গুরুদাসপুরে অপমৃত্যুর সুরতহালে গিয়ে জনরোষের শিকার ২ পুলিশকে ক্লোজড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৮ এএম ৬ বার পঠিত
গুরুদাসপুরে অপমৃত্যুর সুরতহালে গিয়ে জনরোষের শিকার ২ পুলিশকে ক্লোজড

গুরুদাসপুরে অপমৃত্যুর সুরতহালে গিয়ে জনরোষের শিকার ২ পুলিশকে ক্লোজড

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
২৬ আগ ২০২৬
গুরুদাসপুর প্রতিনিধি নাটোরের গুরুদাসপুরে জনরোষের শিকার দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে নদীতে ডুবে দুই শিশুর অপমৃত্যুতে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন করতে গেলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হন। এসময় হামলায় আহত থানার পুলিশ সদস্যরা হলেন- এসআই আবুল বাশার (৪৫) ও কনস্টেবল রাকিব হাসান (৩৬)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ওই গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে ফারহান ও বাবলুর ছেলে লাম বন্ধুদের সাথে নন্দকুজা নদীতে গোসলে নেমে অচেতন হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্র্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে দুই শিশুকে গ্রামে এনে জানাযার আয়োজন করা হয়। সেখানে বিএনপি নেতা সামছুল হক ছাড়াও গ্রামের বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী সামছুল হক জানান, জানাযার প্রস্তুতির সময় দুই পুলিশ সদস্য সেখানে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য মরদেহ দুটি থানায় নিতে বলেন। এক পর্যায়ে মৃতদের কাফনের কাপড় খুলে অনাবৃত করার অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পুুলিশের এমন আচরণে সবাই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই শিশুর মরদেহ নিয়ে পুলিশের এমন তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করে তোলে। একপর্যায়ে কিছু ব্যক্তি ওই দুই পুলিশ সদস্যের ওপর চড়াও হন। কিল-ঘুষি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশেরা একটি দোকানে আশ্রয় নেন। উত্তেজিত লোকজন দোকানটি ঘিরে মারমুখি অবস্থান নেন। পরে গ্রামবাসীর কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন দুই পুলিশ সদস্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থানায় খবর দেয়া হলে অতিরিক্ত পুুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। একদিকে আট বছর বয়সের দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুতে শ্যামপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। থামছে না স্বজনদের আহাজারি। অন্যদিকে কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করার ঘটনায় পুলিশদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। হামলার ব্যাপারে মুখ খুলছেন না পুলিশের কেউ। গণমাধ্যম কর্মীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলেও আহত পুলিশ সদস্যের ছবি তুলতে দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে না পাওয়ায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে থানার ওসি (তদন্ত) রিয়াজুল হাসান বলেন- ‘এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। বিধি মোতাবেক যেকোন অপমৃত্যুর আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্য লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়ে থাকে। এ কারণে দুই পুলিশ সদস্যকে সেখানে পাঠানো হয়। কিন্তু তারা জনরোষের শিকার হন।’ নাটোর পুলিশ সুপার মো. শরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন- 'খোঁজ নিয়ে শুনেছি, ওই দুই পুলিশ সদস্যের তদন্তে ত্রুটি ছিলো। তাই তাদের ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।