রাজশাহীতে দুই সন্তানের মুখে অন্ন জোগাতে এক মায়ের লড়াই, মেলেনি মুক্তমঞ্চে বসার জায়গা
রাজশাহীতে দুই সন্তানের মুখে অন্ন জোগাতে এক মায়ের লড়াই, মেলেনি মুক্তমঞ্চে বসার জায়গা
সংবাদ ২৪ ঘন্টা
১৮ জুন ২০২৬
মাদকাসক্ত স্বামীর উদাসীনতা ও পারিবারিক টানাপোড়েনের মুখে দুই সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন রাজশাহী মহানগরীর কোর্ট মোল্লাপাড়া এলাকার এক গৃহবধূ। সন্তানদের মুখে দুমুঠো অন্ন জোগাতে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। তবে নগদ বিক্রির আশায় শহরের এক জনসমাগমস্থলে এসেও স্থানীয় বিক্রেতাদের বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহানগরীর কোর্ট মোল্লাপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় দুটি ছোট সন্তান নিয়ে বসবাস করেন ওই নারী। স্বামী কোনো খোঁজখবর না নেওয়ায় সংসার চালাতে তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনটি বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। এরপর বাসায় ফিরে সন্তানদের জন্য রান্নাবান্না ও খাওয়াদাওয়া শেষে প্রতিদিন বিকেলে দুই থেকে তিন কেজি বাদাম, ছোলা ও মটরদানা ভেজে তা বিক্রির জন্য বের হন।
এতদিন পায়ে হেঁটে বিভিন্ন পাড়ায় ঘুরে এগুলো বিক্রি করলেও অধিকাংশ ক্রেতাই বাকিতে পণ্য নিতেন। সংসারের নিত্যদিনের খরচ মেটাতে নগদ টাকার প্রয়োজনে গত শনিবার তিনি নগরীর মুক্তমঞ্চ এলাকায় আসেন। তবে সেখানে বসার পর স্থানীয় স্থায়ী বাদাম বিক্রেতাদের বাধার মুখে পড়েন তিনি। জনসমাগমস্থলে বসতে না পেরে বাধ্য হয়ে ওপরের রাস্তার একটি কোণায় বসে বাদাম ও ছোলা বিক্রি শুরু করেন।
গত শনিবার রাত ৯টার দিকে ওই স্থানে বসে থাকা অবস্থায় ওই নারীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, তখন পর্যন্ত মাত্র দেড়শ টাকার বাদাম ও ছোলা বিক্রি করতে পেরেছেন তিনি। ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আগে জানতাম না এরা এখানে বসতে দেবে না। জানলে গাড়িভাড়া দিয়ে এতদূর থেকে আসতাম না। এখন দেখছিস এসে লোকসান হবে।"
একদিকে পরিবারের টিকে থাকার লড়াই, অন্যদিকে প্রান্তিক এই বিক্রেতাদের ওপর স্থানীয় সিন্ডিকেটের এমন আচরণ সমাজে বিদ্যমান নানামুখী বৈষম্য ও প্রতিবন্ধকতার চিত্রকে ফুটিয়ে তোলে।
(সংবাদ প্রকাশে সংশ্লিষ্ট নারীর আপত্তি থাকায় প্রতিবেদনে তাঁর নাম ও সুনির্দিষ্ট পরিচয় প্রকাশ করা হলো না।)
শেয়ার করুন
বস্তনিষ্ঠ সংবাদের একমাত্র অনলাইন ঠিকানা