ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান চাই

সংবাদ ২৪ ঘন্টা প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম আপডেট : ২৪ মে ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম ১৯ বার পঠিত
ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান চাই

ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান চাই

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
২৪ মে ২০২৬
দেশে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ। প্রায় প্রতিদিনই সংবাদপত্রের পাতা খুললে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলে দেশের কোথাও না কোথাও ধর্ষণের লোমহর্ষক খবর আমাদের স্তম্ভিত করে। গণধর্ষণ, চলন্ত বাসে ধর্ষণ, অবুঝ শিশুকে নির্যাতন—কোনো কিছুই যেন বাদ যাচ্ছে না। একটি স্বাধীন ও সভ্য সমাজে এভাবে একের পর এক বর্বরতা চলতে পারে না। দেশের চলমান এই সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধপ্রবণতা আজ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা সমগ্র বিবেকবান সমাজকে এক গভীর সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সমাজবিজ্ঞান ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ধর্ষণের এই লাগামহীন বিস্তৃতির পেছনে প্রধান কারণ হলো বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অপরাধীরা আইনি ফাঁকফোকর অথবা নানা প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যায়, অথবা মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। ফলে অপরাধীদের মনে কোনো ভয় কাজ করে না। এছাড়া, সামাজিক লোকলজ্জা এবং আইনি সুরক্ষার অভাবে অনেক সময় ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করার সাহস পায় না, যা অপরাধীদের আরও বেশি বেপরোয়া করে তোলে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সমাজে আইনের শাসনের ওপর মানুষের আস্থা চিরতরে হারিয়ে যাবে। শুধু আইন করে বা কঠোর শাস্তির বিধান রেখেই এই ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়, যদি না তার সঠিক ও দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়। অপরাধী যে-ই হোক, তার রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা আজ সময়ের দাবি। একই সাথে, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের আইনি এবং মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে তারা বিচার চাইতে গিয়ে নতুন কোনো হয়রানির শিকার না হন। ধর্ষণ কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে এক চরম অবমাননা। এই বর্বরতার বিরুদ্ধে শুধু রাষ্ট্র বা প্রশাসন নয়, সমাজকে একযোগে রুখে দাঁড়াতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সর্বত্র নৈতিক শিক্ষা ও নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধের চর্চা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আমরা আশা করি, প্রশাসন ও সচেতন নাগরিক সমাজ একযোগে কাজ করে বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির অবসান ঘটাবে এবং দেশের প্রতিটি প্রান্তে নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।