গর্ভপাত ও অস্বীকৃতির পর ৮৩ হাজার টাকায় রফাদফার চেষ্টা; থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানাল পুলিশ

ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের প্রলোভনে গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণ, আপসের চেষ্টা ও পরিবারকে ভিটেছাড়ার হুমকি

সংবাদ ২৪ ঘন্টা প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫১ এএম আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম ৫ বার পঠিত
ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের প্রলোভনে গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণ, আপসের চেষ্টা ও পরিবারকে ভিটেছাড়ার হুমকি

ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের প্রলোভনে গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণ, আপসের চেষ্টা ও পরিবারকে ভিটেছাড়ার হুমকি

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
১৬ আগ ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক গার্মেন্টস কর্মীকে একাধিকবার ধর্ষণের পর তা ধামাচাপা দিতে অনৈতিক অর্থ লেনদেন ও পরিবারকে ভিটেমাটি ছাড়া করার হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ভূল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কচুবাড়ী নাপিত পাড়া এলাকায়। অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম (৩০) একই এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ২২ বছর বয়সী ওই তরুণীর সঙ্গে গ্রামে যাতায়াতের সূত্রে প্রতিবেশী শরিফুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে বিভিন্ন স্থানে এবং নিজ বাড়িতে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে শরিফুল। একপর্যায়ে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে শরিফুলের চাপে তিনি গর্ভপাত করাতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বিয়ের চাপ দিলে শরিফুল তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এবং সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী তরুণী বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নিজের পরিবারকে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত যুবক ও তার পরিবারের প্রভাবশালী সদস্যরা ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে চড়াও হয়। আইনি পদক্ষেপ বা মামলা করতে চাইলে তরুণীর পরিবারকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া ও ভিটেমাটি ছাড়া করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়। এই হুমকির পর থেকে লোকলজ্জা ও নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুক্তভোগী পরিবারটি অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, আইনি প্রক্রিয়ার দিকে না গিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম, ভুক্তভোগীর মামা আব্দুল মালেক, স্থানীয় মাতব্বর মানিক ও কুরবান আলী জোরপূর্বক ৮৩ হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি আপস করার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এই টাকার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। উপরন্তু, স্থানীয় নেতা ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কথা বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ২০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মামা আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম ফোন কেটে দেন। অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম গা-ঢাকা দেওয়ায় তার বাড়িতে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগীর মামা আব্দুল মালেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। আইনজীবীরা জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২০)-এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী বিয়ের মিথ্যা প্রলোভনে সম্মতি আদায় করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন সরাসরি ধর্ষণ হিসেবে গণ্য, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এছাড়া মামলা করতে বাধা দেওয়া বা ভিটেছাড়া করার হুমকি দেওয়াও পৃথক ফৌজদারি অপরাধ। ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেবে।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।