চড়া দামে ভোগান্তি

বৃষ্টির অজুহাতে কাঁচাবাজারে বাড়তি দামের আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম ৭ বার পঠিত
বৃষ্টির অজুহাতে কাঁচাবাজারে বাড়তি দামের আগুন

বৃষ্টির অজুহাতে কাঁচাবাজারে বাড়তি দামের আগুন

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
০৪ সেপ্টে ২০২৬
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় শাকসবজির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির অজুহাতে সব ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে কিছুদিন আগে থেকেই চড়া থাকা সুগন্ধি চালের বাড়তি দাম সাধারণ ক্রেতাদের বাজার খরচে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর সাহেব বাজার, উপশহর ও কোর্ট কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায়। কাঁচকলা এক হালি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা প্রতি কেজি। ছোট লাউ প্রতিটি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। শসা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। বাজারভেদে প্রতি কাঁচা মরিচ বিক্রি কেজিতে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। মসলার বাজারে পেঁয়াজের প্রতি কেজির খুচরা মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪০- ৪৫ টাকা। তবে রসুন ও আদার বাজারে বেশ চড়া ভাব লক্ষ্য করা গেছে। আমদানিকৃত রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, দেশি রসুন প্রতি কেজি ৮০ - ১১০ এবং আদা আমদানিকৃত ১৪০ - ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁচা পেপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, ঢ্যাঁড়শ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি, কাঁকরোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, বরবটি ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা, ঝিঙ্গা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি, ধুন্দল ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি প্রতি। শাকের বাজারে লালশাকের প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পুঁইশাক ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতা বাবু হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টিতে খেতেই অনেক ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, আড়ত থেকেই আমাদের চড়া দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচও বাড়তি। লোকসান দিয়ে তো আর বিক্রি করা সম্ভব নয়, তাই দাম কিছুটা বাড়াতেই হয়েছে। মাংসের বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা এবং খাসির মাংসের দামের বর্তমানে ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় পৌঁছেছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মোরগ-মুরগি ৫২০ থেকে ৫৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সোনালী মুরগি পাওয়া যাচ্ছে ২৯০ থেকে ৩৩০ টাকা। এছাড়া নানা ধরনের মাছ যেমন, তেলাপিয়া মাছ ২০০ -৩০০ টাকা কেজি, পাবদা মাছ ৩৫০ - ৪০০ টাকা কেজি, কই মাছ ২০০ - ২৫০ টাকা কেজি, সিলভার কার্প মাছের দাম ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি এবং পাংগাস মাছের দাম ১৭০ থেকে ২৩০ টাকা প্রতি কেজি। এছাড়াও বাজারে ২ কেজির ঊর্ধ্বের বড় রুই মাছের খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং সাধারণ মানের রুই ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। বড় কাতল মাছ প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং সাধারণ কাতল ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের পছন্দের তালিকায় থাকা ইলিশ মাছ (মাঝারি ৫০০-১০০০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা কেজিতে। মানুষের নিত্য দিনের খাবার লাল ডিম ৪৫- ৪৮ টাকা হালি, সাদা ডিম ৪০-৪২ টাকা হালি এবং হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা হালি। ক্রেতা হামিদ সাহেব বলেন, বৃষ্টি শুরু হলেই ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাত দেন। সাধারণ শাকসবজি কিনতেই যদি ব্যাগের সব টাকা শেষ হয়ে যায়, তবে সংসার চলবে কীভাবে? কিছুদিন আগে সুগন্ধি চালের দাম যে বাড়ল, সেটাও তো আর নামল না, সব মিলিয়ে বাজারে এসে পকেট খালি করে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী মেহেরুন্নেসা জানান, আমরা যারা মেসে বা হোস্টেলে থাকি তাদের সীমিত বাজেটে হিসাব করে চলতে হয়। আমাদের মা বাবারা আমাদের প্রতি মাসে একই পরিমাণ টাকা পাঠান, এইভাবে এক এক সপ্তাহে দাম উঠা নামা করলে আমাদের খুব সমস্যা হয়।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।