গণমাধ্যম উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক মাসুদ রানা সুইটের ৬৬তম জন্মবার্ষিকী

সংবাদ ২৪ ঘন্টা প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম আপডেট : ০১ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম ৩২ বার পঠিত
গণমাধ্যম উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক মাসুদ রানা সুইটের ৬৬তম জন্মবার্ষিকী

গণমাধ্যম উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক মাসুদ রানা সুইটের ৬৬তম জন্মবার্ষিকী

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
০১ জুন ২০২৬
রাজশাহী মহানগরীর বিশিষ্ট সমাজসেবক, সফল প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার ও গণমাধ্যম উদ্যোক্তা মরহুম মাসুদ রানা সুইটের ৬৬তম জন্মবার্ষিকী আজ (২ জুন)। ১৯৬০ সালের এই দিনে তিনি রাজশাহী মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী সিপাইপাড়া এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মরহুম মাসুদ রানা সুইটের পরিবার ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এক গৌরবোজ্জ্বল ও আত্মত্যাগী ভূমিকা পালন করে। তাঁর পিতা ছিলেন একজন প্রাক্তন সিএসপি (CSP) কর্মকর্তা, যিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন। একই সময়ে তাঁর আরও দুই ভাই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে শাহাদাতবরণ করেন। শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে মাসুদ রানা সুইট আজীবন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে চলেছেন। তিনি কর্মজীবনে অত্যন্ত সফল ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান ‘এম এস মাসুদ রানা বিল্ডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী হিসেবে তিনি সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রথম শ্রেণীর তালিকাভুক্ত ঠিকাদার ছিলেন। এছাড়া তিনি একজন সফল আমদানিকারক, সরবরাহকারী এবং রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্মানিত সদস্য ছিলেন। ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি হযরত শাহ মখদুম রূপোশ (র.) দরগাহ শরীফের সরকারি ট্রাস্টি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। গণমাধ্যমের প্রতি তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ। ১৯৯৬ সালে বগুড়া থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক চাঁদনী বাজার’ পত্রিকায় রাজশাহীর দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা শুরু হয়। পরবর্তীতে তাঁর সন্তানের স্বপ্ন পূরণে তিনি জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘সংবাদ ২৪ ঘণ্টা’ এবং ‘দৈনিক স্বপ্নের বাংলাদেশ’ পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। একই সাথে তিনি রাজশাহীর সাংবাদিকদের ঐক্য ও কল্যাণের লক্ষ্যে ‘গ্রীন সিটি প্রেস ক্লাব’ প্রতিষ্ঠা করেন। গত বছরের (২০২৫ সালের) ৭ আগস্ট আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এই মহান ব্যক্তিত্ব শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান আবুল হাসনাত অমি এবং কন্যা নাফিসা মাহজাবিন রাইসাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ও ৬৬তম জন্মবার্ষিকী প্রসঙ্গে সন্তান আবুল হাসনাত অমি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "৭ আগস্ট আমার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার ও কষ্টের দিন। এই দিনটি যে আমাদের জীবনে এভাবে আসবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি। বাবার এই আকস্মিক চলে যাওয়া আমরা কোনোদিনই মেনে নিতে পারব না। তিনি শুধু আমার বাবাই ছিলেন না, ছিলেন আমার পথপ্রদর্শক ও ছায়ার মতো অভিভাবক। আজ তাঁর জন্মদিনে আমরা দেশবাসীর কাছে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া চাচ্ছি।" মরহুমের ৬৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ তাঁর পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং গ্রীন সিটি প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।