মেগা প্রকল্পে উপকৃত হবেন ৭ কোটি মানুষ

পদ্মা ব্যারাজ: পানি নিরাপত্তা, খাদ্য উৎপাদন ও জলবায়ু সহনশীলতার কৌশলগত দুয়ার

জাতীয় ডেক্স প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১২ পিএম আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম ৪ বার পঠিত
পদ্মা ব্যারাজ: পানি নিরাপত্তা, খাদ্য উৎপাদন ও জলবায়ু সহনশীলতার কৌশলগত দুয়ার

পদ্মা ব্যারাজ: পানি নিরাপত্তা, খাদ্য উৎপাদন ও জলবায়ু সহনশীলতার কৌশলগত দুয়ার

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
০৩ আগ ২০২৬
প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পকে বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা, কৃষির উন্নয়ন এবং জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন পলিসি এনালিস্ট, শিক্ষাবিদ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন’ (আইজিসিএফ) আয়োজিত ‘পদ্মা ব্যারাজ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লোনা পানির অনুপ্রবেশ ঠেকানো, টেকসই সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং তথ্যভিত্তিক সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াবে ১ শতাংশ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বর্ষায় অতিরিক্ত পানি আর শুষ্ক মৌসুমে তীব্র সংকট—এটিই বাংলাদেশের পানিসম্পদের মূল চ্যালেঞ্জ। ১৯৭৭ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি ছিল এ ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক, কিন্তু পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়নের দুর্বলতায় অনেক উদ্যোগ থমকে যায়। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের নীতিগত স্থবিরতা কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় আধুনিক চাহিদা অনুযায়ী পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প পুনর্নকশা করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ০.৫ থেকে ১.০ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি যুক্ত হবে এবং সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপ নয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ জানান, পদ্মা ব্যারাজ ছিল সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মেগা প্রকল্প। দ্রুততম সময়ে এটি বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের পানি ব্যবস্থাপনায় আমরা কোনো বাইরের হস্তক্ষেপ মেনে নেব না। দেশের মানুষের কল্যাণে পানি সম্পর্কিত যেকোনো সংকট ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে সরকার।” ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ব্রহ্মপুত্রে চীনের প্রকল্প ফাংশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (এফএসডিএস) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর প্রকল্পটির ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এর সাফল্যের জন্য জরুরি। একই সাথে ব্রহ্মপুত্র নদে চীনের ৬৫ হাজার মেগাওয়াটের বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের আঞ্চলিক পরিস্থিতির নিরিখে বাংলাদেশের ভাটির স্বার্থ রক্ষায় পদ্মা ব্যারাজ এখন এক কৌশলগত বাধ্যবাধকতা। ৩৪,৪৯৭ কোটি টাকার নিজস্ব অর্থায়ন আইজিসিএফ চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান শাওন জানান, গত ১৩ মে সরকার সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পের প্রথম পর্যায় অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পের সরাসরি সুবিধা পাবে ৪টি বিভাগের ১৯টি জেলা, যার মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। এটি সেচ সুবিধার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ, পলি ব্যবস্থাপনা এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আলোচনার মডারেটর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দীকী বলেন, পুরোনো অবকাঠামোর কারণে পর্যাপ্ত পানি থাকা সত্ত্বেও পদ্মা থেকে গড়াই নদীতে প্রয়োজনীয় পানি প্রবাহিত হতে পারে না। বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পানির সংস্থান ও নদীর সংযোগ পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. নূরুল ইসলাম, জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।