এমপি'র দাপটে বিএনপি নেতার পুকুর খনন, প্রশাসন নিরব!

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ০২:১৬ পিএম ৩ বার পঠিত
এমপি'র দাপটে বিএনপি নেতার পুকুর খনন, প্রশাসন নিরব!

এমপি'র দাপটে বিএনপি নেতার পুকুর খনন, প্রশাসন নিরব!

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
১২ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের এমপির প্রভাব খাটিয়ে বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম রবিন তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কাজে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) জালাল উদ্দিন সহযোগিতা করছেন বলেও দাবি স্থানীয়দের। চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের মিরকামাড়ি এলাকায় গত এক মাস ধরে রাতের আঁধারে চলছে এ খননকাজ। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন দুই দফা অভিযান চালিয়েও পুকুর খনন বন্ধ করতে পারেনি। এমপির প্রভাবের কারণেই খনন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি তাদের। এ বিষয়টি স্বীকার করেছেন চারঘাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান। গত সোমবার দিবাগত রাতেও খনন কার্যক্রম চলছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের ফলে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হবে। এতে আবাদি জমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে কৃষিকাজ ব্যাহত হবে। এছাড়াও খনন করা মাটি বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে। ভারি যানবাহনে মাটি পরিবহনের কারণে স্থানীয় সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, রবিউল ইসলাম রবিন ইউসুফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি এবং সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি এমপি আবু সাঈদ চাঁদের আত্মীয় বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় আট বিঘা জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। ওই জমিতে রবিন ছাড়াও স্থানীয় সুমন, রবিউল, ইলিয়াস, আকতার ও ইন্তাজের জমি রয়েছে। রবিন অন্যদের জমি লিজ নিয়ে খনন কার্যক্রম শুরু করেছেন। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর এক্সকাভেটর, ট্রাক্টর ও ট্রাক দিয়ে চলে মাটি কাটার কাজ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে সবুজ ধানের ক্ষেতের মাঝখানে বড় আকারে খননকাজ চলছে। পুকুরের উত্তর-পশ্চিম অংশে ইতোমধ্যে খনন শেষ হয়েছে। খননস্থলের পাশেই রয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি গভীর নলকূপ, যেখান থেকে কৃষকরা সেচ সুবিধা নিয়ে থাকেন। স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “ক্ষমতার দাপটে তিন ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে চাষাবাদের জমি থাকবে না। আমরা না খেয়ে মরব। প্রশাসনও যেন অসহায়।” আরেক বাসিন্দা আসকান বলেন, “সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও পুকুর খনন চলছে। রাতভর এক্সকাভেটর আর ট্রাকের শব্দে মানুষ অতিষ্ঠ। ভারি যানবাহনের কারণে নতুন সড়কও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” স্থানীয়দের অভিযোগের পর গত ২১ এপ্রিল সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান অভিযান চালান। তিনি বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ওই সময় একটি এক্সকাভেটরের ব্যাটারি খুলে সেটি অচল করে দেওয়া হয়। তবে সেদিন সন্ধ্যার পরই আবার খনন শুরু হয়। পরে গত ৫ মে আবারও অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ঘটনাস্থলে থাকা অবস্থায় এমপির পিএ জালাল উদ্দিন সহকারী কমিশনারকে ফোন করে অভিযান বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান। তিনি আশ্বস্ত করেন, আর খনন করা হবে না। কিন্তু পরে আবারও শুরু হয় মাটি কাটার কাজ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জালাল উদ্দিন বলেন, “রবিন পুকুর খনন করছেন -এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি সহকারী কমিশনারকে ফোনও দিইনি।” যদিও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান বলেন, “আমি দুইবার অভিযান চালিয়েছি। দ্বিতীয়বার অভিযানের সময় এমপি স্যারের পিএ জালাল সাহেব ফোন দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আর খনন করা হবে না। এরপরও যদি আবার কাজ শুরু হয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম রবিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে দলীয় ও এমপির প্রভাব খাটিয়ে তার আত্মীয় পুকুর খনন করছেন -এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংসদ আবু সাঈদ চাঁদ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “কে আত্মীয় আর কে নয়, সেটা বড় কথা না। শুধু চারঘাট নয়, সারা রাজশাহীতেই পুকুর কাটা হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসন দেখবে।”##

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।