অফিশিয়াল প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় সচিবালয়
মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের গুঞ্জন: এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি?
মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের গুঞ্জন: এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি?
সংবাদ ২৪ ঘন্টা
১৩ আগ ২০২৬
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর সরকারের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের দপ্তর পুনর্বণ্টন ও রদবদলের আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ দুই দপ্তর—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পরিবর্তনের তীব্র গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
সচিবালয় ও রাজনৈতিক মহল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আর তাঁর জায়গায় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থলাভিষিক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দাপ্তরিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরপরই তিনি সরকারের এলজিআরডি মন্ত্রীর পদ এবং দলের মহাসচিবত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়টি খালি হওয়ার পরেই শুরু হয় নতুন দায়িত্ব বণ্টনের তোড়জোড়।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সালাহউদ্দিন আহমদ সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকারের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে তাঁকে আনা হলে দেশের গ্রামীণ ও নগর অবকাঠামো এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে, বিএনপির দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বর্তমানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। অতি সম্প্রতি তিনি 'বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল, ২০২৬' সংসদে উত্থাপনসহ নীতিগত কাজে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনা হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ প্রশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর খাত সামলানোর দায়িত্ব তাঁর কাঁধে পড়বে।
সম্ভাব্য দপ্তর পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “আমি যেখানে আছি এখানেই ভালো আছি। এখানে বেশ কয়েকটি বড় কাজ রয়েছে যা দেশের উন্নয়নে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয় বণ্টনে কোনো পরিবর্তন আনবেন কি না, তা আমার জানা নেই।”
মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য এই রদবদলের পাশাপাশি বিএনপির শীর্ষ সাংগঠনিক কাঠামোতেও পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর রুহুল কবির রিজভী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। সেক্ষেত্রে তাঁর বর্তমান পদে হাবিব উন নবী খান সোহেল বা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের আসার আলোচনা রয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা যাই থাক না কেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের ওপর।
শেয়ার করুন
বস্তনিষ্ঠ সংবাদের একমাত্র অনলাইন ঠিকানা