কীটনাশক ও নিষিদ্ধ উপকরণে বিপন্ন জলজ প্রাণবৈচিত্র্য
কীটনাশক ও নিষিদ্ধ উপকরণে বিপন্ন জলজ প্রাণবৈচিত্র্য
সংবাদ ২৪ ঘন্টা
১৭ জুন ২০২৬
জলাভূমিতে নির্বিচারে কীটনাশক ও নিষিদ্ধ উপকরণের ব্যবহারে জলজ প্রাণবৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বক্তারা। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনসহ পুরো পরিবেশব্যবস্থা বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে “জলাভূমিতে কীটনাশক ও নিষিদ্ধ উপকরণের ব্যবহার: জলজ প্রাণবৈচিত্র্যের বিলুপ্তি” শীর্ষক এক সংলাপে এসব কথা বলা হয়। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও আটপাড়া গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির যৌথ আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনূর আলম। সভাপতিত্ব করেন আটপাড়া গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির সভাপতি সাজেদুর রহমান সেলিম। এতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহফুজা খান, মৎস্য কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ওমর ফারুকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
প্রারম্ভিক বক্তব্যে বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. অহিদুর রহমান জলাভূমিতে কীটনাশক ও ক্ষতিকর উপকরণের ব্যবহারের ভয়াবহ প্রভাব তুলে ধরেন। সংলাপের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুব সংগঠক তাজিম রহমান রাকিব। তিনি বলেন, “জলাভূমি থাকলেই জীববৈচিত্র্য টিকে থাকে। নদী ও জলাভূমি ধ্বংস হলে প্রকৃতির ভারসাম্যও নষ্ট হয়ে যায়। জলাভূমি রক্ষা মানেই বাস্তুতন্ত্র রক্ষা।”
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহফুজা খান বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে শুধু ক্ষতিকর পোকাই নয়, উপকারী পোকামাকড়ও ধ্বংস হচ্ছে। এতে পরাগায়ন ব্যাহত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সাংবাদিক সৈয়দ মাকসুদুল হক বলেন, “চায়না দুয়ারি জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের ফলে মাছের ডিম, পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণ ধ্বংস হচ্ছে। পাশাপাশি বিষটোপ হিসেবে অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড, গ্যাস ট্যাবলেট, রোটেনন, ল্যাম্বডা সাইহ্যালোথ্রিন ও গ্লাইফোসেটের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংস করছে।”
বক্তারা বলেন, দেশে আশঙ্কাজনক হারে উপকারী কীটপতঙ্গ ও জলজ প্রাণ কমে যাচ্ছে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি, বিষমুক্ত বিকল্প পদ্ধতির উদ্ভাবন এবং কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংলাপ শেষে উপজেলা চত্বরে জলজ প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও মানববন্ধনের মাধ্যমে কীটনাশক ও নিষিদ্ধ উপকরণের ব্যবহারের প্রতিবাদ জানানো হয়।
শেয়ার করুন
বস্তনিষ্ঠ সংবাদের একমাত্র অনলাইন ঠিকানা