ভালো দামের আশায় বাড়ছে বিনিয়োগ।

বগুড়ায় আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক

স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৩ পিএম ২৫ বার পঠিত
বগুড়ায় আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক
ছবি: সংবাদ ২৪ ঘন্টা
১১ অক্টো ২০২৬ | sangbad24ghonta.com
বগুড়ায় আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক
বিস্তারিত কমেন্টে ↘

শীতের আমেজ পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ার আগেই বগুড়ার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের কর্মযজ্ঞ।

 

কোথাও জমিতে চারা রোপণ, কোথাও চলছে সেচ, আবার কোথাও আগাছা পরিষ্কার ও ফসলের পরিচর্যা। শিম, বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা ও পালংশাকসহ নানা ধরনের সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।

 

আগাম সবজি বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় বাড়তি বিনিয়োগ করছেন তাঁরা। একই সঙ্গে গত কয়েক মৌসুমের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্নও দেখছেন অনেক কৃষক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বগুড়া জেলায় ৫ থেকে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মূল শীতকালীন মৌসুম শুরু হলে জেলায় সবজি চাষের মোট জমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টরে পৌঁছাতে পারে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে সবজি চাষে কৃষকদের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। হেক্টরপ্রতি ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১৭ মেট্রিক টন। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা ও বাজারদরের ওঠানামা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে।

বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ, শাজাহানপুর, শেরপুর, ধুনট, নন্দীগ্রাম, সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, গাবতলী ও কাহালুসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আগাম সবজির আবাদ হচ্ছে। অনেক জমিতে ইতিমধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাক, মূলা, গাজর ও শিম বাজারজাত করার প্রস্তুতি চলছে। কিছু সবজি বাজারেও উঠতে শুরু করেছে। তবে গত দুই দিনের বৃষ্টিতে কয়েকটি এলাকায় কিছু ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বগুড়া সদর উপজেলার দোবাড়িয়া এলাকার কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, “আগাম সবজি চাষে ঝুঁকি আছে, তবে ভালো দাম পেলে লাভের সম্ভাবনাও বেশি। অন্য ফসলের তুলনায় এতে শ্রম ও খরচ দুটোই বেশি লাগে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। তারপরও বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আগাম সবজি ভালো দামে বিক্রি করে লাভবান হওয়া সম্ভব।”

 

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত চাষপদ্ধতি এবং কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার ফলে সবজি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত লাভের জন্য উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারজাতকরণ ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

 

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান ফরিদ বলেন, “আগাম সবজির ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ার আশায় জেলার কৃষকেরা আশাবাদী। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আগাম শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে। উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

সব মিলিয়ে, আগাম শীতকালীন সবজিকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বগুড়ার কৃষকদের মধ্যে। এখন তাঁদের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করছে অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাইয়ের নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়ার ওপর।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।