এক ডাবের দাম ২২০ টাকা!

সংবাদ ২৪ ঘন্টা প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৮ এএম ৫ বার পঠিত
এক ডাবের দাম ২২০ টাকা!

এক ডাবের দাম ২২০ টাকা!

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
২৬ আগ ২০২৬
ভাদ্রের তাল পাকা গরমে শরীর জুড়াতে ডাবের কদর বেড়েছে। তীব্র গরমে তৃষ্ণা মেটাতে নগরবাসীর অনেকেরই পছন্দের তালিকায় রয়েছে ডাবের পানি। আর এ বাড়তি চাহিদার সুযোগে বাজারে বেড়েছে ডাবের দামও। কয়েক দিন আগেও ছোট আকারের যে ডাব ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তা কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। আর তুলনামূলক বড় আকারের ডাব বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকায়। ফলে অতিরিক্ত দামে ডাব কিনতে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর ধানমন্ডি ও লালবাগ এলাকার একাধিক ডাবের দোকান ও ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এবং সরেজমিনে বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের এ সময়ে বাজারে ডাবের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকে। ফলে পাইকারি বাজার থেকেই তাদের বেশি দামে ডাব কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র গরমে বাড়তি চাহিদা। দুই দিকের চাপেই খুচরা বাজারে ডাবের দাম বেড়েছে। নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতের ডাব বিক্রেতা আনিছ মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কয়েক দিন আগেও যে ডাব ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন তা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার নিচে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কারণ আড়ত থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বেশি দামে কিনলে বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘গরমের কারণে মানুষ এখন ডাব বেশি কিনছে। সরবরাহ বেশি থাকলে দাম এতটা বাড়তো না।’ গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাবের চাহিদাও বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। বিশেষ করে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ডাবের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। পথচারী, রিকশাচালক ও শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তৃষ্ণা মেটাতে ডাব কিনছেন। আরেক বিক্রেতার ভাষ্য, ‘এখন দিনে ডাব বেশি বিক্রি হচ্ছে। মানুষ গরমে ঠান্ডা পানীয়ের বদলে ডাবের পানি খেতে চায়। কিন্তু এ সময়ে বাজারে ডাবের সরবরাহ খুব বেশি নেই। তাই চাহিদা অনুযায়ী দামও বেড়েছে।’ লালবাগ এলাকার বাসিন্দা মুক্তার হোসেন জানান, চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি তার অসুস্থ বাবাকে প্রায়ই ডাব কিনে খাওয়ান। তিনি জানান, দুই-তিনদিন আগে ডাব কিনতে গিয়ে মাঝারি আকারের ডাবের দাম ২০০ টাকা ও বড় আকারের ডাবের দাম ২৫০ টাকা শুনে রীতিমতো হতবাক হয়ে যান। অথচ এই দুই সাইজের ডাবের দাম কিছুদিন আগেই সর্বোচ্চ ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা ছিল। বর্তমানে একই ডাবের জন্য ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। তবে তীব্র গরমে প্রয়োজনের কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে বাড়তি দামেই ডাব কিনছেন। লালবাগের পলাশী এলাকার ক্রেতা হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘আগের তুলনায় ডাবের দাম অনেকটাই বেড়েছে। আগে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় যে ডাব পাওয়া যেতো এখন সেটার দাম ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। কিন্তু গরমের মধ্যে ডাবের পানি খেতে ইচ্ছা করে, তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।’ পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক ক্রেতা বলেন, ‘একটি ডাবের দাম যদি ২০০ টাকার কাছাকাছি হয় তবে সাধারণ মানুষের পক্ষে এটি নিয়মিত খাওয়া সম্ভব নয়। গরমের সময় ডাবের চাহিদা বাড়া স্বাভাবিক, কিন্তু দাম এতটা বেড়ে গেলে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের কষ্ট হয়।’ বাজারে আকারভেদে ডাবের দামে পার্থক্য রয়েছে। ছোট আকারের ডাব ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং কিছুটা বড় আকারের ডাব বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকায়। কোনো কোনো স্থানে ডাবের আকার ও মান অনুযায়ী দাম আরও বেশি চাওয়া হচ্ছে। বিক্রেতাদের দাবি, তারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন এমন অভিযোগ ঠিক নয়। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে। অ্যালিফ্যান্ট রোড এলাকার এক ডাব বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা যে দামে ডাব কিনি, তার সঙ্গে পরিবহন খরচ, দোকান ভাড়া ও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি যুক্ত থাকে। ডাব বেশিদিন রেখে বিক্রি করা যায় না। কয়েকটি নষ্ট হয়ে গেলে সেই ক্ষতিও আমাদেরই বহন করতে হয়। তাই সবকিছু হিসাব করেই দাম নির্ধারণ করতে হয়।’ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ডাবের সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে তীব্র গরমে চাহিদা কেমন থাকবে এবং সরবরাহ কতটা বাড়বে, তার ওপরই মূলত বাজারদর নির্ভর করবে। বাজার-সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো পণ্যের সরবরাহ কমে গেলে এবং একই সময়ে চাহিদা বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই তার দাম বাড়ে। ডাবের ক্ষেত্রেও বর্তমানে একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে সরবরাহ পরিস্থিতি ও বাজার ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক থাকলে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা কমে আসতে পারে। তীব্র গরমে ডাবের চাহিদা বাড়লেও এর চড়া দাম সাধারণ মানুষের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। শরীর জুড়াতে গিয়ে তাই পকেটের উত্তাপও টের পাচ্ছেন ক্রেতারা।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।