১০ লাখ টাকায় বেআইনি সালিশ ও ভুক্তভোগীর অন্তর্ধানে গভীর উদ্বেগ; ধর্ষক ও মধ্যস্থতাকারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি

নান্দাইলে গণধর্ষণ ধামাচাপা ও তরুণী নিখোঁজ: ‘ইয়্যাস’-এর ৪ দফা দাবি, পিবিআই বা সিআইডি তদন্তের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০২ এএম আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪০ এএম ৩৯ বার পঠিত
নান্দাইলে গণধর্ষণ ধামাচাপা ও তরুণী নিখোঁজ: ‘ইয়্যাস’-এর ৪ দফা দাবি, পিবিআই বা সিআইডি তদন্তের আহ্বান

নান্দাইলে গণধর্ষণ ধামাচাপা ও তরুণী নিখোঁজ: ‘ইয়্যাস’-এর ৪ দফা দাবি, পিবিআই বা সিআইডি তদন্তের আহ্বান

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
১৬ আগ ২০২৬
ময়মনসিংহের নান্দাইলে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বেআইনি সালিশ বসিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া এবং ভুক্তভোগী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উন্নয়ন-গবেষণাধর্মী যুব সংগঠন ‘ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ - ইয়্যাস’। রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় এক ইমেইল বার্তায় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি মো. শামীউল আলীম শাওন ও সহসভাপতি ফাতেমা আলী মেঘলা যৌথভাবে এই বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মামলাটি অনতিবিলম্বে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অথবা অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর এবং অভিযুক্ত ধর্ষক ও বেআইনি সালিশকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। প্রকাশিত সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ইয়্যাস জানায়, গত ৩১ জুলাই রাতে নান্দাইলের একটি বাড়িতে ওই তরুণী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরদিন ১ আগস্ট পরিবারের পক্ষ থেকে নান্দাইল মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে ভুক্তভোগীকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশ বসিয়ে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিচারপ্রক্রিয়া রফাদফার অপচেষ্টা করেন, যার মধ্যে ৫ লাখ টাকা মধ্যস্থতাকারীরা নিজেরা পকেটে পুরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সালিশ বৈঠকের পর থেকেই ওই তরুণী নিখোঁজ রয়েছেন, যা তাঁর জীবন ও সুরক্ষার ওপর চরম হুমকি তৈরি করেছে। যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, "নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এবং মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী গণধর্ষণ একটি জামিনঅযোগ্য ও অ-আপসযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। রাষ্ট্রীয় আইনে যে অপরাধের কোনো আপসের সুযোগ নেই, সেখানে টাকার বিনিময়ে সালিশ বসানো সরাসরি বিচারব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সামিল। দণ্ডবিধি অনুযায়ী এ ধরনের বেআইনি সালিশকারীরা অপরাধে সহায়তা (Abetment) ও আলামত নষ্টের অভিযোগে সমানভাবে দায়ী।" তারা আরও উল্লেখ করেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ এবং জাতিসংঘের ‘সিডও (CEDAW)’ সনদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার সমান অধিকার স্বীকৃত। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও ভুক্তভোগী নিখোঁজ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় পুলিশের দায়িত্বহীন মনোভাব ও প্রশাসনিক ধীরগতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। নান্দাইলের এ ঘটনায় অনতিবিলম্বে ৪ দফা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ইয়্যাস: ১. বিশেষ স্কোয়াড গঠনে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার: আন্তর্জাতিক ভুক্তভোগী সুরক্ষা মানদণ্ড মেনে বিশেষ পুলিশি স্কোয়াড গঠনের মাধ্যমে নিখোঁজ তরুণীকে অনতিবিলম্বে জীবিত উদ্ধার ও তাঁর পরিবারের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ২. ধর্ষকদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার: এজাহারনামীয় ৫ আসামিকে বিলম্ব না করে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার সুনিশ্চিত করতে হবে। ৩. অবৈধ সালিশকারীদের বিচার: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে বেআইনি সালিশ বসানো ও অর্থ লেনদেনে জড়িত ফজলু, রাজ্জাক, কাসেম, অলি মেম্বার ও মোসলেমসহ সংশ্লিষ্টদের অপরাধের প্রত্যক্ষ সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার করতে হবে। ৪. পিবিআই বা সিআইডিতে তদন্ত হস্তান্তর: স্থানীয় থানা পুলিশের গাফিলতি ও অবহেলার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে মামলাটি অবিলম্বে পিবিআই (PBI) বা সিআইডির (CID) কাছে হস্তান্তর করতে হবে। বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, ভুক্তভোগীকে দ্রুত উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা না হলে জাতীয় ও সামাজিক মানবাধিকার সংস্থাসমূহকে সঙ্গে নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফোরামে বিষয়টি উত্থাপন এবং কঠোর নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।