থানায় লিখিত অভিযোগের পরই তুলে নেওয়ার অভিযোগ; সালিশকারীদের পকেটে অর্ধেক টাকা, ভুক্তভোগীকে উদ্ধারে পুলিশি তৎপরতা।

নান্দাইলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১০ লাখ টাকায় ‘মীমাংসার’ চেষ্টা, সালিশের পর থেকেই তরুণী নিখোঁজ

জাতীয় ডেক্স প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪০ এএম ১৩ বার পঠিত
নান্দাইলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১০ লাখ টাকায় ‘মীমাংসার’ চেষ্টা, সালিশের পর থেকেই তরুণী নিখোঁজ

নান্দাইলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১০ লাখ টাকায় ‘মীমাংসার’ চেষ্টা, সালিশের পর থেকেই তরুণী নিখোঁজ

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
১৫ আগ ২০২৬
সংবাদ ২৪ ঘন্টা ডেস্ক: ময়মনসিংহের নান্দাইলে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মতো ভয়াবহ ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ স্থানীয় সালিশে ১০ লাখ টাকায় রফাদফার চেষ্টা করা হয়েছে। এই বিতর্কিত বৈঠকের পর থেকেই ভুক্তভোগী তরুণী নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবার কিংবা পুলিশ—কেউই তাঁর বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে পারছে না। প্রাপ্ত তথ্য ও অভিযোগ সূত্রের মতে, গত ৩১ জুলাই রাতে নান্দাইলের একটি বাড়িতে ওই তরুণী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে নান্দাইল মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আইনি ব্যবস্থা নিতে থানায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। পরে কোথাও তাঁর খোঁজ না পেয়ে পরিবার পুলিশকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানায়। আইনি প্রক্রিয়ার মাঝেই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে ওঠেন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাঁরা একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করে পুরো ঘটনাটি ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে রফাদফার চেষ্টা চালান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ওই সালিশ বৈঠকে ভুক্তভোগী পক্ষকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আর রফাদফার চুক্তিকৃত বাকি ৫ লাখ টাকা সালিশকারীদের নিজেদের কাছেই রাখা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর এক স্বজনও স্থানীয়ভাবে সালিশ বসার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। তাঁরা সাংবাদিক, পুলিশ ও কাজীর মাধ্যমে বিষয়টি আইনি ও সামাজিকভাবে মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বৈঠকে ফজলু, রাজ্জাক, কাসেম, অলি মেম্বার ও মোসলেমসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। সালিশে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে ফজলু দাবি করেন, তিনি সেখানে কেবল দর্শক হিসেবে ছিলেন এবং কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। অন্যদিকে অভিযুক্ত অলি মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তরুণীর নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবারের দাবি, ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং সালিশ বৈঠকের পর থেকেই তরুণীর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখেছে। তদন্তে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, এর মধ্যেই তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। ওসি আরও বলেন, ভুক্তভোগীর সরাসরি বক্তব্য ছাড়া ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা কিছুটা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তবে নিখোঁজ তরুণীকে উদ্ধারে পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং অবৈধ সালিশি বৈঠকের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংবাদ সূত্র: ভিউজ বাংলাদেশ (Views Bangladesh)

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।