সমাধানের ড্রেনই যখন ‘গলার কাঁটা’! রাজশাহীর ডাঁশমারী সড়কে ৫ বছর ধরে নরকযন্ত্রণা
সমাধানের ড্রেনই যখন ‘গলার কাঁটা’! রাজশাহীর ডাঁশমারী সড়কে ৫ বছর ধরে নরকযন্ত্রণা
সংবাদ ২৪ ঘন্টা
৩১ মে ২০২৬
জনসাধারণের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয়েছিল সংযোগ ড্রেন (পকেট ড্রেন)। কিন্তু অপরিকল্পিত কাজের খেসারত হিসেবে সেই ড্রেনই এখন স্থানীয় জনজীবনে চরম ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজের কারণে সড়কটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানাধীন ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডাঁশমারী এলাকার মালেকের মোড় থেকে খোঁজাপুর গোরস্তানের মোড় পর্যন্ত প্রায় ৮০০ ফুট সড়কে দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী।
‘সংবাদ ২৪ ঘণ্টা’–এর অনুসন্ধানে আজ ৩১ মে (রবিবার) জানা গেছে, ৮০০ ফুটের এই সংক্ষিপ্ত অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির মধ্যে অন্তত ৫টি পকেট ড্রেনের সংযোগ রয়েছে। তৎকালীন কাউন্সিলরের দূরদর্শিতাহীন ও পরিকল্পনাহীন কাজের কারণে এই সংযোগ ড্রেনগুলো মূল সড়ক থেকে প্রায় এক ফুট উঁচুতে অবস্থান করছে। ফলে পুরো রাস্তাটি এখন মারাত্মক প্রতিবন্ধকতায় রূপ নিয়েছে।
সড়কের এমন বেহাল দশার কারণে অটোরিকশা, রিকশাসহ ভাড়ায় চালিত কোনো যানবাহনই এই রুটে চলাচল করতে চায় না। বাধ্য হয়ে কোনো চালক রাজি হলেও যাত্রীদের গুণতে হয় দ্বিগুণ ভাড়া। এতে করে অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ নিত্যদিনের চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, এই সড়কের মাঝখানেই বসবাস করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম সদর এবং মতিহার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বাবু। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতে গিয়ে ওনাদেরও প্রতিদিন একই ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর আশা, মতিহার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বাবু যেহেতু বর্তমান রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের অত্যন্ত আস্থাভাজন, তাই তাঁর মাধ্যমে সড়কটির দ্রুত সমাধান সম্ভব। এই রাজনৈতিক নেতৃত্বের কার্যকর উদ্যোগ ও সদিচ্ছার মাধ্যমে বর্তমান রাসিক প্রশাসক যেন অতি দ্রুত সড়কটির সংস্কার এবং অপরিকল্পিত উঁচু ড্রেনগুলো ভেঙে সমতল করার ব্যবস্থা নেন—এটাই এখন ডাঁশমারী এলাকাবাসীর জোরালো দাবি।
শেয়ার করুন
বস্তনিষ্ঠ সংবাদের একমাত্র অনলাইন ঠিকানা