অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা, রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের সুপারিশ
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা, রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের সুপারিশ
সংবাদ ২৪ ঘন্টা
১৩ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান ও তার স্ত্রী নিশাত তামান্নার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুই মামলাকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক দাবি করে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের সুপারিশ বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের বাছাই কমিটিতে রয়েছে। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তারা বলছেন, এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা মতামত চাওয়া হয়নি। তবে রাজশাহীর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. রইসুল ইসলাম মামলাগুলো প্রত্যাহারের সুপারিশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট:
দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১ জুন আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন। পরদিন ২ জুন একই অভিযোগে তার স্ত্রী নিশাত তামান্নার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করা হয়।
তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৩০ আগস্ট শেখ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯১১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
একই দিনে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৬৮ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক চার্জশিট দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান নিজে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তার স্ত্রীও একইভাবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা দুর্নীতি দমন আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।
সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পরে উচ্চ আদালতের আদেশে তারা জামিন পান।
এ ঘটনায় আরডিএ কর্তৃপক্ষ কামরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়।
আরও জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলে গেলে অভিযুক্ত প্রকৌশলী বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান এবং পরবর্তীতে বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার হয়।
মামলা প্রত্যাহারের আবেদন ও সুপারিশ:
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়। আবেদনে শেখ কামরুজ্জামান নিজেকে জাতীয়তাবাদী প্রকৌশলী সংগঠন (অ্যাব)-এর নেতা এবং তার স্ত্রীকে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেত্রী হিসেবে দাবি করেন। তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কারণে তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে।
জেলা পর্যায়ের যাচাই-বাছাই শেষে গত মার্চে তৎকালীন জেলা প্রশাসক আফিয়া আকতারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি আইন মন্ত্রণালয়ে মামলা দুটি প্রত্যাহারের সুপারিশ পাঠায়। কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার ও পাবলিক প্রসিকিউটর সদস্য হিসেবে ছিলেন।
তবে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন। জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তাও বিষয়টি নিয়ে অস্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন।
দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল বারী জানান, মামলাগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং প্রত্যাহারের বিষয়ে দুদককে কোনো ধরনের অবহিত করা হয়নি বা মতামতও চাওয়া হয়নি।
অ্যাডভোকেট মো. রইসুল ইসলাম বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে মামলাগুলোকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বিবেচনা করে জেলা কমিটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পর আদালত থেকে মামলাগুলো প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
সূত্র জানায়, অভিযুক্ত প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামানের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার বারখাদা এলাকায়। তার স্ত্রী নিশাত তামান্না রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানার পবা নতুনপাড়ার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য নূরুল ইসলামের কন্যা।
এছাড়া আরডিএ সূত্রে জানা যায়, কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে চাকরি প্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় অনিয়ম সংক্রান্ত আরও একটি দুর্নীতির মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।#
শেয়ার করুন
বস্তনিষ্ঠ সংবাদের একমাত্র অনলাইন ঠিকানা