৩৫ বছর পর দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন; নতুন মহাসচিব ও মন্ত্রী নিয়ে রাজনীতিতে তুমুল আলোচনা

রাষ্ট্রপতির পদে মির্জা ফখরুল: খালি হচ্ছে বিএনপির শীর্ষ পদ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়

জাতীয় ডেক্স প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম ২ বার পঠিত
রাষ্ট্রপতির পদে মির্জা ফখরুল: খালি হচ্ছে বিএনপির শীর্ষ পদ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়

রাষ্ট্রপতির পদে মির্জা ফখরুল: খালি হচ্ছে বিএনপির শীর্ষ পদ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
১৩ আগ ২০২৬
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের নীতি নির্ধারণী বৈঠকের পর তাঁর নাম নিশ্চিত করা হয়। একই সাথে তিনি দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে দুপুরে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, “আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনোনয়ন পেয়েছেন।” মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে মির্জা ফখরুল দলীয় মহাসচিব ও মন্ত্রিত্ব উভয় দায়িত্ব থেকেই সরে দাঁড়ালেন। এর ফলে বিএনপির শীর্ষ সাংগঠনিক পদের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও নতুন মুখ আসার বিষয়টি নিশ্চিত হলো। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মূল সাংগঠনিক হাল ধরে রেখেছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১১ সালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং তারেক রহমানের প্রবাসে অবস্থানকালে কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি দলীয় নেতৃত্ব দেন। মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম আলোচনায় শীর্ষে রয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে আপাতত একজন ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন। নির্বাচনে অংশ না নেওয়া ও মন্ত্রিসভায় না থাকায় রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাবনা নিয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদে কাকে স্থলাভিষিক্ত করা হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট ছিল রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। বিএনপির মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্রও জমা পড়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১৬ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলে তাঁর সংসদীয় আসন (ঠাকুরগাঁও-১) শূন্য ঘোষণা করে সেখানে উপনির্বাচন দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আইন অনুযায়ী মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতির প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ায় প্রায় ৩৫ বছর পর দেশে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলো।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।