জানালেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১৫০ শয্যার
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতালে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে সেবার মান বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহীর একটি তারকা হোটেলে ইউনিসেফের সহযোগিতায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর আয়োজিত ‘সমন্বিত ইপিআই, এইচপিভি ভ্যাকসিনেশন, ই ট্রাকার এবং সামগ্রিকভাবে রাজশাহী বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মসূচির বিভাগীয় পর্যালোচনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতের পুনর্গঠন ও চিকিৎসা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট সংস্কার কর্মসূচি ও বাজেট বৃদ্ধি করেছে। জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা, স্বাস্থ্যসেবার ডিজিটাল রূপান্তর এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। সমন্বিত উদ্যোগের ফলে এ কর্মসূচির আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী, সিভিল সার্জন, ইউএইচএফপিও ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ইপিআই ও এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখতে হবে। টিকাদানে শিথিলতা সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়াতে পারে। শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে নিয়মিত টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
সাভারে একটি আধুনিক হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য প্রশাসকদের বাজেট ব্যবস্থাপনা, ই-জিপি, মানবসম্পদ পরিচালনা ও ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বদলি ও পদায়ন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, ই-হেলথ অটোমেশন চালুর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে নির্ভুল জন্মনিবন্ধন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে টিকাদান কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যতথ্য সংগ্রহে তাদের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত রোগ নির্ণয়ের সুযোগ বাড়াতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ এবং অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে এনসিডি কর্নার শক্তিশালী করার কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে জনবলসংকট নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী বিভাগের যে-সব জেলায় স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি, সেসব ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি বাধা নিরসন করে শূন্যপদ পূরণে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। চিকিৎসক পদায়নে আঞ্চলিক সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি চিকিৎসকদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনই স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে গণমাধ্যমকর্মীদের গঠনমূলক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার রেজাউল আলম সরকার, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম এবং ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ।
বস্তনিষ্ঠ সংবাদের একমাত্র অনলাইন ঠিকানা