ঈদের বিকেলে রাজশাহীর মোড়ে মোড়ে কোরবানির মাংসের ব্যতিক্রমী বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম আপডেট : ২৯ মে ২০২৬, ০৫:১০ এএম ২০ বার পঠিত
ঈদের বিকেলে রাজশাহীর মোড়ে মোড়ে কোরবানির মাংসের ব্যতিক্রমী বাজার

ঈদের বিকেলে রাজশাহীর মোড়ে মোড়ে কোরবানির মাংসের ব্যতিক্রমী বাজার

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
২৮ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বসেছিল কোরবানির মাংসের ব্যতিক্রমী এক বাজার। ঈদের আনন্দ যখন সবার ঘরে ঘরে, তখন সমাজের একদল সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সারা শহর ঘুরে সংগ্রহ করেন কোরবানির মাংস। নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে সেই মাংসের অতিরিক্ত অংশ তাঁরা বিক্রি করে দেন এই অস্থায়ী বাজারে। আর সেখান থেকে তুলনামূলক কম দামে মাংস কিনে নেন কোরবানি দিতে না পারা অন্য নিম্নআয়ের মানুষেরা। পারস্পরিক প্রয়োজন আর উৎসবের ভাগাভাগিতে এই বাজারগুলো হয়ে উঠেছে এক মানবিক মিলনমেলা। ঈদের দিন দুপুর থেকেই নগরের রেলগেট, রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল, ভদ্রা, লক্ষ্মীপুর ও হড়গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় পলিথিন ও ব্যাগ হাতে দেখা মেলে অসংখ্য নারী-পুরুষ ও শিশুর। কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তাঁরা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গিয়ে মাংস সংগ্রহ করেন। পবা উপজেলার নওহাটা থেকে আসা আসমা আক্তার জানান, অসুস্থ স্বামী আর দুই সন্তান নিয়ে তাঁর সংসার। কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য তাঁদের নেই। তাই এক প্রতিবেশীর পরামর্শে শহরে এসে মাংস সংগ্রহ করেছেন। দিনশেষে সাড়ে তিন কেজির বেশি মাংস মেলায় তাঁর মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। অন্যদিকে, রোজিনা বেগম নামের এক নারী জানান, সারা দিন পুরো শহর ঘুরে সাড়ে চার কেজি মাংস পেয়েছেন। এর মধ্যে দেড় কেজি নিজের পরিবারের জন্য রেখে বাকি তিন কেজি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করে দিয়েছেন। এই বিক্রির টাকায় ঈদের রান্নার বাকি বাজার করে ঘরে ফিরবেন তিনি। নগরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে এই সংগৃহীত মাংস কেনার জন্য ডিজিটাল স্কেল বা দাঁড়িপাল্লা নিয়ে বসেন কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী। তাঁরা সংগ্রাহকদের কাছ থেকে মাংস কিনে আবার সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। এসব অস্থায়ী বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বড় আসরটি বসে রেলগেট এলাকায়। এলাকাভেদে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা গরুর মাংস কিনছেন ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে, যা আবার ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। অন্যদিকে, খাসির মাংস ৭০০ থেকে ৭২০ টাকায় কিনে বিক্রি করা হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজিতে। রেলগেট এলাকার মৌসুমি মাংস বিক্রেতা সেলিম হোসেন সংবাদ ২৪ ঘন্টাকে বলেন, "গতবারের চেয়ে এবার মাংসের সরবরাহ কিছুটা কম, তাই দামও একটু বেশি। আমরা সামান্য ২০-৩০ টাকা লাভে এই মাংস আবার বিক্রি করে দিচ্ছি।" এই বাজার থেকে মাংস কিনতে আসা কাজীহাটা এলাকার সাব্বির হোসেন সংবাদ ২৪ ঘন্টাকে বলেন,"এবার কোরবানি দিতে পারিনি। আগামী দু-তিন দিন বাজারে সাধারণ মাংস পাওয়া যাবে না। তাই এখান থেকেই গরুর মাংস কিনে নিলাম। দাম কিছুটা বেশি হলেও ঈদের দিনে মাংসের ব্যবস্থা হলো, এটাই বড় কথা।" শিরোইল বাস টার্মিনালের সামনে থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরে খাসির মাংস কিনে খুশি প্রকাশ করেন আজিজুল নামের আরেক ক্রেতা। তিনি জানান, ঈদের দিনে খাসির মাংস পাওয়া বেশ কঠিন, তাই এখান থেকে ভালো মাংস পেয়ে তিনি আনন্দিত। মৌসুমি মাংস বিক্রেতা মো. জাফর সংবাদ ২৪ ঘন্টাকে বলেন, "ঈদের দিন এই ব্যতিক্রমী ব্যবসার মাধ্যমে আমরা যেমন দু-পয়সা আয় করছি, তেমনি গরিব মানুষেরাও মাংস বিক্রি করে অন্য খরচের টাকা জোগাড় করতে পারছে। আবার যাঁরা কোরবানি দিতে পারেননি, তাঁরাও কম দামে মাংস পাচ্ছেন। কোরবানির মাংস একটু হলেও সবার পাতে পড়ুক—এটাই আমাদের আনন্দ।" অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও এই অস্থায়ী বাজারগুলো যেন ঈদের দিনে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে মাংসের স্বাদ পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য ও মানবিক মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।