রাজশাহী বিভাগে কোরবানি পশুর বাজার ২০ হাজার কোটি টাকা
রাজশাহী বিভাগে কোরবানি পশুর বাজার ২০ হাজার কোটি টাকা
সংবাদ ২৪ ঘন্টা
২৪ মে ২০২৬
কোরবানির ইদকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় এবার ৪৩ লাখের বেশি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। তবে এই বিভাগে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ২৪ লাখের বেশি। উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ১৯ লাখ পশু। এর মধ্যে শুরু হয়েছে বিভিন্ন হাটে কেনাবেচা। তবে হাটগুলোও এখনও সেভাবে জমে উঠেনি।
এসব পশু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হবে। বিভাগের নওগাঁ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় গবাদিপশুর উৎপাদন সবচেয়ে বেশি। গরু পাচার ঠেকাতে সীমান্তে তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে বিজিবি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার কোরবানির পশু কেনাবেচায় রাজশাহী বিভাগের অর্থনীতিতে যোগ হবে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর বাইরে রয়েছে চামড়া শিল্পের বিশাল বাজার। তবে খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, সীমান্ত দিয়ে ওপার থেকে গরু পাচার হয়ে আসতে পারে।
রাজশাহী বিভাগের সব জেলাতেই বাড়ি বাড়ি গরু-ছাগল পালন করা হয় বাণিজ্যিকভাবে। অনেকেই নতুন করে খামার গড়ে তুলেছেন। কোরবানির জন্য বাইরের গরু-ছাগলের চাহিদা প্রায় শূন্যের কোটায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি খামারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানও হয়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। এই অতিরিক্ত পশু রাজধানীসহ দেশের অন্য অঞ্চলের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।
একসময় সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের হাটগুলোতে ভারতীয় গরুর আধিপত্য ছিল। তবে সীমান্তে কঠোর নজরদারির কারণে গত কয়েক বছরে সেই প্রবণতা বন্ধ হয়েছে। এতে স্থানীয়ভাবে গবাদিপশু পালনে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় কোরবানিযোগ্য পশু আছে ৪৩ লাখ ৫ হাজার ৬২৮টি। চাহিদা আছে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৮৯ টি। উদ্বৃত্ত থাকবে থাকবে ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৫৩৯টি। বিভাগের দুই লাখ ২৪ হাজার ৪৮৩টি ছোট ও বড় খামারে কোরবানিযোগ্য পশুর লালনপালন করা হয়েছে। বিভাগে মোট ৩০২টি হাটে এবার পশু কেনাবেচা করা হবে।
রাজশাহী জেলায় খামার আছে ২৬ হাজার ২৩৪টি। এর মধ্যে গরু আছে এক লাখ চার হাজার ৮৪১টি, ছাগল আছে তিন লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি ও ভেড়া আছে ৪৩ হাজার ৪০৬টি। চার লাখ ৬৩ হাজার পশু থাকলেও চাহিদা তিন লাখ ৭১ হাজার। নাটোর জেলায় খামার আছে ২০ হাজার ৩৭৪টি। এর মধ্যে গরু আছে এক লাখ ১৮ হাজার ৫০৫টি, ছাগল তিন লাখ ২০ হাজার ৩৭১টি ও ভেড়া আছে ৩৪ হাজার ৩৮টি। চার লাখ ৭৫ হাজার পশু থাকলেও চাহিদা দুই লাখ ৭৪ হাজার ৬১১টি। নওগাঁ জেলায় খামার আছে ৩৮ হাজার ৯০৯টি। এর মধ্যে গরু আছে দুই লাখ ১১টি, ছাগল আছে পাঁচ লাখ ১৪ হাজার ৮৪০টি ও ভেড়া আছে ৮০ হাজার ১৩৯টি। ৭ লাখ ৯৭ হাজার ৫১৫টি পশু থাকলেও চাহিদা আছে তিন লাখ ৮৬ হাজার ৮৩৭টি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় খামার আছে ১৩ হাজার ৯৪২টি। এর মধ্যে গরু আছে এক লাখ ১৭ হাজার ১০টি, ছাগল ৮৪ হাজার ৮০১টি ও ভেড়া আছে ১২ হাজার ৯২২টি। দুই লাখ ১৫ হাজার ২৪৪টি পশু থাকলেও চাহিদা আছে এক লাখ ২১ হাজার ২০২টি। পাবনা জেলায় খামার আছে ৩৩ হাজার ৪০টি। এর মধ্যে গরু আছে দুই লাখ ছয় হাজার ৪০৫টি, ছাগল আছে তিন লাখ ৭৯ হাজার ১৭৭টি ও ভেড়া আছে ৬২ হাজার ৩৮৫টি। ছয় লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮ পশু থাকলেও চাহিদা আছে তিন লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি।
সিরাজগঞ্জ জেলায় খামার আছে ১৭ হাজার ৬৮টি। এর মধ্যে গরু আছে এক লাখ ৯৯ হাজার ৯২৪টি, ছাগল আছে তিন লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০টি ও ভেড়া আছে ৪৭ হাজার ৭২৪টি। ছয় লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি পশু থাকলেও চাহিদা আছে দুই লাখ ৯৩ হাজার ৬৭৬টি। বগুড়া জেলায় খামার আছে ৫১ হাজার ৭৬৪টি। এর মধ্যে গরু আছে তিন লাখ ২০ হাজার ৭৮৪টি, ছাগল আছে তিন লাখ ৮৫ হাজার ৫৬৯টি ও ভেড়া আছে ৪৮ হাজার ২৯টি। সাত লাখ ৫৬ হাজার ৫৩৭টি পশু থাকলেও চাহিদা আছে চার লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০টি। জয়পুরহাট জেলায় খামার আছে ২৩ হাজার ১৫২টি। এর মধ্যে গরু আছে এক লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৪টি, ছাগল এক লাখ ৩৬ হাজার ২৯১টি ও ভেড়া আছে ৫০ হাজার ৯০টি। তিন লাখ ২৬ হাজার ৫৭৩টি পশু থাকলেও চাহিদা আছে দুই লাখ তিন হাজার ৫৫৩টি।
রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতোয়ার রহমান বলেন, এবার সিদ্ধান্ত হয়েছে পাচার রোধে সীমান্তে কোনো পশুর হাট স্থাপন করা হবে না। সেই সঙ্গে ভারত থেকে গরু পাচার হয়ে আসা ঠেকাতে তৎপর থাকবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আনন্দ কুমার অধিকারী বলেন, আশা করি ভোক্তারা যেমন ন্যায্যমূল্যে কোরবানির পশু কিনতে পারবেন, তেমনি খামারি বা ব্যবসায়ীরাও ন্যায্যমূল্য পাবে গবাদিপশু বিক্রিতে।
শেয়ার করুন
বস্তনিষ্ঠ সংবাদের একমাত্র অনলাইন ঠিকানা