কাহালু পৌর বাজারের বহুতল ভবন নির্মাণে ধীরগতি, চরম দুর্ভোগ
কাহালু পৌর বাজারের বহুতল ভবন নির্মাণে ধীরগতি, চরম দুর্ভোগ
সংবাদ ২৪ ঘন্টা
১৮ জুন ২০২৬
বগুড়ার কাহালু পৌর হাট ও বাজারে নির্মাণাধীন দ্বিতল ভবনের কাজ নির্ধারিত সময়ের এক বছর পরও শেষ না হওয়ায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘসূত্রিতা, অপরিকল্পিত কাজ এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কাহালু পৌর হাট ও বাজারে দ্বিতল ভবন নির্মাণের কাজ পায় সিরাজগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স অক্কান এন্টারপ্রাইজ। প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার ৫৪৮ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ১৩ মে ২০২৪ এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২৯ মে ২০২৫। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে আরও প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কাজের প্রায় ৮০ শতাংশও সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পুরাতন হাটসেট অপসারণের পর থেকে বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নির্মাণাধীন ভবনের টয়লেটের কাজ সম্পূর্ণ না করেই তা ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ থাকায় ভবনের পাশে পানি জমে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিভিন্ন রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভবনের চারপাশে খনন করা গভীর গর্ত দীর্ঘদিন অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রাতের বেলায় নির্মাণাধীন ভবন এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনাও দেখা যায় বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
স্থানীয় মৎস্য ও পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান আকন্দ অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক জাহিদ হাসান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কাজটি গ্রহণ করেন। সময়মতো বিল উত্তোলন করলেও কাজ শেষ না করে ফেলে রেখেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংযোগ ব্যবহার করা হলেও সেই বিল এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া শ্রমিক, মিস্ত্রি ও রান্নার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পাওনাও বকেয়া রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক জাহিদ হাসান। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি বর্তমানে অন্য কাজে বাইরে আছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়।”
এ বিষয়ে কাহালু উপজেলা প্রকৌশলী মুক্তার হোসেন খান বলেন, “ঠিকাদার জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের কাজ ঝুলে থাকায় দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানিয়েছেন কাহালু পৌর এলাকার ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা।
শেয়ার করুন
বস্তনিষ্ঠ সংবাদের একমাত্র অনলাইন ঠিকানা