জননিরাপত্তা, অপরাধ দমন ও পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে বহুমুখী উদ্যোগ
মানবিক নেতৃত্বে আস্থার প্রতীক আরএমপি কমিশনার ফয়েজুল কবির
রাজশাহী মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মানবিক পুলিশিংয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপনে কাজ করছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। সততা, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও জনবান্ধব কর্মপরিকল্পনার সমন্বয়ে তাঁর নেতৃত্বে মহানগর পুলিশের সেবামূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে আরএমপির ৩৪তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক ও সন্ত্রাস দমন, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি। পেশাগত দক্ষতা ও সেবামূলক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অর্জন করেছেন মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা)।
গত ২১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সাহসিকতা, বীরত্ব, সেবায় বিশেষ অবদান এবং চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পদকে ভূষিত করা হয়।
পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে মানবিক উদ্যোগ
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের দৃষ্টিভঙ্গিতে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ ও মানসিক সুস্থতা জনসাধারণকে মানসম্মত সেবা দেওয়ার অন্যতম পূর্বশর্ত। এ উপলব্ধি থেকেই বাহিনীর সদস্যদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সমস্যা সমাধানে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে অনুষ্ঠিত মাসিক কল্যাণ সভায় পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা ও অসুবিধার কথা মনোযোগসহকারে শোনেন তিনি। সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য প্রতিটি থানায় খেলাধুলার সরঞ্জাম সরবরাহের নির্দেশনা দেন।
এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করে বিদায় জানানোর উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাহিনীর সাবেক সদস্যদের প্রতিও সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
রাজশাহী মহানগরীকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন পুলিশ কমিশনার।
গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ অনুষ্ঠিত অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর নির্দেশনায় গত চার মাসে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা, মতিহার, বেলপুকুর ও শাহমখদুমসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০০টি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই বলে তাঁর অবস্থান। মাদক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশি নজরদারি জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় দৃঢ় পদক্ষেপ
নগরীর ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও রয়েছে পুলিশ কমিশনারের বিশেষ উদ্যোগ। গত ৫ জুলাই ২০২৬ রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা ও নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা, চাঁদাবাজি ও হয়রানি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন পুলিশ কমিশনার। সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর ও আরডিএ মার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ীরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
কোনো ব্যক্তি বা চক্র চাঁদাবাজির চেষ্টা করলে দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা সংশ্লিষ্ট বিট পুলিশিং নম্বরে যোগাযোগের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ, চুরি-ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ এবং যানজট নিরসনেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
নারী ও শিশুর নিরাপত্তায় বিশেষ উদ্যোগ
নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং নির্যাতনের শিকার শিশুদের মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে আরএমপি।
গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ আরএমপি ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সাইকোসোশ্যাল কেয়ার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন পুলিশ কমিশনার। প্রশিক্ষণে মহানগরীর ছয়টি থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের ৩০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় তিনি বলেন, শিশুর মনে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পারলে তারা নির্ভয়ে নিজেদের কথা বলতে পারবে। এর মাধ্যমে তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে জানা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সহজ হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও আরএমপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ২০ ও ২১ অক্টোবর ২০২৬ নগরীর ১০৯টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আরএমপি। সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকিতে পুলিশ কমিশনার নিজেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের মতে, এবারের পূজায় নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে পুলিশের তৎপরতা ছিল প্রশংসনীয়।
রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে সক্রিয় নেতৃত্ব
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও সামাজিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে আরএমপি। প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে সফর নির্বিঘ্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মহানগর পুলিশ।
এ ছাড়া গত ৯ অক্টোবর শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘অমনিভার্স সায়েন্স ফেস্ট-২০২৬’-এ অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও উদ্ভাবনী প্রজন্ম হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান পুলিশ কমিশনার।
নগরীর প্রতিটি থানায় জিরো কমপ্লেইন ইউনিট, বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও তাঁর জনবান্ধব কর্মপরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা থেকে শুরু করে নাগরিক নিরাপত্তা, অপরাধ দমন, ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে রাজশাহী মহানগর পুলিশকে আরও জনমুখী ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। তাঁর নেতৃত্বে গৃহীত এসব উদ্যোগের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন নগরবাসীর নিরাপত্তা ও পুলিশি সেবার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
বস্তনিষ্ঠ সংবাদের একমাত্র অনলাইন ঠিকানা