পটুয়াখালীতে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা
পটুয়াখালীতে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা
সংবাদ ২৪ ঘন্টা
২৯ জুল ২০২৬
পটুয়াখালীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক বিধবা নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সদর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই নারী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় মো. শহিদুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। এরপর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এ সময় শহিদুল ইসলাম তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তার সন্তানকে দেখাশোনার আশ্বাস দেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ মার্চ শহিদুল ইসলাম ভুক্তভোগীকে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কে তার বোনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, বারবার শারীরিক মিলনের একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি। গত ১৮ মে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হলে তিনি জ্ঞান হারান। পরদিন জ্ঞান ফেরার পর তিনি জানতে পারেন যে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও পরে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সদর থানাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের কপি এখনও থানায় আসেনি। সেটি পেলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শেয়ার করুন
বস্তনিষ্ঠ সংবাদের একমাত্র অনলাইন ঠিকানা