হরে ২১ নতুন উড়োজাহাজ, পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন গ্রুপ হওয়ার পথে ইউএস-বাংলা

সংবাদ ২৪ ঘন্টা প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ পিএম আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৪ এএম ৬ বার পঠিত
হরে ২১ নতুন উড়োজাহাজ, পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন গ্রুপ হওয়ার পথে ইউএস-বাংলা

হরে ২১ নতুন উড়োজাহাজ, পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন গ্রুপ হওয়ার পথে ইউএস-বাংলা

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
২৯ জুল ২০২৬
বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের লিজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন বহরে থাকবে ১৫টি অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ, যা ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে যুক্ত হবে। রাজধানীর শেরাটন ঢাকায় বুধবার (২৯ জুলাই) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, ‘একটি অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন হিসেবে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা আজ বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবার প্রতি তাদের অঙ্গীকারই এ সাফল্যের ভিত্তি।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। ক্রমবর্ধমান এই চাহিদা পূরণে ইউএস-বাংলার ২১টি নতুন বোয়িং বিমান যুক্ত করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও পর্যায়ক্রমে ১৪টি নতুন বোয়িং বিমান বহরে যুক্ত করছে। এতে দেশের এভিয়েশন খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশি-বিদেশি যাত্রীদের ভ্রমণসেবা উন্নত হবে।’ বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বোয়িং ৭৩৭ বিমান লিজ নেওয়ার এই চুক্তি শুধু একটি এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, পর্যটন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি উচ্চমানের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’ বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগিহ বলেন, ‘ইউএস-বাংলা আধুনিক ও জ্বালানিসাশ্রয়ী বোয়িং বিমান যুক্ত করে প্রবৃদ্ধির নতুন ধাপে প্রবেশ করছে। এটি বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের আস্থা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।’ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ইউএস-বাংলা গ্রুপ ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথের বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ যাত্রী এখনও বিদেশি এয়ারলাইন্স বহন করছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে দেশীয় এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে রাখা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি সফল এয়ারলাইন্স পরিচালনা করা নয়; বরং ইউএস-বাংলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক এভিয়েশন গ্রুপে পরিণত করা। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, দক্ষ জনবল তৈরি, কার্গো, এমআরও, ফ্লাইট ক্যাটারিং এবং এভিয়েশন প্রশিক্ষণসহ একটি সমন্বিত এভিয়েশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে।’ তিনি জানান, নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান রুটে ফ্লাইট বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ব্যাঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, কলম্বো, কাঠমান্ডু, জহুর বাহরু, পেনাং, কুনমিং, শেনজেন, বেইজিং, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, কুয়েত, বাহরাইন, মদিনা, দাম্মাম ও সালালাসহ একাধিক নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ স্থায়ীভাবে মোতায়েন করে এসব অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য নতুন বিমানবন্দর, প্রতিযোগিতামূলক নীতিমালা, দক্ষ জনবল, আধুনিক এমআরও সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের এভিয়েশন প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইউএস-বাংলা নিজস্ব অর্থায়নে পাইলট ও এয়ারক্রাফট প্রকৌশলী তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের একটি এভিয়েশন প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং দেশে অত্যাধুনিক ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। ইউএস-বাংলার মতে, এ বহর সম্প্রসারণ শুধু প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধিই নয়, দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন, পর্যটন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াসহ দূরপাল্লার গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যে নতুন প্রজন্মের ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনাও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।