রামেক হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকাকে ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স জোন’ ঘোষণার দাবিতে রাসিক প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি
রামেক হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকাকে ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স জোন’ ঘোষণার দাবিতে রাসিক প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি
সংবাদ ২৪ ঘন্টা
০৩ আগ ২০২৬
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি :
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেকহা) সংলগ্ন ফুটপাত ও প্রধান সড়ক অননুমোদিত দখলমুক্তকরণ, যান পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং হাসপাতাল সংলগ্ন ৪০০ মিটার ব্যাসার্ধ এলাকাকে স্থায়ী ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স জোন’ ঘোষণার দাবিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) বেলা ১০টার দিকে নগর ভবনে রাসিক প্রশাসকের কার্যালয়ে রাজশাহী তথা বরেন্দ্র অঞ্চলের উন্নয়ন গবেষণাধর্মী যুব সংগঠন ‘ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ - ইয়্যাস’ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়’-এর প্রতিনিধি দল আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করে।
স্মারকলিপিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন উন্নয়ন গবেষণাধর্মী যুব সংগঠন ‘ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ - ইয়্যাস’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়ের সভাপতি লেখক, উন্নয়ন ও অধিকারকর্মী (শ্রেষ্ঠ যুব সম্মাননা প্রাপ্ত) মো. শামীউল আলীম শাওন এবং ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়ের সাধারণ সম্পাদক মো. রবিন শেখ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, উত্তরবঙ্গের প্রায় দুই কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার মূল কেন্দ্রবিন্দু রামেক হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। অথচ এই সংবেদনশীল সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ (আউটডোর) গেট এবং লক্ষ্ণীপুর মোড় থেকে ঘোষপাড়া মোড় ও সি অ্যান্ড বি মোড়-গ্রেটার রোড সংযোগ সড়কের ফুটপাত ও মূল রাস্তা বর্তমানে অবৈধ টং দোকান, খাবারের হোটেল এবং অনিয়ন্ত্রিত যান পার্কিংয়ের দখলে চলে গেছে। এতে আশঙ্কাজনক রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে ১০ থেকে ২৫ মিনিট যানজটে আটকে থাকতে হয়, যা মুমূর্ষু রোগীর প্রাণরক্ষায় চিকিৎসাবিজ্ঞানের ‘গোল্ডেন আওয়ার’ নষ্ট করছে।
আইনি ভিত্তি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তুলে ধরে স্মারকলিপিতে বলা হয়, জনস্বাস্থ্য ও জীবনের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ মামলায় স্পষ্ট রায় দিয়েছেন- ‘ফুটপাত কেবল পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য, এটি কোনো ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা যাবে না।’ এছাড়া স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯-এর ৪১ ধারা, তৃতীয় তফসিল এবং সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৪৯ ও ৯২ ধারা অনুযায়ী ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সিটি করপোরেশনের সংবিধিবদ্ধ বাধ্যতামূলক আইনি দায়িত্ব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-হু’র আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হাসপাতাল সংলগ্ন পথ ‘জিরো-অবস্ট্রাকশন জোন’ হওয়া এবং শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬ অনুযায়ী এটি ‘নীরব এলাকা’ হওয়া আইনত বাধ্যতামূলক।
স্মারকলিপিতে পেশকৃত সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো:
ইমার্জেন্সি রেসপন্স জোন ঘোষণা: লক্ষ্ণীপুর মোড় থেকে ঘোষপাড়া মোড় এবং সিঅ্যান্ডবি মোড় - গ্রেটার রোড সংযোগ সড়কসহ রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ গেটের ৪০০ মিটার ব্যাসার্ধ এলাকাকে স্থায়ীভাবে ‘নো-হকার ও নো-পার্কিং ইমার্জেন্সি রেসপন্স জোন’ ঘোষণা করা।
যৌথ উচ্ছেদ অভিযান: রাসিকের এস্টেট বিভাগ, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আরএমপি ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে অবিলম্বে জিরো-টলারেন্স নীতিতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালিয়ে সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা।
নিরবচ্ছিন্ন ড্রপ-অফ জোন: জরুরি ফটকের সামনে এলোপাতাড়ি পার্কিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে শুধুমাত্র রোগীবাহী গাড়ি থামার সুনির্দিষ্ট ‘ড্রপ-অফ জোন’ নিশ্চিত করা।
ভৌত সুরক্ষা ও ডিজিটাল নজরদারি: উচ্ছেদকৃত ফুটপাতে পুনরায় দখল ঠেকাতে পথচারীবান্ধব সুরক্ষা বোলার্ড ও রেইলিং স্থাপন এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে রাসিকের সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করা।
যৌথ টাস্কফোর্স ও বিকল্প পুনর্বাসন: রাসিক প্রশাসকের নেতৃত্বে হাসপাতাল পরিচালক, আরএমপি কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও আনসার কমান্ড্যান্টকে নিয়ে নিয়মিত যৌথ তদারকি সভা আয়োজন এবং অতি-দরিদ্র হকারদের হাসপাতাল সীমানার বাইরে নির্ধারিত মার্কেটে স্থানান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ।
স্মারকলিপি প্রদানকালে ইয়্যাসের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি লেখক, উন্নয়ন ও অধিকারকর্মী (শ্রেষ্ঠ যুব সম্মাননাপ্রাপ্ত) মো. শামীউল আলীম শাওন বলেন, “এখানে প্রধান সমস্যা হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের অভাব। রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সীমিত আনসার ও পুলিশ জনবল দিয়ে ভেতরের নিরাপত্তা সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে বাইরের সড়ক দখলে প্রতিনিয়ত অ্যাম্বুলেন্স আটকে মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। নগরীর অভিভাবক হিসেবে সিটি করপোরেশনকেই এই আন্তঃদপ্তর সমন্বয়ের নেতৃত্ব দিতে হবে।”
ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়ের সাধারণ সম্পাদক মো. রবিন শেখ বলেন, “একটি দৃষ্টিনন্দন ও সুশাসিত নগরীর প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রবেশদ্বারে এই নৈরাজ্য মেনে নেওয়া যায় না। জরুরি চিকিৎসার পথ বাধামুক্ত রাখা সভ্য নাগরিক অধিকারের অংশ।”
উল্লেখ্য, আশু প্রশাসনিক ও যৌথ তদারকি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে স্মারকলিপির অনুলিপি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার এবং রামেক হাসপাতাল পরিচালকের দপ্তরেও দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ‘তারুণ্যের জয় হবে নিশ্চয়ই’ প্রত্যয়ে এগিয়ে চলা বরেন্দ্র অঞ্চলের উন্নয়ন-গবেষণাধর্মী স্বেচ্ছাসেবী ও যুব সংগঠন ‘ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ - ইয়্যাস’ বিগত ২০১৫ সাল থেকে রাজশাহী তথা বরেন্দ্র অঞ্চলে পরিবেশ-প্রতিবেশ, প্রাণ-প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ সড়ক, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়ন, বাসযোগ্য, অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণ এবং জলাধার সুরক্ষাসহ সমসাময়িক নানা ইস্যুতে সামাজিক অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে।
আর ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয় সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে অপস।
শেয়ার করুন
বস্তনিষ্ঠ সংবাদের একমাত্র অনলাইন ঠিকানা