৎ জলোচ্ছ্বাসের ফলে পদ্মার টি-বাঁধ এলাকার মাঝি ও জেলে পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁদের সার্বিক খোঁজখবর নিতে এসেছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও চরাঞ্চলের পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পবা উপজেলার মধ্যচরে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. আরিফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।