অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে মতুয়া দর্শন এক অনন্য প্রেরণা: সংস্কৃতি মন্ত্রী
অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে মতুয়া দর্শন এক অনন্য প্রেরণা: সংস্কৃতি মন্ত্রী
সংবাদ ২৪ ঘন্টা
২০ জুন ২০২৬
অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে মতুয়া সম্প্রদায়ের সমাজসংস্কার ও সাম্যের দর্শন এক অনন্য প্রেরণা বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি।
শনিবার (২০ জুন) মাগুরা জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত ‘মাগুরা জেলা মতুয়া সম্প্রদায়ের সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অপরাধীর কোনো ধর্ম হয় না। যে অপরাধ করেছে, সে অপরাধী—চাই সে যে ধর্মেরই হোক না কেন। সব ধর্মেরই মূল কথা হলো শান্তি, সাম্য ও মানবিক মূল্যবোধ। বর্তমান সরকার মুখে নয়, কাজে বিশ্বাসী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সরকার দেশে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী আরও বলেন, শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের হাত ধরে এই বাংলায় এক অভাবনীয় সামাজিক ও আধ্যা্তিক জাগরণ শুরু হয়েছিল। এটি কেবল ধর্মীয় আন্দোলন ছিল না, ছিল কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আর অধিকারবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের পবিত্র সংগ্রাম। ‘হাতে কাম আর মুখে নাম’—এই দর্শনের মধ্য দিয়ে তিনি সমাজকে স্বাবলম্বী হওয়ার শক্তি জুগিয়েছেন। মাগুরা জেলার মতুয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র, সংস্কৃতি ও উৎসবের পৃষ্ঠপোষকতার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী ঘোষণা করেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে খুব দ্রুতই এ জেলায় মতুয়া সংস্কৃতির বিকাশ ও সংরক্ষণের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসন আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারগুলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কেবল ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন—এ দেশে ‘সংখ্যালঘু’ বলে কোনো শব্দ থাকবে না, আমাদের সবার বড় পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।
তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ আমরা এ দেশের মাটিতে কোনো করুণা নয়, বরং মাথা উঁচু করে সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে বাঁচব। তিনি মতুয়া সম্প্রদায়ের বেকারত্ব দূরীকরণ, শিক্ষার আলো বিস্তার এবং বেদখল হওয়া জমি পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। মতুয়া সম্প্রদায়ের বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধ্যা্তিক মহাপুরুষ ও গুরু শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুরের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মাগুরা ১ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মো: মনোযার হোসেন এমপি, সংরক্ষিত নারী আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী, মাগুরা জেলা প্রশাসক জনাব মোতাকাব্বির আহমেদ, মাগুরা জেলা পরিষদের প্রশাসক জনাব আলী আহম্মদ এবং মাগুরা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোল্লা আজাদ হোসেন পিপিএম-সেবা।
অন্যান্যের মধ্যে মাগুরা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, মতুয়া সম্প্রদায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত হাজারো মতুয়া ভক্ত অনুসারী সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
শেয়ার করুন
বস্তনিষ্ঠ সংবাদের একমাত্র অনলাইন ঠিকানা