জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় ৪৪ পুলিশ হত্যা: ফাইলবন্দি ২০ মামলা

জাতীয় ডেক্স প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম ৫ বার পঠিত
জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় ৪৪ পুলিশ হত্যা: ফাইলবন্দি ২০ মামলা

জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় ৪৪ পুলিশ হত্যা: ফাইলবন্দি ২০ মামলা

সংবাদ ২৪ ঘন্টা
০৩ আগ ২০২৬
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় নিহত ৪৪ জন পুলিশ সদস্যকে ঘিরে দায়ের করা ২০টি হত্যা মামলা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ফাইলবন্দি হয়ে আছে। নিহতদের স্বজনরা গত বছর দেশের বিভিন্ন থানায় এসব মামলা করলেও পুলিশ তা প্রকাশ্যে আনেনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ প্রশমন, নিহত সদস্যদের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নথিবদ্ধ করা এবং ভবিষ্যতে যেকোনো অপপ্রচার মোকাবিলা করার লক্ষ্যেই মূলত এসব মামলা রেকর্ড করে রাখা হয়েছিল। কেন করা হয়েছিল এসব মামলা? পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে বিভিন্ন ঘটনায় ৩ জন পরিদর্শক (ইনস্পেক্টর), ১১ জন উপ-পরিদর্শক (এসআই), ৭ জন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং এটিএসআই, নায়েক ও কনস্টেবল পদমর্যাদার ২৩ জনসহ মোট ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, আন্দোলনের পর রাজারবাগে কর্মরত সদস্যদের ক্ষোভ ও দাবির মুখেই মূলত ঘটনাগুলোকে এজাহারভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি তৎকালীন সরকারের পতনের পর পুলিশ নিহতের সংখ্যা নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। প্রকৃত তথ্য সংরক্ষণ ও ভবিষ্যতের আইনি বাধ্যবাধকতার কথা মাথায় রেখে মামলাগুলো নথিভুক্ত করা হয়েছিল। সুরক্ষা অধ্যাদেশ ও আইনি জটিলতা গত ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ অনুমোদন দেয়। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিরোধের সময় সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীরা আইনি সুরক্ষার আওতায় আসবেন। এর ফলে ওই সময়ের অনেক ফৌজদারি মামলার তদন্ত বা নতুন মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত আক্রোশ, লোভ বা সংকীর্ণ স্বার্থে সংঘটিত কোনো হত্যাকাণ্ড থাকলে তা এই দায়মুক্তির বাইরে থাকবে। ৪ আগস্টের এনায়েতপুর ও ৫ আগস্টের প্রাণহানি পুলিশের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। সেদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানা ও স্থাপনাকেন্দ্রে হামলায় ২৪ জন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারান, যা এক দিনে পুলিশের সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা। এর আগের দিন, ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় একযোগে ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। তাঁদের মধ্যে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), একাধিক এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে একক কোনো থানায় হামলায় এত বেশি পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনা এটিই প্রথম। ভবিষ্যৎ নথি ও ক্ষতিপূরণের ভিত্তি নিহত ৪৪ জন সদস্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), পিবিআই, হাইওয়ে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ছাড়াও সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খুলনা, গাজীপুর ও ঢাকা জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, আপাতত মামলাগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলেও এই তালিকা ও নথিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিহত সদস্যদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ, আইনি সুবিধা এবং রাষ্ট্রের নথিতে জুলাই-আগস্টের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণে এটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে কাজ করবে।

সম্পর্কিত নিউজ

অ্যাপ ইনস্টল করুন

এই নিউজ পোর্টালটি মোবাইল অ্যাপের মতো ব্যবহার করুন।